রাজশাহীতে খরায় ঝরছে আম

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২১; সময়: ৩:১০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রুক্ষ প্রকৃতি। দীর্ঘ দিন দেখা নেই বৃষ্টির। তীব্র তাপদাহে পুড়ছে রাজশাহী। ২০ দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি। এ সময়ে আম ও লিচুর গুটি বড় হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজশাহীতে আম ঝরে পড়ছে। জেলার ৯ উপজেলাতেই একই অবস্থা। এর পাশাপাশি গত ৪ এপ্রিল ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে আম ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন আমবাগান মালিক ও চাষিরা। লোকসান ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন তারা। গাছের পরিচর্যা করছেন, স্প্রে করছেন ছত্রাকনাশক। গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্ততর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। চলতি বছর ৩৭৩ হেক্টর বেড়ে ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদফতরের উচ্চ পর্যবেক্ষক এস এম রেজওয়ানুল হক জানান, গতকাল বুধবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মূলত আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় নগরজুড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। তাই দিনভর তাপ প্রবাহের পর রাতে ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েব সাইটে সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সারাদিন ছিল ভ্যাপসা গরম। বাতাসে জমে উঠছে জলীয় বাষ্প।

বৃষ্টি নামলেই কেবল মুক্তি মিলবে এ ভ্যাপসা গরম থেকে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হলে (৭০ শতাংশের ওপরে হয়) তখন গরমের অনুভূতি বা ভ্যাপসা গরম বেশি মনে হয়। এ পরিস্থিতিটা শুরু হয়েছে। তাই বুধবার নগরজুড়েই বয়ে গেছে ছিল ভ্যাপসা গরম।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমবাগান রয়েছে। এ উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার আম ব্যবসায়ী এবং চাষি আবদুল গাফ্ফার বলেন, আমার প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে আমবাগান রয়েছে। প্রতি বছরই আমচাষ করি। কিন্তু এ বছরের মতো প্রতিকূলতার মধ্যে পড়িনি। মৌসুমের শুরুতে গাছে গাছে মুকুল ছিল ভরা। গুটিও এসছিল ভালো। কিন্তু তাপমাত্রা বেশির হওয়ায় গুটি ঝরে পড়ছে। গাছের শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ গুটি নেই। সামনে আছে কালবৈশাখীর থাবা। ফলে এ বছর আমের ফলন বিপর্যয় ঘটবে।

দুর্গাপুর উপজেলার কানপাড়া গ্রামের আমচাষি আবদুর রহিম বলেন, গত পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টি নেই। পাশাপাশি তাপমাত্রা বেশি। চার দিকে পানির জন্য হাহাকার। আমবাগান শুকিয়ে চৌচির। গাছের গোড়া শুষ্ক থাকলে গুটি টিকবে না। তার পরেও সেচ দিয়ে পানির ব্যবস্থা করছি। কিন্তু কিছুতেই গুটি টিকছে না। ইতোমধ্যে বাগানের সব গাছের অর্ধেক গুটি পড়ে গেছে। বাকি গুটি টেকানোর জন্য কীটনাশক ও বিভিন্ন ধরনের বালাইনাশক দিয়ে গাছ ধুয়ে দিচ্ছি। কিন্তু বৃষ্টি না হলে এবার আমের ফলন বিপর্যয় ঘটবে। রাজশাহীর আমচাষিরা উৎপাদন ব্যয়ও তুলতে পারবেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কেজেএম আবদুল আউয়াল বলেন, রাজশাহীতে পাঁচ মাস ধরে বৃষ্টি নেই। ফলে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। তাপমাত্রাও বেশি। অতিরিক্ত ক্ষরার কারণে আম-লিচুর গুটি ঝরে যাচ্ছে। বাগানের মাটি শুকিয়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য জেলার আম ও লিচু চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি আমাদের পরামর্শ নিয়ে চাষিরা লাভবান হবেন।

  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে