পদ্মাটাইমসে সংবাদ প্রকাশের পর গুরুদাসপুরের নুরজাহানের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২১; সময়: ৪:২৮ pm |

এসএম ইসাহক আলী রাজু, গুরুদাসপুর : গত ১১ নভেম্বর গুরুদাসপুরের নুরজাহানের আন্ধকারের কাটছে অভাবের সংসার শিরোনামসহ পদ্মাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ বিভিন্ন অনলাইন ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর নজরে আসে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তমাল হোসেনের।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন নুরজাহানের ঠিকানা খুজে বের করে উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার রাতেই গুরুদাসপুর পৌর শহরের পার-গুরুদাসপুর মহল্লার শাপলা-শালুক বিক্রেতা নুরজাহানের বাড়িতে গিয়ে নগদ অর্থ ও খাবার পৌছে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) তমাল হোসেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তমাল হোসেন জানান, নুরজাহানের বিষয়ে একটি সংবাদ অনলাইনে দেখার পর নুরজাহানের ঠিকানা খুজে বের করে নগদ অর্থ ও খাবার পৌঁছে দিয়েছি। তাছাড়া সকল মানবিক কাজের সাথে উপজেলা প্রশাসন যুক্ত থাকবে। নুরজাহান বেগম নামের ভদ্র মহিলার মানবেতর জীবন-যাপনের সংবাদ প্রশাসনের নজনে আসলে গুরুত্বের সাথে বিষয়টি দেখে নগদ অর্থ ও খাবার পৌছে দেয়া হয়েছে। আগামীতে তার পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, নুরজাহান বেগম ৬৫ বছর বয়সে স্বামী আয়জুদ্দীনকে ৩৫ বছর আগে হারিয়ে বিল থেকে শাপলা-শালুক তুলে স্কুলের গেটে বিক্রির সামান্য আয় দিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলছে বিধবা নুরজাহান অভাবের সংসার। বৃহস্পতিবার(১১ নভেম্বর) চাঁচকৈড় বাজারস্থ শিক্ষা সংঘ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় গেটে শাপলা ফুল আর শালুক বিক্রি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

নুরজাহান বেগম জানান, ইউএনও স্যারের দেওয়া নগদ অর্থ ও খাবার পেয়ে আমি খুব খুশি হয়েছি। আল্লাহ যেনো ইউএনও তমাল হোসেন স্যারকে ভাল রাখেন।

নুরজাহান বেগম আরো বলেন,আমার স্বামীকে হারিয়েছেন ৩৫ বছর আগে। দুই মেয়ে এক ছেলের সংসার তাঁর। ছেলে বিয়ে করে পৃথক সংসার পেতেছেন। মেয়েদের বিয়ে দিলেও তারা দুজন তালাক প্রাপ্ত হয়ে আমার সংসারেই বোঝা হয়ে রয়েছে। বয়সের ভারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের ক্ষমতা নেই তাঁর।

অন্যের কাছে হাত না পেতে বর্ষা মৌসুমে পাশের হাড়িভাঙ্গা বিল থেকে শাপলা-শালুক সংগ্রহ করে স্কুলের গেটে শিশুদের কাছে বিক্রি করে ২০-৩০ টাকা। অন্য সময়গুলেতে মাঠ থেকে কলমিসহ অন্যান্য শাক-সবজী সংগ্রহ করে তা স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করে চলে সংসার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে