রাজশাহীতে আইনের চোখে পলাতক শ্রমিক নেতা লড়ছেন নির্বাচনে

প্রকাশিত: মে ১০, ২০২২; সময়: ১০:৪০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর এক শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। আরেক শ্রমিক নেতাকে হত্যার এ মামলার প্রধান আসামি তিনি। আইনের চোখে তিনি পলাতক। তবে এই নেতাই লড়ছেন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে। এই শ্রমিক নেতার নাম আবদুর রহমান ওরফে পটল। জেলার পুঠিয়া উপজেলায় তাঁর বাড়ি।

আগামী ১৭ মে রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন। সংগঠনটির প্রধান কার্যালয় পুঠিয়ায়। সেখানেই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। আবদুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নুরুল ইসলাম। ২০১৯ সালে তিনি খুন হন।

সেই খুনের মামলারই অভিযুক্ত আসামি আবদুর রহমান। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ২০১৯ সালের নির্বাচনে জিতে যাওয়ায় প্রতিপক্ষ আবদুর রহমান কয়েকজনকে নিয়ে নুরুলকে খুন করেছেন।

নুরুল ইসলাম হত্যার পর তার মেয়ে নিগার সুলতানা পুঠিয়া থানায় আবদুর রহমানসহ আরও কয়েকজনের নামে মামলা করতে এজাহার দিয়েছিলেন। শ্রমিক নেতা আবদুর রহমানকে বাঁচাতে সেই এজাহার রেকর্ড না করে থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিল আহমেদ মনগড়া এজাহার করেছিলেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্তে তা প্রমাণিত হয়েছে। তাই এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ওসি সাকিলের বিরুদ্ধে মামলা করলে তিনি এখন কারাগারে। এখন আবার হত্যা মামলায় প্রভাব বিস্তার করতে নির্বাচনের নামে আবদুর রহমানকে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক করার প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত নুরুল ইসলামের মেয়ে ও মামলার বাদী নিগার সুলতানা মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ তুলেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওসি সাকিলের মনগড়া এজাহার বাদ দিয়ে তাঁর এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছিল।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শামীম আকতার গত বছরের জুনে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। এতে আবদুর রহমান পটলকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আবদুর রহমানকে পলাতক উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ান জারি করার জন্যও তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে আবেদন করেন।

নিগার সুলতানা জানান, এই মামলার তদন্তের সময় পিবিআইয়ের বিরুদ্ধেও উচ্চ আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। আগামী ১৮ মে এ সংক্রান্ত আদেশ দেবেন উচ্চ আদালত। এই আদেশের আগে অভিযোগপত্র গ্রহণ না করার জন্য তাঁরা নিম্ন আদালতে আবেদন করেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এ অবস্থায় উচ্চ আদালতের আদেশের আগের দিন জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের নামে অভিযুক্ত আবদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদকের পদে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম বলেন, আবদুর রহমান তো প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পলাতক হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে। পলাতক ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন না গঠনতন্ত্রে এ রকম কিছু নেই। তাই তাঁর প্রার্থিতায় কোন অসুবিধা নেই। আবদুর রহমান বলেন, তাঁকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর নামে কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই। তাই নির্বাচনে অংশ নিতেও অসুবিধা নেই।

তবে নিগার সুলতানার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবু বকর সিদ্দিক রাজন বলেন, তদন্ত সংস্থা যখন কাউকে অভিযুক্ত করেছে তখন তিনি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী। তদন্ত সংস্থা তাকে যে কোন সময় গ্রেপ্তার করতে পারে। আবদুর রহমানের ক্ষেত্রে পিবিআই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে তিনি পলাতক। অথচ তিনিই নির্বাচনে লড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে মামলায় প্রভাব বিস্তার করতেই নির্বাচনের নামে আবদুর রহমানকে শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক করার ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি নির্বাচন বন্ধ এবং আবদুর রহমানকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক শামীম আকতার বলেন, তিনি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। বাকিটা এখন আদালতের বিষয়। আসামি গ্রেপ্তারে তিনি মনোযোগ দিচ্ছেন না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে