বাঘায় বিশুদ্ধ পানি সংকটে বিপাকে মানুষ

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২২; সময়: ৯:৩২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রাজশাহীর বাঘায় পৌরসভাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমেই নিচে নামতে শুরু করেছে। গত নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বৃষ্টি হয়নি।

বাসা বাড়িতে বসানো অগভীর নলকূপ থেকে ঠিকভাবে পানি উঠছে না। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। খরায় গাছের আমসহ গ্রীষ্মকালীন ফল ঝরে পড়ছে। এ ছাড়া পানি সংকটে মানুষ এলাকার পুকুরে গিয়ে গোসল করছে মানুষ।

বাঘা পৌরসভার বাজুবাঘা গ্রামের গৃহবধূ কহিনুর বেগম বলেন, তাদের বাড়িতে বসানো টিউবওয়েলে প্রায় বিশদিন ধরে ঠিকভাবে পানি উঠছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে দূরের টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে হচ্ছে। রমজানে খুবই কষ্ট হচ্ছে। পৌরসভার উত্তর মিলিক বাঘা গ্রামের নাসির উদ্দীন বলেন, আমার বাসা বাড়ির টিউবওয়েলে ১৭০ ফুট পাইপ বসিয়েছি। এর পরেও পানি উঠছেনা। বাধ্য হয়ে জল মর্টার বসানোর ব্যবস্থা করছেন।

উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাউসা টলটলি পাড়ার আবু রায়হান জানান,তার এলাকার অধিকাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছেনা। গভীর নলকূপ থেকে ধানক্ষেতে সেচ দেওয়া পানি ব্যবহার করে অনেকেই চাহিদা মেটাচ্ছেন।

নলকূপ (টিউবওয়েল) মিস্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও সবুজ আলী জানান,বর্তমান সময়ে পৌরসভা ও উপজেলার বাসাবাড়িতে বসানো টিউবওয়েলে পানি না উঠায় বেকায়দায় পড়েছেন। যাদের বাড়িতে নলকূপের সাথে বিদুৎ চালিত মর্টার বসানো আছে,সেখানেও পানি উঠছেনা।

সরেজমিন দেখা গেছে, কোথাও কোথাও একটু একটু করে উঠছে। দেখে মনে হয় পানির স্তর ৩৫ থেকে ৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিসার কৃষিবিদ শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে কৃষি, গৃহস্থালি এবং সুপেয় পানি পানের ক্ষেত্রে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, বর্ষাকালে নদী-নালা, খালবিলের পানি সংরক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়াও কৃষিতে যেহেতু পানির ব্যবহার বেশি হয়, সেক্ষেত্রে যে সমস্ত ফসলে সেচ কম লাগে সে ফসলের আবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমেও পানির স্তর ঠিক রাখা যায়। এদিকে প্রায় ছয় মাস বৃষ্টি না হওয়ায় ফসল উৎপাদন করতে কৃষকের সেচ খরচ বেশি লেগেছে,উৎপাদন কমে গেছে। জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় এ অবস্থা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের,বাঘা উপজেলার সহকারি প্রকৌশলী কে,এম নাসির উদ্দীন বলেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

পানির স্তর নিচে নামার কারণে হাত টিউবওয়েল এত নিচু স্থান থেকে পানি সরবরাহ করতে পারে না। এর ওপর পাঁচ-ছয় মাস কোনো বৃষ্টি নেই। যারা নিজস্ব নলকূপ স্থাপন করেছে তাদেরই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে সরকারিভাবে সাবমার্সিবল নলকূপে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে