রাজশাহীতে ফসলি জমির উর্বর মাটি যাচ্ছে ইটভাটা ও ভরাটকাজে

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২২; সময়: ১০:১০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীতে দিনে কিংবা রাতে বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি জমির উর্বর মাটি ও পুকুর খনন থামছেই না। জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসকে বারবার এলাকাবাসী অভিযোগ দিলেও অজ্ঞাত কারনে এসব পুকুর ও মাটি খননকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। সাময়িক ভাবে এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও পুনরায় ওইসব চক্র পুকুর ও মাটি খনন করে তাদের আধিপত্য দেখিয়ে চলেছে।

অপরদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার পরেও জোরালো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। ফলে এমন চলতে থাকলে কৃষি জমির যেমন উর্বরতা হারাবে তেমনি ভাবে অপরিকল্পিত ভাবে কৃষি জমি কেটে পুকুর খনন করলে কৃষি জমির পরিমান কমে খাদ্য উৎপাদনে বিরাট সংকট দেখা দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃষি জমির উপরের উর্বর মাটি ও পুকুর খননের কাজে অধিকাংশই জড়িত আছে বর্তমান ক্ষতমাসীন দলের রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। এরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেই চলছে এসব অবৈধ কর্মকান্ড। ফলে এরা বেপরোয়া ভাবে বিভিন্ন উপজেলায় দিন-দুপুরে প্রকাশে আবার কোথাও রাতে মাটি ও পুকুর খনন জোরালো ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা এদের বাঁধা দিলে প্রকাশ্যেই বলছে ডিসি-এসপি, ইউএনও ও থানার ওসিদের কেনা আছে আমাদের কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। এমনি হুঙ্কারে চলছে পুকুর ও মাটি খনন।

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, পবা, তানোর, চারঘাট, দুর্গাপুর, মোহানপুর, বাগমারাসহ সব উপজেলাতেই এসব খনন কাজ চলছে। বিশেষ করে গোদাগাড়ী উপজেলায় বর্তমানে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা, রাস্তার উন্নয়ন কাজের মাটি ভরাট, গোরস্থান সংস্কার, মসজিদ, মন্দির কাজের উন্নয়ন কাজের নামে এসব মাটি নিয়ে গিয়ে সেখানে ফেলা হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের জিওলমারি এলাকায় দিনে কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাজশাহী শহরে। এতে ড্রাম ট্রাক ব্যবহার ও বড় ট্রাক্কর ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে যেমন মাটির উর্বরতা হারাচ্ছে অপরদিকে এসব বহনকারী ট্রাক পাকা রাস্তা নষ্ট করছে । আবার এসব মাটি মহাসড়কে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণ হারাচ্ছে। এসব মাটি রাজশাহী শহরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে দেওপাড়া ইউনিয়েনে রাজনৈতিক আধিপত্য ও জনপ্রতিনিধিদের ছত্র ছায়া গড়ে উঠা কিছু যুবক এসব কাছে মদদ দিচ্ছে । মাটি খননকারি মদদকারীদের মধ্যে তাজিমুল, মাসুম, মতিন সোহাগ ও ওই বাজারের আরো অনেকে জড়িত বলে জানা গেছে।

সেই সঙ্গে তারা গাড়ী প্রতি চাঁদা আদায় করছে। এছাড়াও পুলিশকে ম্যানেজ করার জন্য মটি বহনকারী ছোট-বড় গাড়ী প্রতি ৩০০-৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। এমনকি প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম ও এএসআই আবেদুর রহমান রাজাবাড়ী হাট চেক পোস্টের কাছে এসে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সচেতন লোকজন জানান। এমনকি এসব টাকার একটি অংশ দেওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছেও জমা হয় বলে জানা গেছে।

এসবের অভিযোগের বিষয়ে প্রেতমলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, মাটি ও পুকুর খনন অবৈধ এসব দেখার জন্য ইউএনও, এসিল্যান্ড আছে তাদের বললে ভালো হয়। টাকা নেওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই।

এএসআই আবেদুরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি একজন এএসআই আমার সমন্ধে যতি এমন কোন প্রমাণ পান তাহলে দেখেন, আর শুধু বললেই তো হলো না আমি একজন এএসআই আমার উপরে এস.াই আছে, আই.স আছে ইউএনও আছে, এসিল্যান্ড আছে আমি কি একাজ করাতে পারবো ?।

দেওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এই ধরনের কোন পদক্ষেপ তো কোন চেয়ারম্যানই নিচ্ছে না। জমির মালিকরা এসব মাটি কাটাচ্ছে। কেউ অভিযোগ জানালে আমি পদক্ষেপ নিবো। গাড়ী টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন চাঁদাবাজ আমার সঙ্গে নাই, প্রশ্রয়ও দেয় না।

এই বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জানে আলম বলেন, এই বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি একটি মিটিং এ আছি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে