রাজশাহীতে কমছে টমেটো চাষ

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০১৯; সময়: ৬:৩৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী জেলাতে টমেটোর আবাদ কমছে। টমেটোর রাজ্য বলে খ্যাত গোদাগাড়ীতে টমেটো উঠতে শুরু করেছে। গোদাগাড়ী ছাড়াও জেলার পবা উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলাতে টমেটো চাষ হচ্ছে। তবে ক্রমেই চাষের পরিধি কমছে। চলতি মৌসুমেও কমেছে টমেটো চাষ।

এ অঞ্চলের কৃষকেরা পর পর কয়েক বছর টমেটো চাষ করে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে টমেটো চাষ থেকে। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন বিষ প্রয়োগের দোহায় দিয়ে নেতিবাচক জনমত তৈরী ও ভাল বীজ না পাওয়া এবং দাম কমের জন্য লোকসান গুণতে হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, টমেটো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে তিন হাজার ৫০ হেক্টর। গতবার হয়েছিল তিন হাজার ৩৭৯ হেক্টর। এরমধ্যে গোদাগাড়ীতেই টমেটো চাষ হয়েছিল ২ হাজার ৬ শ’ ৫০ হেক্টোর জমিতে। চলতি বছর ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। এছাড়াও জেলার পবা উপজেলায় এবার চাষ হয়েছে ৪২৫ হেক্টর জমিতে। প্রতিবছরই টমেটোর আবাদ কমছে।

গোদাগাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে ২ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন হাইব্রিড টমেটো চাষ হয়। ২০১৩ সালে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়। প্রায় দুই যুগ ধরে গোদাগাড়ীর টমেটো অবদান রাখছে জাতীয় অর্থনীতিতে। প্রতিবছর এখানে টমেটো নিয়ে প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাষিরা হতাশ হচ্ছে। উন্নত বীজ আর ভালো দাম না পেয়ে তাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। ফলে চাষিরা টমেটো চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

এ অঞ্চলের টমেটো দেশের চাহিদা মেটার পাশা পাশি অর্থনীতিতেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। টমেটো চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষক অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছিল। বর্তমানে টমেটো চাষ দিন দিন কমে যাওয়ায় অর্থনীতিতে পরেছে বিরুপ প্রভাব।

টমেটো চাষ কমে যাওয়ার কারন হিসাবে টমেটোর নায্য মূল্য না পাওয়াকে বেশী দায়ি করেছে টমেটো চাষীরা। পাশাপাশি তারা প্রতিবেদককে অভিযোগ করে বলেন, চাষিরা কীটনাশক প্রয়োগ করলে ফলাও করে ছাপানো হয়। আর লোকসান হলে কেহ ফিরেও তাকায় না। আবার যখন টমেটোর ভরা মৌসুম তখন ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে টমেটো দেশে আসায় কৃষকরা টমেটোর দাম কম পায়। যার ফলে নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয় এ অঞ্চলের টমেটো চাষিরা। এছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানী টমেটোর বীজ নিয়ে কৃষকদের সাথে প্রতারনা করায় কৃষকরা টমেটো চাষে আগ্রহ হারিয়েছে।

এ উপজেলায় সব চাইতে বেশী টমেটো চাষ হয় মাটিকাটা, গোদাগড়ী, গোগ্রাম ও চরআষাঢ়িয়া দহ ইউনিয়নে। মাটিকাটা ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ কৃষি সহকারী অফিসার আশরাফুল ইসলাম জানায়, এবার মাটিকাটা ইউনিয়নে টমেটো চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ শ’ ৫০ হেক্টোর জমি। গত বছর টমেটো চাষ হয়েছিল ৭ শ’ হেক্টোর জমিতে। এবার টমেটোর বীজতলা তৈরী হয়েছে ২ শ’ শতক জমিতে। গত বছরের তুলনাই এবার বীজতলা প্রায় ৩ গুন কম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, টমেটো চাষিরা টমেটোর নায্য মূল্য না পাওয়ায় টমেটো চাষ থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা।

পবা উপজেলার বরইকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল বলেন, গত বছর ২ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। কিন্তু ভাল দাম না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তাই এবার ১ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছি। এখন ফুল আসছে। এবারেও লোকসান হলে এই আবাদ না করার কথা জানান তিনি। অনেকে এখনো লাগাচ্ছে। গোদাগাড়ীর চাষিরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে আয় হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর ভালো লাভের আশায় চাষিরা প্রতিবছরই সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ৬-৭ মাস সময় ব্যস্ত থাকে টমেটো নিয়েই। টমেটো মৌসুমে প্রতিদিনই এ এলাকা থেকে শত শত ট্রাক টমেটো যায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কিন্তু ২০১০ সালে সিনজেনটা কোম্পানির হাইব্রিড টমেটো সবল এফ-১ চাষ করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক।

এ নিয়ে কৃষকরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে সিনজেনটার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে সিনজেনটা কোম্পানি সবল এফ-১ টমেটোর বীজ বাজারজাত বন্ধ করে দেয়। সবলের বিকল্প বীজ হিসেবে সিনজেনটা কোম্পানি বিপুল, বিগল, হাইটম নামের টমেটোর বীজ বাজারজাত শুরু করে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন বীজ কোম্পানির মিন্টু সুপার ও এনার্জি, সালামত, ভাগ্য, মিন্টু সুপার, নাসিব, লাভলী, ভিএল-৬৪২ নামে হাইব্রিড জাতের টমেটোর বীজ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বীজের স্থায়ী সমাধান হয়নি। আবার সেই সঙ্গে রয়েছে ন্যায্য দাম না পাওয়া।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামছুল হক বলেন, টমেটোর আবাদ কমেছে এটা সত্য কথা। চাষিরা মূলত যে ফসলে ভালো লাভ পাবে সেদিকেই ঝুঁকবে। সেই চিন্তা করে ভাল লাভের আশায় চাষিরা বিকল্প ফসল চাষ করছে। তবে বীজ নিয়ে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকে নজর দিচ্ছি। আশা করছি এবছর কৃষক ভালো দাম পাবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আরও খবর

  • তিন অর্থবছরে ২২৫৬.৭ বিলিয়ন টাকা ঋণের সুদ হিসাবে পরিশোধ করবে সরকার
  • কোভিড-১৯ যেভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে
  • ছয় মাস পর খুলেছে ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভ্যাকসিন জোটে নেতৃত্ব দিতে পারে চীন
  • স্থানীয় সরকার ভোটে প্রার্থী মনোনয়নে বিএনপির নতুন নীতিমালা
  • আওয়ামী লীগের উপ-কমিটিতে কারা থাকছে
  • বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসায় পড়ছে কারা?
  • করোনাভাইরাস শনাক্তে নতুন পরীক্ষা পদ্ধতিতে ফল মিলবে ৯০ মিনিটে
  • ইউপি ভোটে প্রয়োজনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত
  • শুভ জন্মদিন সাংবাদিক লিটন
  • অনুপ্রবেশকারিদের প্রশ্রয়দাতাদের তালিকা হচ্ছে
  • প্রতিদ্বন্দ্বিদের বাদ দিলে কমিটি বাতিল
  • সৌদি আরবে ১ লাখ ২০ হাজার বছর আগের পায়ের ছাপ
  • অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করবে আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট (ভিডিওসহ)
  • নিয়োগ পরীক্ষার অপেক্ষায় চাকরিপ্রার্থীরা
  • উপরে