মুশফিককে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট মাশরাফীর

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২১; সময়: ১১:৩৩ am |
খবর > খেলা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা নিজে ক্রিকেট ছাড়লেও ক্রিকেট তাকে ছাড়তে পারেনি। যখনই কোনো অনিয়ম বা দৃষ্টিকটু বিষয় দেখেন সরাসরি কথা বলেন।

আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজে দলের হয়ে উইকেটের পেছনে মুশফিক না সোহানকে দাঁড়াবেন- এ নিয়ে যখন জোর চর্চা তখন টাইগার কোচ সব গুঞ্জনে পানি ঢেলে বলেন, সোহান এবং মুশফিক দুজনই দারুণ। কাউকেই উপেক্ষা করা সম্ভব না। আমরা দুই ম্যচে সোহানকে কিপিং করাবো, আর দুই ম্যাচ মুশফিক করবে। এ পারফরম্যান্স দেখে পঞ্চম ম্যাচের কিপার ঠিক করব।

এ বিষয়েই সোমবার (৩০ আগস্ট) সতীর্থ মুশফিকুর রহিমকে সমর্থন করে নিজের ফেসবুক পেজে আবেগঘন এক পোস্ট দিয়েছেন মাশরাফী।

তিনি বলেন, দুজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটারকে সেটা আবার নিজ দলের খেলোয়ারকে, আপনি যুদ্ধ করে বাঁচতে বলবেন সেটা ড্রেসিং রুম পর্যন্ত থাকাই ভালো। অবশ্যই দলের স্বার্থ সবার আগে, দলের আগে কোনো খেলোয়াড় হতে পারে না। কিন্তু যে ক্রিকেটাররা দেশের হয়ে খেলতে নামে তারা কোনো সহানুভূতি নিয়ে নয় বরং তার শরীরের সর্বোচ্চটুকু নিংড়ে দলে জায়গা পায়।

সাবেক টিম টাইগার্স কাপ্তান বলেন, দলের জন্য মুশফিকের নিবেদন কোন পর্যায়ের সে গল্প আমরা সবাই জানি। বাংলাদেশের হাজার হাজার উঠতি ক্রিকেটারদের আইডল সে। সোহান সম্ভবতো দলের সেরা কিপার সঙ্গে লিটনও, বিরতি শেষে যোগ হলো মুশফিক। এক দলে এত কিপার এ তো আনন্দের, তা না হয়ে হলো ঝামেলার। এতটুকু সামাল দিতে না পারলে তো সমস্যা যা এক পর্যায়ে দলের ভেতর অদৃশ্য এক বাজে প্রতিযোগিতা চলে আসবে।

টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত তারা তাদের মতো করে নিবে এটাইতো স্বাভাবিক এবং অবশ্যই ভালোর জন্য নেবে। সফল হলে তালি না হলে গালি, যা সারা বিশ্বেই হচ্ছে। কে খেলবে, কোন পজিশনে খেলবে, কার রোল কি এগুলো তো দলের একান্ত পরিকল্পনা যা ড্রেসিং রুমে শুরু আবার ড্রেসিং রুমেই শেষ হয়। বাহিরে বলতে গেলে তো খেলোয়াড়ের পর চাপ সৃষ্টি হয় যা তার স্বাভাবিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

মাশরাফী বলেন, আমি শুধু ভাবছি এতে কি সোহানের জন্যও খুব ভালো হলো যে ছেলাটাকে দুই ম্যাচে সব দেখিয়ে টিকে থাকতে হবে, তাহলে বিগত দুই সিরিজ সে যা করলো তার কি হবে। আর লিটন কী বলবে, এখন ও তো কিপিং ভুলেই যাবে। আর মুশফিককে পারফর্ম করতে হবে ১৬ বছর খেলার পর এটা বলে দেওয়ার কিছু নেই, সে খুব ভালো করেই জানে বরং বাহিরে এভাবে বললে তার নিবেদনকে অসম্মানিত করা হয় যা তার প্রাপ্য না।

সে সেরা ব্যাটসম্যান বলেই ১৬ বছর দেশকে সার্ভিস দিয়েছে। আবার দলের প্রয়োজনে তাকেই কিপিং করতে হতে পারে। তখন যদি সে না বলে সেটা কী ভালো শোনাবে। দলে প্রতিযোগিতা সব সময় দলের সেরাটা বের করে আনে তবে সেটা সুস্থ হতে হবে। কাউকে আঘাত করে নয়।

তিনি বলেন, ১৬ টা বছর যে মানুষটা বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দিচ্ছে তাকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে আপনি যত বড় ক্ষমতাধর মানুষই হোন না কেন একটু জায়গা বুঝে বলা উচিত। মুশফিক কিভাবে জাতীয় দলে এসেছে তা সবাই জানে। তার ব্যাটিং দক্ষতা নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। একটা সময় পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেটে শুধু কিপার হিসাবেই খেলা যেত তার উদাহরণ অনেক আছে। কিন্তু গিলক্রিস্ট আসার পর সব হিসাব পাল্টে যায়, যার সূত্র ধরে ভারত টিমে দেখেছি রাহুল দ্রাবিড়কেও কিপিং করতে। যাতে দল সুবিধা মতো বাড়তি একজন ব্যাটসম্যান বা বোলার খেলাতে পারে। অবশ্যই সেটা সীমিত ওভারের ক্রিকেটে।

সবশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের একজন আউটসাইডার হিসাবেই কথাগুলো লিখলাম কেউ ব্যক্তিগতভাবে না নিলেই খুশি হবো। গুড লাক বাংলাদেশ, ইনশাল্লাহ জয় আমাদেরই হবে।

  • 57
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে