বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয় ফুটবলার মদিনার

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২১; সময়: ১১:৩২ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : উইমেন্স রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পের খেলোয়াড় আর অভিভাবকদের মিলনমেলায় হাজির মজিবর রহমান। চোখে অশ্রু নিয়ে আগামীর নারী ফুটবলারদের মধ্যে খুঁজে ফিরেছেন তার মদিনাকে। কিন্তু মদিনার দেখা, সে তো সম্ভব নয়। সম্ভব নয় মদিনার পক্ষে সে মিলন মেলায় বাবাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ ভাগাভাগি করা। কারণ ৪১ দিন আগেই যে অনন্তকালের যাত্রায় পাড়ি জমিয়েছে ময়মনসিংহের কিশোরী ফুটবলার মদিনা খাতুন। ভালবাসার ফুটবল খেলতে গিয়েই মাথায় চোট পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয় তার।

সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ৩টা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে ফেডারেশন সভাপতি কাজী মো. সালাহ্উদ্দীন, ফিফা এফসি কাউন্সিলের সদস্য ও বাফুফে’র উইমেন কমিটির চেয়ারম্যান মিস মাহফুজা আক্তার কিরন, বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল থমাস স্মলি এবং বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন উইমেন্স রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পের খেলোয়াড় ও তাদের অভিভাবকগণ। আর অভিভাবকদের সেই মিলন মেলায় ছুটে আসেন অনন্তকালের যাত্রায় পাড়ি জমানো কিশোরী ফুটবলার মদিনার বাবা মজিবর মিয়া।

স্বপ্ন ছিলো মেয়ে বড় হয়ে ফুটবলার হবে। অভাবের সংসারে স্বচ্ছলতার আলো ফুটবে তার মাধ্যমেই। কিন্তু মজিবর মিয়ার সেই স্বপ্ন ভাঙে বছর পাঁচেকের মধ্যেই। ফুটবল খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হন তার মেয়ে মদিনা। এরপর সঠিক চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয় তার। সন্তানের মৃত্যুর পর বাফুফের দারস্থ হন তিনি। তবে ফেডারেশন বলছে মদিনা তালিকাভুক্ত ফুটবলার না হওয়ায় কিছুই করার নেই।

কিছু স্বপ্ন কোন দিনই পূরণ হয় না। কিছু আশা দুরাশার আক্ষেপ হয়ে পোড়ায় আজীবন। মজিবর মিয়া হয়তো নিজেও জানেন তার স্বপ্নগুলো দিক বদল করেছে অদৃষ্টের পানে। তাবুও আশার সলতে জ্বালানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা।

যখন মেয়েকে দেখতাম খেলাধুলায় ভাল খুবই ভাল লাগতো আমার কাছে। আমার যে ছেলেটা আছে ও এদিকে (খেলাধুলা) তেমন না। আল্লাহর রহমতে মেয়েটা পড়ালেখায়ও ভাল ছিল। মেয়েকে নিয়ে আমার দেখা সে স্বপ্ন মদিনার মৃত্যুর মধ্য দিয়েই শেষ হয়ে গেল, কান্নাজড়িত কণ্ঠে মজিবর মিয়া সময় সংবাদকে বলছিলেন সেই স্বপ্নভাঙ্গা গল্প।

বছর পাঁচেক আগে বাবার কাছে ফুটবলার হওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন মদিনা। ধোবাউড়ার কলসিন্দুরে তখন রীতিমত চলেছে ফুটবল বিপ্লব। অজো পাড়ার মেয়েরা উড়োজাহাজে ঘুরছে দেশ বিদেশ। সব শুনে মজিবর মিয়াও স্বপ্ন বনলেন। কিন্তু বছর পাঁচেকেই সব শেষ।

বঙ্গমাতা দিয়ে শুরু হয়েছিলো মদিনার ফুটবল যাত্রা। প্রতিভার প্রমাণ রেখে দ্রুতই স্থানীয় সংগঠকদের দৃষ্টিতে আসেন তিনি। দুই বছর আগে খেলতে গিয়েছিলেন টাঙ্গাইলে। সেখানেই হেড করে মাথায় আঘাত পান। দরিদ্র বাবা চেষ্টা করেছেন সাধ্যমতো। কিন্তু আটকাতে পারেনি মেয়ের অনন্ত যাত্রা।

অভিভাবক সমাবেশে সবাই আসবে এমন খবর পেয়ে এক প্রকার গো ধরেই ঢাকায় আসেন মজিবর মিয়া। কিন্তু তিনি জানতেন না, তার মেয়ের খবর এখানে কেউ রাখেনি। আর রাখবেই বা কী করে? বাফুফেও যে বাধা সীমাবদ্ধতার শৃঙ্খলে!

  • 33
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে