করোনা থেকে সুস্থ হলেও মারাত্মক ক্ষত থাকছে ফুসফুসে

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২০; সময়: ১১:১১ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : করোনা থেকে সুস্থ হওয়া শতকরা ৯০ ভাগ মানুষেরই ফুসফুসে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষত নিয়েই তারা বেঁচে আছেন। তাদের ফুসফুসের ভেন্টিলেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাস এখনো সুস্থ মানুষের পর্যায়ে আসেনি।

গ্লোবাল টাইমসর প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, উহান ইউনিভার্সিটির ঝোংনান হাসপাতালের একটি টিম রোগীদের ওপর ফলোআপ রিপোর্ট করেছেন। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ওই হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের পরিচালক পেং ঝিয়োং। এপ্রিল থেকে সুস্থ হওয়া রোগীর ওপর তারা ফলোআপ রিপোর্ট করেন।

এক বছরের এই কর্মসূচির প্রথম দফার পর্যবেক্ষণ জুলাইয়ে শেষ হয়েছে। এ সময়ে যেসব রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের গড় বয়স ৫৯ বছর। প্রথম দফার এই পর্যবেক্ষণের ফল অনুযায়ী, রোগীদের শতকরা ৯০ ভাগের ফুসফুসে এখনো বড় ধরনের ক্ষত রয়েছে।

পেং ঝিয়োংয়ের টিম রোগীদের ৬ মিনিটের একটি হাঁটার পরীক্ষা করেছেন। তাতে তারা দেখেছেন, করোনা থেকে সুস্থ হওয়া রোগীরা ৬ মিনিটে মাত্র ৪০০ মিটার হাঁটতে পারেন, যেখানে একই সময়ে একজন সুস্থ মানুষ হাঁটতে পারেন ৫০০ মিটার।

বেইজিং ইউনিভার্সিটির ডঙ্গঝিমেন হাসপাতালের চিকিৎসক লিয়াং টেঙসিয়াও বলেছেন, হাসপাতাল থেকে তিন মাস আগে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এমন অনেক মানুষ এখনো অক্সিজেন মেশিনের ওপর নির্ভর করেন।

এছাড়া তার টিম ৬৫ বছরের ওপরে বয়স এমন সুস্থ করোনা রোগীদের ওপরও ফলোআপ রিপোর্ট করেছেন। তাতে দেখা গেছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দেহে যে এন্টিবডি তা শতকরা ১০০ রোগীর মধ্যে শতকরা ১০ ভাগই অদৃশ্য হয়ে গেছে। কোভিড-১৯ নিউক্লিক এসিড টেস্টে তাদের শতকরা ৫ ভাগ নেগেটিভ ফল দেখিয়েছে। কিন্তু ইমিউনোগ্লোবিন এম (আইজিএম) টেস্টে তারা পজেটিভ রেজাল্ট দেখিয়েছেন। ফলে তাদেরকে আবার কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

করোনা আক্রমণ করে তখন প্রথম যে, এন্টিবডি তৈরি করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, তা হল আইজিএম। পরীক্ষায় যদি কারো দেহে আইজিএম পজেটিভ আসে তাহলে বুঝতে হবে, তিনি করোনায় আক্রান্ত। তবে এটা স্পষ্ট নয় যে, যেসব মানুষের দেহে আইজিএম পরীক্ষা পজেটিভ এসেছে তারা আবার করোনায় আক্রান্ত কিনা।

১০০ রোগীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তাদের দেহে খুব কম মাত্রায় বি সেল দেখা গেছে। মানবদেহে করোনা হত্যার জন্য প্রাথমিক শক্তি হল এই বি সেল। ওইসব রোগীর দেহে উচ্চমাত্রায় টি-সেল দেখা গেছে, যা আক্রান্ত কোষের বাইরে ভাইরালি এন্টিজেনসকে শনাক্ত করতে পারে।

পেং বলেছেন, পরীক্ষালব্ধ ফল বলছে, এখনো রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। এর ফলে রোগীরা বিষণ্নতা ও হতাশায় ভোগেন।

করোনা থেকে সুস্থ হওয়া বেশির ভাগ রোগী গবেষক দলকে বলেছেন, একই টেবিলে তাদের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে রাজি নন তাদের পরিবারের সদস্যরা। করোনা থেকে সুস্থ হওয়া অর্ধেকেরও কম মানুষ কাজে ফিরেছেন।

  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • ট্রান্সফ্যাটজনিত মৃত্যুর ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশি ভ্যাকসিন আসার সময় জানাল গ্লোব বায়োটেক
  • মাস্ক কী একটি দুর্বল টিকার সমান সুরক্ষা দিতে পারবে?
  • সবচেয়ে ভালো, সবচেয়ে খারাপ মাস্ক – কখন কোনটা পরবেন
  • মুহূর্তেই মাথাব্যথা কমানোর জাদুকরী চার উপায়
  • ৩০ এর পর গর্ভধারণে রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি!
  • টেলিমেডিসিনের চেয়ে সরাসরি রোগী দেখার পক্ষেই অভিমত চিকিৎসকদের
  • ‘বাংলাদেশেই ভ্যাকসিন উৎপাদনের অনুমতি দেবে রাশিয়া’
  • সেই আয়েশাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্ততরের বাইরে বদলি
  • নাকে ২১ দিন করোনা ভাইরাস বহন করে শিশুরা
  • দুই দেশ থেকেই টিকা পাবে বাংলাদেশ
  • সীমান্ত এলাকায় বাড়ছে করোনা সংক্রমণের হার
  • করোনাভাইরাসে ৭২ জন চিকিৎসকের মৃত্যু
  • শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে কত সময় নেয় করোনা?
  • করোনা ঠেকাতে যে ৭ সতর্কতা মনে রাখবেন
  • উপরে