রাজশাহীতে ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে পুড়ল ফসল ও গাছপালা

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২২; সময়: ৮:২৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাহেরপুর : রাজশাহী বাগমারায় ইটভাটা থেকে নির্গত ধোয়া ও বিষাক্ত গ্যাসে পড়ে গেছে কয়েকশো একর জমির ফসল ও গাছপালা। এর মধ্যে বোরো ধানসহ সবজি আবাদ রয়েছে প্রায় ১০০ একর জমিতে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বুধবার দুপুরে ওই ইটভাটার চেম্বারের বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়া হয়।

তাদের দাবি, অবৈধভাবে গড়ে তোলা এই ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কৃষি সম্প্রসার দপ্তর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামে এই ইটভাটা অবস্থিত। বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ইটভাটার আশপাশের জমির ফসল ও গাছপাড়া পুড়ে গেছে। সেখানে রয়েছে চ.ক.ই. নামের একটি ইটভাটা। ফসলি জমির ওপর স্থাপিত এই ভাটার চারপাশে রয়েছে কৃষকের ধানের জমি ও ঘরবাড়ি, আম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল গাছসহ বিভিন্ন ফলের গাছ। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় গাছের ফল পচন ধরেছে। পুড়ে গেছে ধান ও গাছপালা।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাবের আলীর অভিযোগ করেন, ইটভাটা থেকে নির্গত ধোয়ায় এতোদিন গাছে ফল নষ্ট হতো। কিন্তু এবার ভাটার গরম বিষাক্ত গ্যাসের কারণে কয়েকশো একর জমির ধান ও গাছপালা পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

তারা বলেন, বুধবার ইট পোড়ানো চেম্বারে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস ছেড়ে দেয়া হয়। গ্যাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার বাতাস উত্তপ্ত হয়ে যায়। এই বিষাক্ত বাতাস যে দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সেই দিকের ফসলি জমির আধাপাকা ধান, সবজির খেত ও গাছপাড়া পুড়ে গেছে। এছাড়াও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়েছে এলাকার মানুষ।

চ.ক.ই ইটভাটার মালিক আব্দুস সোবহান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সাথে বিষয়টা নিয়ে আলাপ করে দেখি ইটভাটার কারণে কৃষি জমি নষ্ট হয়েছে কিনা বা অন্য কোন কারণে। এছাড়াও স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেসব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে তাদের ক্ষতিপুরণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, এখানে প্রায় ৪০ বছর ধরে ইটভাটা রয়েছে। আমার পরিচালনায় গত ১৩ বছর ধরে ভাটা চলছে। তবে এর আগে কখনো এরকম দুর্ঘটনা এই এলাকায়।

এ বিষয়ে জানতে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক সুফিয়ানকে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনে ধরেন নি।

তবে যোগাযোগ করা হলে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি দেখার জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগমারা উপজেলায় প্রায় অর্ধশত ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটার বেশির ভাগ নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব অবৈধ ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে অবৈধ ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার মন গাছের ফল ও জমির খেত নষ্ট হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে