রাজশাহীতে প্রচন্ড গরমে শরবত বিক্রি জমজমাট

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২২; সময়: ১২:৫৬ pm |

মিনার আলম আকাশ : তীব্র গরমে মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে সরবত। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, শ্রমিক, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ তাদের তৃষ্ণা মিটাচ্ছেন ফুতপাতে বিক্রি করা সরবত দিয়ে। এই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ঠান্ডা এক গ্লাস শরবত যেন চাই-চাই।

প্রচন্ড গরমে ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা। নগরীর বাজার, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গায় ফুতপাতে দেখা মিনারেল সমৃদ্ধ স্পী ও লেবু মিশ্রিত ঠান্ডা পানি দিয়ে শরবত বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত তারা ব্যবসা করছেন। প্রচন্ড গরমে পরায় চাহিদা বেড়েছে শরবতের জানায় ব্যবসায়ীরা।

শনিবার নগরীর সাহেব বাজারে গিয়ে দেখা যায় ফুতপাতে লাইন ধরে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ তৃষ্ণা নিবারনের জন্য শরবত খাচ্ছে।

শরবত খেতে আসা রিফাত জানায়, প্রচন্ড গরমে পানি শূন্যতার একটা ভয় থাকে সেই জন্যই শরবত খাচ্ছি। কিন্তু চাহিদা বেশি থাকার কারনে শরবত খাওয়ার জন্য অনেকক্ষন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এক গ্লাস সরবত খাওয়ার জন্য বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ভিড় করে দাড়িয়ে আছে দোকানগুলোতে।

শরবত বিক্রেতা লিটন জানায়, গরমের সময় আমাদের মূল ব্যবসা। এই সময়টায় আমরা সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত ব্যবসা করি। বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ এসে ভিড় করে এক গ্লাস শরবত খাওয়ার জন্য। অনেক সময় এতোটা চাপ পড়ে যায় অনেকে সরবত না পেয়ে চলে যায়।

সরবত খেতে আসা এক রিকশাচালক রফিক জানায়, রাজশাহীতে যেমন গরম পড়েছে তেমন লোডসেডিং। এতো গরমে রাস্তার বের হলেই যেন পানির তৃষ্ণা পাচ্ছে। আর এই তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ও মানসিক প্রশান্তির জন্য শরবতটা খাচ্ছি। এতে শারিরিক ভাবে যেমন শান্তি পাচ্ছি তেমন মানসিক ভাবেও প্রশান্তি অনুভব করছি।

নগরীর নিউমার্কেটের সামনে ফুতপাতে বসা আরেক সরবত ব্যবসায়ী দিনার জানায়, এটা আমাদের সরবত বিক্রির মৌসুম বলতে পারেন। সারাবছর কোনরকম ব্যবসা করি কিন্তু গরমের এই সময়টাতে সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত ব্যবসা করি। কাজের এতোটা চাপ থাকে অনেকে এসে দাড়িয়ে থাকার পরেও সরবত পাই না। এছাড়া এমনি সময় সারাদিনে সরবত বিক্রি করে ৫০০ টাকা লাভ হয়না কিন্তু গরমের এই সময়টাতে সারাদিন ব্যবসা করে ১৫০০-২০০০ টাকা লাভ হয়।

সেখানে সরবত খেতে আসা অনিক জানায়, আমার বাসা এখানে হওয়ায় প্রতিদিন সরবত খেতে আসি। প্রচন্ড গরমে বন্ধুদের নিয়ে এখানে সরবত খেতে এসেছি। এই গরমে অন্য কিছু খাওয়ার চেয়ে সরবত খাওয়াটায় ভালো মনে করছি। এতে শারিরিক ভাবে যেমন শান্তি পাওয়া যায় তেমন মানসিক ভাবে প্রশান্তি অনুভব করি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে