রাজশাহীতে দ্রুত মিলছে ভিসেরা রিপোর্ট

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২২; সময়: ২:২৭ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : বছর দু-এক আগেও রাজশাহীতে ময়নাতদন্ত করা কোনো লাশের ভিসেরা রিপোর্ট পেতে অপেক্ষা করতে হতো দিনের পর দিন। ঢাকা থেকে রিপোর্ট আসতে দেরি হওয়ার কারণে মামলার তদন্তেও বিলম্ব হতো।

তবে রাজশাহীতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। এখন স্বল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে ভিসেরা রিপোর্ট। শুধু তাই নয়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে অজ্ঞাত লাশের পরিচয়ও।

আঙুলের ছাপ, ভিসেরা ছাড়াও রাজশাহীতে এই গবেষণাগারেই হচ্ছে অন্যান্য রাসায়নিক, হস্তলিপি, ব্যালিস্টিকস, অনুবিশ্লেষণ, পদচিহ্ন, ফটোগ্রাফি, ক্রাইমসিন ও জালনোটের পরীক্ষা।

এ ছাড়া মাদকদ্রব্য, অ্যাসিডসহ আরও বেশ কিছু পরীক্ষা হচ্ছে এখানে। শুধু হচ্ছে না ডিএনএ পরীক্ষাটাই। তাও এখন যেসব পরীক্ষা হচ্ছে, তাতেই সুফল পাচ্ছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা।

বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে সিআইডির এই গবেষণাগারের যাত্রা শুরু ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার আলামত নিয়মিত পরীক্ষা হচ্ছে এখানে। এর পাশাপাশি আসছে খুলনা বিভাগের নমুনাও।

ল্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চালুর পরপরই পুরোদমে কাজ শুরু হয় গবেষণাগারটিতে। প্রথম সাত মাসে গবেষণাগারে মোট ১০ হাজার ৬৫টি মামলার আলামত পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট আলামতের সংখ্যা ২৯ হাজার ৩২১ টি।

এরপর ২০২১ সালে শুধু ফরেনসিক বিভাগে ৩৬৭টি মামলার ১২ হাজার ৬৯৯টি আলামত পরীক্ষা হয়। ওই বছর কেমিক্যাল বিভাগে ২৬ হাজার মামলার প্রায় ৩৯ হাজার আলামতের রাসায়নিক পরীক্ষা হয়েছে।

এ ছাড়া ২৯০টি মামলার ক্রাইমসিনের ১ হাজার ৭৩০টি পরীক্ষাও হয়েছে। এর বাইরে অজ্ঞাত ৪১টি লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করে। ৫১ জন জনবল নিয়ে চলতি বছরেও পুরোদমে চলছে পরীক্ষা কার্যক্রম।

রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহীতে সিআইডির ল্যাব স্থাপনের ফলে আমরা এখন ভীষণভাবে উপকৃত হচ্ছি। স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট পাচ্ছি। তদন্তে গতি আসছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া যাচ্ছে। এর ফলে আদালতেও দ্রুত বিচারকাজ শুরু হচ্ছে।’

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আগে আলামত নিয়ে উত্তরাঞ্চলের তদন্ত কর্মকর্তাদের ঢাকায় যেতে হতো। সেখান থেকে রিপোর্ট হয়ে আসতে অনেক সময় লাগত। দেরি হওয়ার কারণে আলামত নষ্টও হতো।’

সিআইডির এই ল্যাবের প্রধান বিশেষ পুলিশ সুপার সোহেল আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের এখানে শুধু ডিএনএ টেস্টের ব্যবস্থা নেই। আর একটা ডিজিটাল ল্যাবের ঘাটতি আছে। বাকি সব পরীক্ষা হচ্ছে। আমরা প্রতি মাসের কাজ এখন প্রতি মাসেই শেষ করতে পারি। ফলে মামলার তদন্তে গতি এসেছে। ভবিষ্যতে এখানে ডিএনএ টেস্টও হবে বলে আশা করছি।’ সূত্র- আজকের কাগজ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে