কেশরহাট পৌর এলাকায় একটু বৃষ্টিতেই শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতায় জন দূর্ভোগ

প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২২; সময়: ৯:৩৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নাকইল মহল্লায় বৃষ্টির পানির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বিপাকে পড়েছে কয়েকটি পরিবার ও মসজিদে চলাচলকারী মুসল্লিগণ।

জানা যায়, নাকইল পূর্ব পাড়ায় বৃষ্টির পানির স্বাভাবিক চলাচলে বাধা প্রদান করেছে একটি পরিবার যার জন্য এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে এবং এবিষয় নিয়ে ঝগড়া-ফাসাদ হলে থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে বলেও জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মনির, হাবিবুর রহমান, সৈয়দ আলী, আজাহার আলী, সেলিম রেজার বাড়িসহ বেশ কয়েকটি পরিবার ও একটি মসজিদ এ জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িসহ মসজিদে আগত মুসল্লিদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

থানায় অভিযোগকারী মৃত তফেজ সরদারের ছেলে নয়ুম উদ্দিন সরদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বহু বছর ধরে মসজিদ ও কয়েকটি পরিবারের বৃষ্টির পানি আমাদের কবর বাড়ির উপর দিয়ে বয়ে যেত। আমরা কোনদিন বাধা প্রদান করিনি। তবে গত বছর একটি পরিবার বৃষ্টির সময় তাদের পায়খানার মল-মুত্র বৃষ্টির পানিতে ছাড়ে তাতে পরিবেশে নষ্ট হয় এবং কবর বাড়িতে মল ঢুকে পড়ে তাই আমরা কবর বাড়ির উপর দিয়ে বৃষ্টির পানি চলাচলে বাধা প্রদান করি। এ বছর জলাবদ্ধতার কারণে হাতাহাতি ও ঝগড়া হয়েছে তার জন্য আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

বৃষ্টির পানিতে মল-মুত্র ছাড়া পরিবারটি জানায়, গত বছর ভুলবশত এরকম কাজ করেছি সেজন্য আমরা অনুতপ্ত ও তওবা করেছি। আর কোনদিন এমন ভুল হবে না।

সেখানে বসবাসকারী অন্যান্য পরিবারের লোকজন জানায়, আমরা নয়ুম উদ্দিনের পরিবারকে অনেক বুঝিয়েছি এবং সমস্যা নিরসনের জন্য অনেক চেষ্টা করেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমরা জলাবদ্ধতার জন্য কয়েকটি পরিবার ও মসজিদে আগত মুসল্লিগণ চরম বিপদের মধ্যে রয়েছি। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার। আমরা থানা ও পৌর মেয়রকে অনুরোধ জানাচ্ছি তারা যেন দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করেন।

কেশরহাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হক জানান, আমি ঘটনা স্থলে গিয়েছি। জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি পরিবার ও মসজিদে আগত মুসল্লিগণ চরম বিপদে পড়েছে। থানায় অভিযোগ হয়েছে। আমি এবিষয়ে থানা ও মেয়র মহোদয় এর সঙ্গে কথা বলে সমসাধানের চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে মোহনপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলহাজ উদ্দিন জানান, আমরা ঘটনা স্থলে গিয়েছিলাম। উভয় পক্ষকে থানায় ঢেকে সমস্যার সমাধান করা হবে এবং এ ব্যাপারে কেশরহাট পৌর মেয়রের সহযোগিতা নেওয়া হবে।

কেশরহাট পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান শহিদ বলেন, এবিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি ইতিমধ্যে একটি রায় দিয়েছিলাম কিন্তু উভয়পক্ষ তা মানেনি। সমস্যারটি সমাধানের জন্য আমরা আবারও ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে