‘জ্বরে আক্রান্তদের চোখে-মুখে আতঙ্ক’

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২০; সময়: ১১:৩১ অপরাহ্ণ |
Share This

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে আটজনের নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠিয়েছিল স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড হাসপাতাল)। তবে আটজনের কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি। এই তথ্য জানান, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটের সমন্বয়ক চিকিৎসক অসীম চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আটজনের করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে নমুনা পাঠানো হয়েছিল আইইডিসিআরে। কারও ক্ষেত্রে করোনাভাইরাস পজিটিভ আসেনি। তবে যাঁরা আমাদের হাসপাতালে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আমরা আতঙ্ক দেখেছি। বাসায় কারও সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত হলে ভয় না পেয়ে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন অসীম চক্রবর্তী।

তিনি বলেন, সারা বিশ্বে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভীতির মধ্যে আমাদের স্থির থাকতে হবে। আমাদের শান্ত থাকতে হবে। বাসায় কারও সর্দিকাশি হলে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ অনেক হাসপাতালের হটলাইন নম্বর চালু রয়েছে। যাঁরা বাসায় বসে সর্দিকাশিজ্বরের চিকিৎসা নিতে চান, তাঁরা হটলাইনে যোগাযোগ করে চিকিৎসাটা নিতে পারবেন। কেউ যদি চান হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে চান, সেটিও সম্ভব। সব সময়ের মতো আমাদের হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ পরিপূর্ণভাবে খোলা আছে। শুধু করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে যদি কেউ হাসপাতালে আসেন, কারও যদি গলাব্যথা থাকে, জ্বর থাকে, কারও যদি কাশি থাকে, তাঁদের জন্য বহির্বিভাগটা আলাদাভাবে স্থাপন করেছি। তাঁরা যাতে অন্য সাধারণ রোগীদের সংস্পর্শে আসতে না পারেন।

আসাদুজ্জামানসলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটের সমন্বয়ক অসীম চক্রবতী বলেন, আমরা সচেতনভাবে হাঁচি, সর্দি, কাশি, রোগাক্রান্তদের আলাদা রাখছি। এটা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে লাভ নেই যে হাসপাতালে গেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বড় বড় সরকারি হাসপাতালে সব রোগীর ভর্তি চলছে। আমাদের হাসপাতালে সব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাতির এই দুঃসময়ে কখনো আমরা প্রাইভেট সেবার প্রতি আকৃষ্ট হব না। একটি রোগীও ফিরে যাবে না। জ্বরসর্দি রোগ নিয়ে এলেও কাউকে ফেরত যেতে হবে না।

অসীম চক্রবর্তী বলেন, করোনা নিয়ে ভীতি দূর করার জন্য ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের হাসপাতালেও সেটা শিগগিরই চালু হবে। সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ শয্যার একটি আইসোলেশন ইউনিট চালু রয়েছে। আমাদের দেশের যে বিদেশি দূতাবাস আছে, সেই দূতাবাসের কেউ যদি আক্রান্ত হন, তাদের চিকিৎসার জন্য এই আইসোলেশন ইউনিট। এই আইসোলেশন ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আপনারা নির্ভয়ে হাসপাতালে আসেন। আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা চালু আছে। সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বহির্বিভাগে আলাদা কক্ষ বানিয়েছে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

আসাদুজ্জামানজ্বর-সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে অসীম চক্রবর্তী বলেন, এই সময়ে সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হলেই মানুষ কিšু‘ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সর্দিকাশির ফ্লুর মৌসুম সব সময় মোটামুটি চলে। সব সময় কিছু মানুষ সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অযথা আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। বেশির ভাগ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী কিন্তু বিদেশফেরত বা যাঁরা স্বাস্থ্যকর্মী, তাঁরাই কিন্তু বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। যাঁদের এই ধরনের সংস্পর্শ নেই, তাঁদের অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা যদি জ্বর আসে, তাহলে সাধারণ একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, সেগুলো আমরা বলে থাকি, তাপমাত্রা অনুযায়ী সেবন করা।

সাধারণ একটা হিস্টামিন ট্যাবলেট সেবন করা। এর মাধ্যমেও কিন্তু প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারপরও যদি কারও ভীতি থাকে, তাহলে সরাসরি হাসপাতালে চলে আসবেন। তাহলে আপনার মনের মধ্যে যে ভয় বা শঙ্কা তা কেটে যাবে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে যাঁরা আমাদের হাসপাতালে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর রেখে দিয়েছি। তাঁদের বারবার বলেছি, আপনার করোনাভাইরাস পজিটিভ না আসলে অযথা আপনি আতঙ্কিত হবেন না। যাঁরা আমাদের কাছে এসেছিলেন, তাঁরা আতঙ্কিত ছিলেন।

আসাদুজ্জামানবয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি আলাদা নজর রাখার পরামর্শ দিয়ে অসীম চক্রবর্তী বলেন, বাসায় যাঁরা বয়স্ক ব্যক্তি আছেন, যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, হাইপারটেনশন ও হৃদরোগে আক্রান্ত, তাঁদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। কারণ সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্কদের মৃত্যুর হার বেশি। সুতরাং আমাদের যাঁরা সিনিয়র সিটিজেন আছেন, বয়স্ক বাবা-মা, আছেন, তাঁদের প্রতি একটু বেশি যত্নবান হন, তাঁরা যেন এই সময়টা ঘরে থাকেন, বাইরে না বের হন। আমরা যেন সব সময় একটা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলি। আমরা যেন সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধুই। অপরিষ্কার হাতে আমরা যেন মুখে হাত না দিই।

উপরে