রাজশাহীতে স্বাস্থ্যবিধি ছিলনা বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২১; সময়: ৩:৪৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ ছয় মাস পর প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিলেন বিএনপির রাজশাহীর শীর্ষ নেতারা। এর সাথে নগর ও জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তবে কেউ মানেনি স্বাস্থ্যবিধি। শীর্ষ নেতা থেকে দলের কর্মীদের কারো মুখে ছিলো না মাস্ক। হাতে গোনা কয়েকজন মাস্ক রাখলেও তা নামানা ছিল থুতনিতে। বিষয়টি নিয়ে সমালচানার মুখে পড়েছেন দলটি নেতারা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সমালোচনা করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তারা বলছেন, দায়িত্বশীল কোন দলের কাছে থেকে এই ধরনের কার্যক্রম করাটা খুব দুঃখ জনক ব্যাপার। শীর্ষ কোন নেতাই স্বাস্থ্যবিধি মানেনি! তাহলে সে দলের কর্মীরা কিভাবে জনগণকে সচেতন করবে। করোনার প্রকপে সারা বিশ্ব যখন তালমাটাল তখন বাংলাদেশেও করোনার ছোবল।

প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও প্রতিদিন করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যু হচ্ছে। এ সময় দলমত নির্বিশেষে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

কয়েকজন জনস্বাস্থ্যবিদ জানাচ্ছেন, করোনার প্রকপ বেশি থাকা অবস্থায় এর আগেও বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। সে সময়ও তারা বিন্দুমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মানেনি। যে দলের নেতাকর্মীরা নিজেরাই সচেতন নয় সে দলের পক্ষ থেকে মানুষ কি শিখবে? কিভাবে তারা মানুষকে সচেতন করবে?

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী জানান, দায়িত্বশীল কোন দলের কাছে থেকে এই ধরনের কার্যক্রম খুব দুঃখ জনক ব্যাপার। করোনার মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সকলকে সচেতন হতে হবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান বাদশা জানান, দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকে মহামারির আইন মানা উচিত। জনসাধারণকে সচেতন করা উচিত।

এদিকে, গত বুধবার দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মহানগর বিএনপির কর্মসূচিতে তাদের অংশ নিতে দেখা গেছে। ছয় মাস আগে নগর আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করে। এরপর থেকে তারা প্রকাশ্যে কোনো দলীয় অনুষ্ঠানে আসতেন না।

এই তিন নেতা হলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, এর আগে সবশেষ গত ২ মার্চ বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে অংশ নিয়ে তারা বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি ও সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়।

ওই মামলায় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকেও আসামি করা হয়। এই মামলার পর ওই চার নেতা আত্মগোপন করেন। গত ২৫ আগস্ট মিজানুর রহমান মিনু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও শফিকুল হক মিলন উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে সাতটায় নগরের মালোপাড়া এলাকায় নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি পায়রা ওড়ানো হয়। এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে বক্তব্য দেন মিজানুর রহমান।

  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে