রামেক হাসপাতালে কাঙ্খিত দালালমুক্ত পরিবেশ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২১; সময়: ২:২৩ pm |

তারেক মাহমুদ : মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১২ টা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগ। প্রধান গেটে প্রবেশ করেই রামেক হাসপাতালের পরিবেশটা একটু ভিন্ন রকম। গেট থেকে ভেতরে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাগ হয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। টিকিট কাউন্টার ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন বিভাগের গেটে লাইন ধরে সেবা নিচ্ছেন রোগীরা। কেউ কাউকে টেনে ধরছে না, ভয় দেখাচ্ছে না। দালালমুক্ত সুন্দর পরিবেশ। রোগি ও তাদের স্বজনরা বেজায় খুশি। বললেন এমন পরিবেশই প্রত্যাশিত।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঘনঘন পুলিশি অভিযানে রোগী ধরা দালালদের উৎপাত কমেছে। গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যান্ত রাজপাড়া থানা ২৪ দালালকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়েছে। এছাড়াও গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা দালালদের বিরুদ্ধে ছদ্ম বেশে অবস্থান করে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে অনেকে ওয়ার্ড চিনতে না পারায় চিকিৎসক ও দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছে জেনে নিচ্ছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন আগেও হাসপাতালে এমন পরিবেশ ছিল না। পদে পদে দালালদের হয়রানির মুখে পড়তে হতো রোগি ও তাদের স্বজনদের। দালালরা নির্বিঘ্নে রোগী-স্বজনদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছে অর্থ। কিন্তু এখন একেবারে ভিন্ন চিত্র। নেই দালালদের প্রকাশ্য বিচরণ। হাতে গোনা কয়েক দালাল চুপিসারে দূরে থেকে তাদের কাজ করতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন রামেক হাসপাতালের এমন সুন্দর পরিবেশে দেখে খুশি দায়িত্বরতরা এবং সেবা নিতে আসা রোগী-স্বজনরা। তারা জানাচ্ছেন বেশ কিছু দিন আগেও বেপরোয়া ছিলো এখানে আসা দালালরা। নানাভাবে প্রতারণা করতো চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সাথে। আর এই অন্যায় কাজে দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত এক শ্রেণির বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের মালিক, কর্মচারী ও চিকিৎসকগণ।

সম্প্রতি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য সীমা ছাড়ালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বিভাগ শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন। নিয়মিত অভিযানে বেশ কিছু দালাল গ্রেপ্তার হয়। এরপরই দালালরা বেপরোয়া হয়ে উঠে এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। তবে পুলিশের একটি সূত্রও বলছে, পুলিশ তাদের হুমকিতে শঙ্কিত নয়। রোগী ধরা দালালদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ব্যাপারে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীরা পুলিশকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যাতে করে দালালমুক্ত পরিবেশে রোগী ও তাদের স্বজনরা নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন। তবে এই পরিবেশ যেন সবসময় এমন থাকে সেটাই প্রত্যাশা সকলের।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগের চেয়ে দালালদের উৎপাত অনেক কম- তবে নেপথ্যে থেকে কিছু দালাল তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। হাসপাতালে দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানে কাজ করছেন নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশের সদস্যরা। প্রাথমিক অবস্থায় তাদের ধরতে সক্রিয় লক্ষীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মনোরোগ বিভাগের রোগী সোয়ায়েব মাহমুদ জানান, এই হাসপাতালে মাঝে মাঝে সেবা নিতে আসি। তবে মঙ্গলবার হাসপাতালে প্রবেশ করে হাসপাতাল এলাকা একটু অপরিচিত মনে হয়েছে। কারণ আগে চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন দিলেই দালালরা তা রোগির হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তাদের পছন্দমত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিতে জোর করতো। না করলেই গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখাতো।

রোগীর স্বজন সালাউদ্দিন আহমেদ জানালেন, আগে যেমনভাবে দালালরা হাসপাতাল দাপিয়ে বেড়াতো। রোগী স্বজনদের সাথে যা ইচ্ছে তাই করতো। কিন্তু এখন অনেক দিন পরে হাসপাতালে এসে নিজেই অবাক হয়ে গেলাম! দালাল তো দেখতে পেলাম না, আবার দায়িত্বরত আনসার ও পুলিশের নজরদারি ভালো লাগলো।

রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক রাখতে সার্বক্ষণিক আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো দালালের কার্যক্রম দেখা মাত্রই ধরা হচ্ছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজউদ্দিন জানান, হাসপাতাল দালালমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে কাজ করছি। আনসার সদস্যদের বিভিন্ন পয়েন্টে দালালদের দেখার জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সাথে পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করছেন। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পরে দালালমুক্ত হাসপাতাল করার বিষয়ে সকলের সাথে কথা বলেছি। হাসপাতালের সেবা নিতে আসা রোগীরা যেন সঠিক সেবা পায় ও কোনো প্রতারণার শিকার না হয়- সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করা হচ্ছে।

  • 51
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে