‘রাজশাহী অঞ্চলের সর্বোচ্চ গতির সেবা প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাংলালিংক’

প্রকাশিত: অক্টোবর ১১, ২০২১; সময়: ১১:১২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী অঞ্চলের বাংলালিক গ্রাহকদের সর্বোচ্চ গতির ফোরজি সেবা প্রদানে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন বাংলালিংক এর ক্লাস্টার ডিরেক্ট মোঃ ফরহাদ হোসেন। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলালিংক সব সময়ই রাজশাহীর গ্রাহকদের মানসম্মত ডিজিটাল সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে।

রাজশাহী বিভাগে বাংলালিংক-এর গ্রাহক সেবার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজশাহীতেও গ্রাহকরা ওকলা স্বীকৃত বাংলালিংক-এর সর্বোচ্চ গতির ফোরজি সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। এই বিভাগে আমাদের বহু সংখ্যক গ্রাহক রয়েছেন। তাই বিশেষ গুরুত্বের সাথে এই অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণসহ সেবার সার্বিক মান বৃদ্ধি করার উপর নজর দিয়েছে বাংলালিংক।

গ্রাহকদের সুবিধার জন্য রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলাতেই আমাদের কাস্টমার কেয়ার রয়েছে। এর মাঝে ‘মোনো ব্র্যান্ড স্টোরস’-এর মাধ্যমে আমাদের সরাসরি কাস্টমার কেয়ার রয়েছে ৭টি জেলায়। তবে এখন অনেক গ্রাহক আমাদের “মাই বাংলালিংক” অ্যাপ ও ফেসবুকের চ্যাটবটের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

বিটিআরসি-এর নিলাম থেকে বাংলালিংক ৯.৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ কিনেছে। এই তরঙ্গ গ্রাহকসেবায় কেমন পরিবর্তন এনেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ক্লাস্টার ডিরেক্ট ফরহাদ হোসেন বলেন, সর্বশেষ নিলাম থেকে আমরা মোট ৯.৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ কিনেছি। এর ফলে আমাদের মোট তরঙ্গ ৪০ মেগাহার্জে উন্নীত হয়েছে এবং গ্রাহক প্রতি তরঙ্গের হিসেবে বেসরকারি অপারেটরদের মধ্যে আমরা শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পেরেছি। তরঙ্গ কেনার জন্য বাংলালিংক-কে প্রায় ১০০০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। নতুন তরঙ্গের ফলে আমাদের ভয়েস কলিং ও ইন্টারনেট সেবার মান আরও উন্নত হয়েছে।

করোনা মহামারির সময় ডিজিটাল সেবার উপর মানুষের নির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে বাংলালিংকের এই কর্মকর্তা বলেন, করোনা পরিস্থিতি মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। নিরাপদে ঘরে থাকার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবাকে তাদের বেছে নিতে হয়েছে। বাংলালিংক বিষয়টি বিবেচনা করে করোনার সময় গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে ডেটা প্যাক এবং বিনামূল্যে শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্ট ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ দিয়েছে।

আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলালিংক গ্রাহকদের ইন্টারনেটের ব্যবহার আগের বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৪৩.৭ শতাংশ বেড়েছে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের ইন্টারনেট ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আমরা মনে করি।

আমাদের বিনোদনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম “টফি”-তেও বিনামূল্যে বিভিন্ন কনটেন্ট ও চ্যানেল দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ‘‘টফি’’ এর নিয়মিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫০ লক্ষে পৌঁছেছে। এছাড়া আমাদের সেলফ-কেয়ার অ্যাপ ‘‘মাই বাংলালিংক’’ এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা এই বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৯৩ শতাংশ বেড়েছে।

সম্প্রতি বাংলালিংক দেশের সর্বোচ্চ গতির নেটওয়ার্ক হিসেবে টানা তৃতীয় বারের মতো ওকলা-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। এই অর্জনের পিছনে কোন বিষয়গুলি ভূমিকা রেখেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, গ্রাহক প্রতি তরঙ্গের দিক থেকে আমাদের শীর্ষ অবস্থান ও দেশব্যাপী ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এই অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

ওকলা ছাড়াও আরেকটি ইন্টারনেটের মান বিশ্লেষণকারী সংস্থা বাংলালিংক-কে ভিডিও, গেম, ভয়েস কলিং অ্যাপ, আপলোড স্পিড ও ডাউনলোড স্পিডের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে দেশের সেরা নেটওয়ার্ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বর্তমানে আমাদের ফোরজি গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি এবং দেশব্যাপী আমাদের প্রায় ৯৫ শতাংশ টাওয়ারে ফোরজি চালু করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে আপনারা কোন বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দিতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রাহকদের সাশ্রয়ী মূল্যে সেরা ডিজিটাল সেবা দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাব। আমরা বিশ্বাস করি, এর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রায় বিশেষভাবে অবদান রাখা সম্ভব। বাংলালিংক-এর ডিজিটাল সেবার পরিসর ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অভিনব ডিজিটাল সেবা নিয়ে আসতে চাই আমরা।

২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সব বিভাগে ভালো ফলাফল নিয়ে বাংলালিংক ক্রমোন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। আগের বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় এবার আমাদের মোট আয় ৬.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত প্রান্তিক সাপেক্ষে ডেটা থেকে আয় ১৫.১% ও সেবা থেকে আয় ৭% বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে । মোট গ্রাহক ও ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাও যথাক্রমে ৭% ও ৮.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।

টেলিকম সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলালিংক সম্প্রতি কি কি কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়েছে জানতে চাইলে ক্লাস্টার ডিরেক্ট ফরহাদ হোসেন বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে আমরা সব সময়ই বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করি। যেমন, দেশে করোনা পরিস্থিতি শুরু হবার পর করোনা হটলাইন নম্বরে বাংলালিংক থেকে বিনামূল্যে কলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা বিষয়ক কনটেন্টের ব্যবস্থাও করেছি আমরা।

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে গুগল কর্ম-এর সাথেও বাংলালিংক কাজ করছে। এছাড়া মোট ৩০ হাজার অসহায় পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিতে আমরা সেনাকল্যাণ সংস্থা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে