কেউই ধরে রাখতে পারল না রুবেলকে

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২২; সময়: ৩:১৫ pm |
খবর > খেলা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : তার চোখের গভীরে ছিল মায়া। সরল দৃষ্টিতে থাকত আবেগের ছড়াছড়ি। চাপা স্বভাবের অন্তরালে লুকায়িত ছিল সাদা মন। সামান্য ভুল হলেও ছলছল করত চোখের মণিজোড়া।

কোনোদিন হিসাব করেননি জীবনে কী পেলেন না। খুশি থাকতেন অল্পতেই। ভালো মানুষেরা যেমন হন, তেমনই তো ছিলেন স্বল্পভাষী মোশাররফ হোসেন রুবেল। সেই রুবেলই একদিন জানলেন তার সরল মস্তিস্কে বড় হচ্ছে টিউমার।

চিকিৎসা নিতে গিয়ে নিশ্চিত হন, টিউমারগুলো প্রাণসংহারি ক্যান্সার। কেমো দিলেন, অপারেশন হলো, স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও এলেন। প্রিয় ক্রিকেটারকে কাছে পেয়ে খুশি হলেন সবাই। কিন্তু বেশিদিন ভালো থাকা হলো না তার। আবার ফিরে এলো টিউমার।

হাসপাতালের কেবিন হয়ে ওঠে ঘরবাড়ি। চিকিৎসা নিতে গিয়ে একমাত্র সম্বল ঢাকার ফ্ল্যাটটা বিক্রি করে দিতে হয় আগেই। বিসিবি, কোয়াব, বিকেএসপি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, ক্রিকেট মাঠের সতীর্থ, সংগঠক সবাইকে পাশে পেলেন।

প্রিয় রুবেলকে হোম অব ক্রিকেটে ফিরে পেতে আর্থিক অনুদান, দোয়া এবং ভালোবাসা উজাড় করে দিলেন তারা। রুবেল হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফিরলেন; তবে হেঁটে নয়, অন্যের কাঁধে চেপে। ক্রিকেট পোশাকে নয়, সাদা কাপড়ে মোড়া নিথর দেহে, চির বিদায় নিতে।

কিছুদিন ধরেই ফেসবুকে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা রুবেলের ছবি পোস্ট করে সুস্থতা কামনা করে দোয়ার আর্জি জানাচ্ছিলেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ক্রিকেটার রুবেলকে হাসপাতালের বিছানায় রুগ্‌ণ দেহে বড্ড বেমানান দেখাচ্ছিল।

প্রাণে আশার প্রদীপ জ্বেলে অসুস্থ স্বামীর সেবায় নিবেদন করেছিলেন ফারহানা রহমান চৈতি। ছোট্ট ছেলেকে বাসায় রেখে হাসপাতালে স্বামীর সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন তিনি। রুবেলের ঘুম কেড়ে নিয়েছিল কেমোর প্রতিক্রিয়া। সেসব ভুলিয়ে রাখতে স্বামীকে বই পড়ে শোনাতেন চৈতি।

কেউ একজন সে ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড দেন। যে ছবিতে চিত্রায়িত আছে স্বামীর প্রতি একজন স্ত্রীর ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগ।

এত কিছু করেও যে হেরে গেলেন চৈতি। নিয়তির কাছে হেরে গেল স্বজন, প্রিয়জনদের ভালোবাসা। রুবেল-চৈতির একমাত্র ছেলে রুশদান চিরতরে বঞ্চিত হলো বাবার ভালোবাসা থেকে। প্রশ্ন জাগে, মাত্র চল্লিশ বছর বয়সেই কেন চলে যেতে হবে রুবেলের মতো একজন ভালো মানুষকে। একজন লড়াকু ক্রিকেটারকে।

কিছুদিন আগেই সাকিবের মোনাক মার্ট থেকে রুবেলের চিকিৎসার জন্য অনুদানের চেক নিতে শাশুড়িকে নিয়ে গিয়েছিলেন চৈতি। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল বুকে কষ্টের পাথর চেপে পণ করেছিলেন, আর চোখের জল ফেলবেন না।

লড়বেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। কিন্তু পারেননি। মিডিয়ায় কথা বলতে গিয়ে আঁচলে চোখ মোছেন। পাশেই রুবেলের মা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সেদিন।

যাকে বাঁচানোর এত চেষ্টা, এত ত্যাগ স্বীকার, সেই রুবেল প্রিয় মানুষগুলোকে কান্নার অতল সাগরে ভাসিয়ে বিদায় নিলেন। পাড়ি জমালেন সেই দেশে, যেখান থেকে কেউ কোনোদিন ফেরেনি, আর কোনোদিন ফিরবেও না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে