কাঙ্খিত মাস রমজান

প্রকাশিত: মে ৭, ২০১৯; সময়: ১:০১ am |

হোছাইন আহমাদ আযমী : পবিত্র মাহে রমজানের আগমনে মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। রাসূল স. এই মাস আগমনের দু-মাস পূর্ব থেকেই আল্লাহর কাছে রমজানের মাস প্রাপ্তির দোয়া করতেন। বলতেন “হে আল্লাহ আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসে বরকত দান কর এবং রমজান মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকার তাওফিক দান কর। তাইতো রমজান কাঙ্খিত মাস।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়ামকে ফরজ করা হয়েছে”। সিয়াম মানে রোযা। রোযা শব্দটি ফার্সি। কুরআন হাদীসের পরিভাষায় এটাকে সাওম বা সিয়াম বলে। সিয়াম শব্দের অর্থ বিরত থাকা। আল্লাহর হুকুম পালন করার জন্য পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ ত্যাগ করাকে শরীয়তের পরিভাষায় সিয়াম বলে। সুবহে সাদেক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোযার নিয়তে খাওয়া-দাওয়া, স্ত্রী সম্ভোগ ও যৌনাচার বর্জন করতে হবে।
রমযান মাসে ইবাদতের প্রতিদানের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব রয়েছে। হাদীস শরীফে আছে, যখন কোন বান্দা রমজান মাসে একটি নফল ইবাদত পালন করে, তার বিনিময়ে আল্লাহ পাক তাকে অন্য মাসের একটি ফরজ ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন এবং যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ ইবাদত সম্পন্ন করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন। কেউ যদি সারা জিবন ভরে নফল ইবাদত করে তবুও তা একটি ফরজ ইবাদতের সমতুল্য হতে পারবে না। কিন্তু রমজানের উসিলায় আল্লাহ তায়ালা এই সুযোগ দান করবেন।
রমজানে যত রকম ইবাদত আছে, রোযা রাখা, তারাবীহ পড়া, তাহাজ্জুদ আদায় করা, কুরআন তেলাওয়াত করা, দান সদকা করা, তাসবীহাত আদায় করা, যিকির আযকার করা ইত্যাদি যত রকম ইবাদত সবগুলি যত্নের সাথে আদায় করা উচিত।
কুরআন শরীফের একটি হরফ তেলাওয়াত করলে দশটি নেকি প্রদান করা হয়। নামাজে তেলাওয়াত করলে একশত নেকি প্রদান করা হয়, তা যদি রমাজান মাসে হয় তাহলে সত্তুর গুণ তথা হরফ প্রতি সাত হাজার নেকি প্রদান করা হবে। তাহলে সেই ব্যক্তি কতইনা ভাগ্যবান যিনি রমজান মাসে দিনে রোযা রেখে রাতে বিশ রাকাত তারাবীতে সম্পূর্ন কুরআন শরীফ খতম করবে।
তাই আসুন আমরা সবাই আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশায়, পবিত্র মাহে রমযানে বেশি বেশি নেক আমল করি। নেক আমলে সমৃদ্ধ একটি মাস সংযোজন করার মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যৎ জীবনকে আমলময় করার অভ্যাস গড়ে তুলি। যা মৃত্যু পরবর্তিকালীন আখেরাতের জন্য পাথেয় হবে।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোযা-১
[উপবাসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য:] উপবাস করা এক প্রকার চিকিৎসা। রোগীদের উপবাস যাপনের মাধ্যমে চিকিৎসাকরণ। হাদীস শাস্ত্রবিদগণ একথা বারবার বর্ণনা করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম ও সয়ং নিজে উপবাস করতেন। ফলে রোগ-ব্যাধি খুব কমই তাদেরকে আক্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছিলো। বর্তমান যুগে উদরপূর্তি করে খাওয়াটা হচ্ছে সকল রোগের কারণ। অথচ উপবাস যাপনের উপকারিতা অত্যন্ত সুস্পষ্ট।
প্রখ্যাত দার্শনিক ইমাম গাজ্জালি রহ. বলেন, ধীরে ধীরে কম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। যে ব্যক্তি অধিক খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, সে যদি হঠাৎ কওে খাবার কমিয়ে দেয়, তাহলে তার সহ্য হবে না, দুর্বলতা সৃষ্টি হবে এবং কষ্ট বৃদ্ধি পাবে।
যেরুজালেমের প্রসিদ্ধ বিশেষজ্ঞ ডা. ইউসুফ খান ছিলেন একজন ইহুদি ধর্ম প্রচারক ও ডাক্তার। তিনি উপবাস যাপন দ্বারা চিকিৎসা করতেন। ডায়েবেটিস (Diabattic) হৃদরোগ (Heart diseases) ইত্যাদির সম্পর্ক হলো খাবারে অসংযোমিতার উপর। অথচ রাসূল স., সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত এবং আউলিয়াগণের জিবনী উপবাস যাপনের ঘটনায় ভরপুর। এতদসত্তেও তাদের জিহাদ, জ্ঞানচর্চা ও দ্বীন প্রচারের কার্য্যক্রম প্রত্যক্ষ করলে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না।
আজ আমরা যে বিষয়ে লজ্জা করছি, আমাদের পূর্ব-পুরুষগণ তা কাজে পরিণত করে ইহকাল ও পরকালে ইজ্জত ও সম্মানের স্বর্ণশিখরে আধিষ্টিত হয়েছিলেন। বড়ই আফসোসের বিষয় যে, ঐ সমস্ত বিষয়গুলিকেই গ্রহন করে অমুসলিমরা উপকৃত হতে চলেছে। অথচ মুসলমানরা সে উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মোদ্দাকথা অমুসলিমরাই আমাদের দ্বীন ইসলামের দ্বারা উপকৃত হচ্ছে আর আমরা কুরআনের ধারক বাহক মুসলিম হওয়া সত্তেও এর উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে