রাজশাহীতে আলুক্ষেতের যত্নে ব্যস্ত কৃষক, ভাল ফলনের আশা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২১; সময়: ৮:২৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর আলুচাষিরা ক্ষেতের পরিচর্চা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ অঞ্চলে অর্থকরি ফসলের অন্যতম হচ্ছে আলুর আবাদ। বর্তমানে আলু আবাদ নিয়ে রঙ্গীণ স্বপ্ন বুনছে এ এলাকার চাষিরা। এবারে এ এলাকায় চাষিদের স্বপ্নে ঘি-ঢেলেছে দেশের আলু উৎপাদনের বৃহৎ অঞ্চল মুন্সিগঞ্জে জাওয়াদ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাৎ।

টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে মুন্সিগঞ্জে আলুক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে একদিকে দেশব্যাপি আলু উৎপাদনে ঘাটতি এবং অন্যদিকে হিসাব-নিকাশ করে বাড়তি দামের প্রত্যাশা করছেন রাজশাহীর আলুচাষিরা।

চাহিদার তুলনায় সরকারিভাবে বরাদ্দ কম থাকায় সারের ঘাটতি দেখা দিলেও বাড়তি দামে রাসায়নিক সার কিনে লক্ষ্যমাত্রার বেশী আলুচাষ হয়েছে এ জেলায়। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে এবারে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩৫৩ হেক্টর (১০ হাজার ৬৬ বিঘা) বেশী জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৩৭ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে।

আলু রাজশাহীর অর্থকরী ফসল। ধানের পরেই ব্যাপকভাবে আলুর আবাদ হয়ে থাকে। মৌসুমের প্রায় শেষে মজুতকৃত আলুর দাম ভাল পেয়েছে। এতে চাষিরাও খুশি। এরআগে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে করোনা সংকট ও অতিবৃষ্টিকে পুঁজি করে আলু চাষি কাম ব্যবসায়ীরা অনেকটা অনাকাঙ্খিতভাবে বেশী দামে আলু বিক্রি হয়েছে।

সরকারের হস্তক্ষেপেও দাম অনিয়ন্ত্রিত ছিলো। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে মজুতকৃত আলুতে প্রথম থেকে লোকসানের আশংকা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মজুতদারদের লাভ হয়েছে। মাঝখানে দাম আরো পড়ে যাওয়ার আশংকায় প্রান্তিক চাষিরা লোকসান করেই আলু বিক্রিতে বাধ্য হয়েছেন।

আলু চাষে এবছর লাভ হলে আগামী বছর লোকসান। লাভ লোকসানের দুরাচলের মধ্যে দিয়েই আশায় বুকবেধে আলুর আবাদ করে চলেছেন চাষিরা। তবে বেশীরভাগ লাভ জমা হয়েছে আলু চাষি কাম ব্যবসায়ী অর্থাৎ হিমাগারে রক্ষিত আলু ব্যবসায়ীর ঝুলিতে। এরপরেও প্রান্তিক কৃষকরাও ব্যাপক জমিতে আলু চাষ করে থাকেন।

চাষিদের ভাষ্য, আলুতে যেমন ব্যাপক লাভ, তেমনি লোকসানের ধ্বসও কম নয়। আলুর আবাদে কারো কারো ভাগ্যে বৃহস্পতি দেখা দিলেও অনেকের ভাগ্যে জুটেছে মৃত্যু। বর্তমানে আলুর আবাদের উৎপাদন খরচ বেশী। তবে এই আবাদ প্রান্তিক চাষিদের নেই বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। এখন চাষি কাম ব্যবসায়ীরাই আলুর আবাদ করছেন। লাভ লোকসান মাথায় নিয়ে প্রতিবছরই লাভের আশায় চাষে নামছেন তারা।

জেলার মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের নুড়িয়াক্ষেত্র এলাকার বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আলু চাষ করেন মোবারক হোসেন। প্রায় ১৬-১৭ বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে আলুচাষ করছেন তিনি। এবারো একশো’ বিঘা জমিতে আলুচাষ করেছেন তিনি।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি বিঘা আলুচাষ করতে সব খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ হবে। আবাদ ভাল হলে বর্তমান দামেও লাভ হবে। এবারে আলুতে লাভ হবে বলে তিনি মনে করেন।

কারণ হিসেবে তিনি জানান, আলু আবাদের বৃহৎ অঞ্চল হচ্ছে মুন্সিগঞ্জ। এবারে মুন্সিগঞ্জে জাওয়াদ ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে এবং টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে আলুক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পরে তারা আমাদের এলাকা থেকে আলুবীজ নিয়ে আবারো আবাদ করেছেন। তবে একদিকে সম্পূর্ণ জমিতে আলু রোপন সম্ভব হয়নি অন্যদিকে দেরিতে আলু রোপনে ফলন আশানুরুপ নাও হতে পারে। এতে এ বছর রাজশাহীর আলুর ভালদামসহ ব্যাপক চাহিদা থাকবে বলে তিনি জানান।

এখন জেলার মাঠে মাঠে আলুক্ষেতের যেন সবুজের সমাহার। গ্রামীণ মাঠের যে দিকে চোখ যায় শুধুই আলু ক্ষেত। আলু ক্ষেতের যত্ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। সরোজমিন দেখা যায়, কোন চাষি ক্ষেতে সেচ দিচ্ছেন। আবার কোন ক্ষেতে টপড্রেসিং করছেন (আলুর দাঁড়াতে মাটি তুলে দেওয়া)। নয়তো কেহ কেহ আলু ক্ষেতে রাসায়নিক সার ছিটাচ্ছেন। নতুবা মোড়ক রক্ষায় কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। তবে সবমিলিয়ে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কে জে এম আব্দুল আওয়াল বলেন, এই অঞ্চলের মাটি আলু চাষের উপযোগী। এবারে চাষিরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আবাদ করেছেন। অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করায় উৎপাদন ভাল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত চাষিদের সাথে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ যোগাযোগ রাখছেন। আমরা কষি নিয়ে কাজ করি। কৃষকের সার্থই সরকারের সার্থ। কৃষকের সেবা ও দেখভালের জন্যই আমরা নিয়োজিত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে