জিরো’ থেকে ‘হিরো’ স্পেনের গোলকিপার সিমোন

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২১; সময়: ২:৩৮ pm |
খবর > খেলা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : এবারের ইউরোর অন্যতম সেরা এক ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন। কাল কোপেনহেগেনে ৮ গোলের রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। যে ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। অথচ ম্যাচের প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে গিয়েছিল স্পেনই। আর হাস্যকর এক ভুলে গোল খাওয়ায় সে দায় পুরোপুরি বর্তায় গোলকিপার উনাই সিমনের ওপরই। তবে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এ গোলকিপার সে ভুল শুধরে ম্যাচটা শেষ করেছেন দুর্দান্ত খেলেই। শুরুতে খলনায়ক সিমন শেষ পর্যন্ত সবার চোখে নায়কই।

সিমন কাল যে গোলটি খেয়েছেন, সেটি হতবাক করে দেওয়ার মতোই। ম্যাচের ২০ মিনিটে প্রায় মাঝমাঠ থেকে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার পেদ্রি ব্যাক পাস দিয়েছিলেন সিমনকে। কিন্তু তিনি সেটি পা দিয়ে ধরতে গিয়েই মিস করে বসেন। বল গড়িয়ে চলে যায় নিজেদের জালেই। কোপেনহেগেনের মাঠ তো বটেই, খেলাটি যারা দেখছিলেন, তারা কেউই হয়তো তাঁর জীবনে এমন অদ্ভুত গোল দেখেননি। ৪৯ গজ দূর থেকে বাড়ানো পাস মিস করে গোল খাওয়ার নজির ঘটনা ফুটবল দুনিয়াতেই যে প্রায় নেই বললেই চলে।

এমন একটি গোল খাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা যেকোনো গোলকিপারের। কিন্তু ২৪ বছর বয়সী সিমন ছিলেন ব্যতিক্রম। ব্যর্থতাকে ‘শক্তি’ বানিয়ে তিনি খেলেছেন। অসাধারণই খেলেছেন। স্পেনকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে রক্ষা করেছেন কয়েকবার। দাভিদ দা হিয়ার মতো অভিজ্ঞ গোলকিপারকে বসিয়ে স্পেন কোচ লুইস এনরিকে সিমনের ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, সেটির প্রতিদানটা শেষ পর্যন্ত ভালোমতোই দিয়েছেন তিনি। প্রশংসিত তিনি বজ্রকঠিন মানসিকতা দেখিয়ে ফিরে আসায়।

অধিনায়ক সের্হিও বুসকেতস তো সিমনেতে মুগ্ধ, ‘আমাদের পুরো আত্মবিশ্বাস ছিল ওর ওপর। উনাইয়ের ফিরে আসার মানসিকতা রয়েছে এবং একই সঙ্গে সে সব সময়ই ভালো কিছু করতে চায়। আমি মনে করি সে গোল খাওয়ার পর দারুণভাবে কয়েকটা গোল বাঁচিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়াটা দেখিয়েছে। ওই গোল হওয়ার পর সে আরও বেশি সতর্ক হয়ে পড়ে।’ ফুটবলে এমন ঘটনাকে স্বাভাবিক চোখেই দেখছেন বুসকেতস।

তবে এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সিমন আরও লড়াকু মানসিকতায় পুরো ম্যাচ যেভাবে খেলেছেন, সেটারই প্রশংসা ঝরল বুসকেতসের কণ্ঠে, ‘এটাই ফুটবল এবং এখানে এমনটা ঘটতেই পারে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে শুধরে নেওয়া, আরও দৃঢ় মানসিকতা দেখানো। এবং আমি মনে করি যেটা উনাই ও পুরো দলই করে দেখিয়েছে।’ মানুষ মাত্রই ভুল করে। ভুলটা খেলার অংশ বলেই মেনে নিয়েছেন স্পেনের চার গোলদাতার একজন মিকেল ওইয়ারসাবাল, ‘ভুল করাটা ফুটবলের একটা অংশ এবং যখন একজন গোলকিপার ভুল করে সেটাই বেশি নজরে পড়ে সবার।’

ম্যাচের পর কোচ এনরিকে এই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার বার্তা দিলেন ফুটবলারদের, ‘সিমন আজ সবাইকে একটা ব্যাপার শিখিয়েছে, সেটা হলো ভুল করা বড় কোনো ব্যাপার না। কিন্তু নিজের ভুল শোধরানোর জন্য তুমি নিজে কেমন মনোভাব দেখাচ্ছ সেটাই হলো আসল। এটা ওর জাতীয় দলের সতীর্থ এবং যারা ফুটবলকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চায় তাদের জন্য দারুণ একটা উদাহরণ।’

  • 305
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে