ঈদের দিনেও থেমে নেই আজিজুল আলম বেন্টুর মেহমানদারি

প্রকাশিত: মে ৪, ২০২২; সময়: ৩:০২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ। আর তাই ঈদের আনন্দকে সকলের সাথে ভাগ করে নিতে প্রতিদিনের মতোই ঈদের দিনেও শতাধিক দুস্থ মানুষকে পেট পুরে খাওয়ালেন রাজশাহীর মানবিকতার ফেরিওয়ালা।

এই মানবিকতার ফেরিওয়ালা হলেন, রাজশাহী নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আজিজুল আলম বেন্টু। বেন্টু রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ে নাম লিখিয়েছেন কয়েক মাস আগে।

সবাই যেখানে রেস্টুরেন্ট খুলে লাভ-লোকসানের হিসাব করতে ব্যস্ত থাকেন, তিনি সেখানে একেবারেই অন্যরকম। রেস্টুরেন্টের অতিরিক্ত বা বেঁচে যাওয়া খাবারদাবার নয়, বরং বিশেষভাবে রান্না করা খাবার দিয়েই মেহমানদারি করেন তিনি অভুক্তদের। ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, শাকসবজি- এসব থাকে খাদ্যের তালিকায়।

মঙ্গলবার (৩ মে) অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। পবিত্র ঈদের দিনেও থেমে নেই আজিজুল আলম বেন্টুর মেহমানদারি। প্রতিদিনের ন্যায় এই দিনেও রাজশাহী নগরীর সাগরপাড়া কল্পনা হল মোড়ে অবস্থিত লবঙ্গ চাইনিজ অ্যান্ড ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্টের সামনে শতাধিক দুস্থ মানুষকে খাওয়ানো হয়।

ঈদের দিনে তরুণদের নিয়ে আজিজুল আলম বেন্টুর নিজের গড়ে তোলা সামাজিক সংগঠন ‘আমরা নতুন প্রজন্ম’ এর সদস্যদের নিয়ে এবং আজিজুল আলম বেন্টুর নিজের তদারকির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় এই মেহমানখানা। আজিজুল আলম বেন্টুর এই ব্যতিক্রমী ও মহতী উদ্যোগ ইতিমধ্যে সাড়া জাগিয়েছে সারা শহরে।

এই মেহমানখানায় আসা এক রিকশাচালক শাহজালাল বলেন, ‘এখানে আমি নিয়মিত খেতে আসি। এখানে পেট ভরে, মন ভরে খাওয়ানো হয়- এটা খুবই ভালো লাগে। ঈদের দিনে মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু বেন্টু সাহেব, এই দিনেও আমাদের মতো মানুষের কথা ভেবেছেন। এতে আমরা অনেক খুশি। তিনি যেন দীর্ঘজীবি হন।’

লুৎফর রহমান নামের এক দোকান কর্মচারী বলেন, ‘করোনার পর থেকে আয় নেই। সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই প্রতিদিন রাতে এখানে খেয়ে বাড়িতে ফিরি। অন্তত একবেলার খাবার খরচ তো লাগে না। সামর্থ্যবান সবাই যদি এভাবে এগিয়ে আসত তাহলে আমাদের মতো গরিব মানুষের কষ্ট কমে যেত।’

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল আলম বেন্টু বলেন, ‘আমাদের সমাজে অনেক দুস্থ মানুষ রয়েছেন যাদের অনেকেই খাবারের কষ্টে থাকেন। এ উদ্যোগ এরকম সব হতদরিদ্র মানুষকে সামনে রেখে। জীবনে যতদিন সাধ্য থাকবে, ততদিন এ মেহমানদারি চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ঈদ মানে আনন্দ। তাই এই ঈদের দিনে যেন এসকল দুস্থ মানুষেরাও ভালো খাবার খেয়ে ঈদ পালন করে তাই এই আয়োজন। আমাদের সমাজের সব সামর্থ্যবানরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে অনেক মানুষেরই কষ্ট কমবে।

উল্লেখ্য, ঈদ উপলক্ষে এই দিন খাবারের তালিকায় ছিলো অন্যান্য দিনের তুলনায় বিশেষ খাবার। এই দিনে খাবারের তালিকায় ছিলো পোলাও, রোস্ট, মাংস ও সেমাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে