অবৈধ নির্মাণের প্রতিবাদের হামলা, মামলা, হুমকি ও সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২২; সময়: ৫:০১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীতে অবৈধ নির্মাণের প্রতিবাদ করায় হামলা, মামলা, হুমকি ও সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চন্দ্রিমা থানাধীন ছোটবনগ্রাম এলাকার গোলাম মোহাম্মদ আলী।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিবেশী মামুনুর রশিদ মামুন (মাত্র ১৩ ছটাক জমির ওপর পাইলিং ছাড়া অনুমোদন বহির্ভুত ভাবে ৫ তালা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। যে ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও যেকোন মুহুতে ভেঙ্গে পড়লে প্রাণহানীসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মামুনুর রশিদ মামুনকে তিনিসহ এলাকাবাসী বাড়ির কাজ শুরুর প্রথম থেকে মৌখিকভাবে তাকে নিষেধ করলে তিনি বলেন আমি (মামুনুর রশিদ) প্ল্যান অনুযায়ী বাড়ি করছি।

এরপর মৌখিক নিষেধাজ্ঞা অম্যান্য করে বাড়ি নির্মাণ কাজ অব্যাহৃত রাখে। পরবর্তীতে গোলাম মোহাম্মদ আলী গত বছরের ১০ নভেম্বর আরডিতে অভিযোগ করে। অভিযোগ পত্র নং ১৬০৩। আরডিএ কর্তৃপক্ষ ২৩-১১-২০২১ খ্রি: তারিখে মামুনুর রশিদকে অনুমোদন বহির্ভুত ইমারত নির্মাণ করায় কারণ দশানোর নোটিশ দেন। ইমারত নির্মান কমিটির পক্ষে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথরাইজড অফিসার মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এ নোটিশে স্বাক্ষর করেন। যে নোটিশে বেশ কিছু অনিয়মের কথা বলা হয়।

নোটিশের সন্তোষজনক জবাব আগামী ৭দিনের মধ্যে দাখিল করার জন্য বলা হয়। নির্ধারিত সময়ে গ্রহণযোগ্য উপযুক্ত জবাব প্রদান না করলে আর কোন বক্তব্য না শুনেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়। নোটিশ পাওয়ার পর মামুনর রশিদ আরডিএতে হাজিরা দেন এবং মোহাম্মদ আলী হাজিরা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী আরো অভিযোগ করে বলেন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথরাইজড অফিসার মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ আমাকে বলেন মামুনুর রশিদ নিজেই ভবন অপসারণের জন্য ১০-০৪-২০২২ তারিখ পর্যন্ত সময় নেয়। ১০ এপ্রিল ২০২২ সালের মধ্যে অপসারণ না করলে পরবর্তী নির্দেশনার ফটোকপি আমাকে দেয়া হবে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে কোন কপি দেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে সময় পার করছেন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথরাইজড অফিসার মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তীতে বেশকিছু জনগণ ওই ঝুঁকিপুর্ণ ভবন অপসারনের জন্য একাধিক অভিযোগ দেন আরডিতে। আরডিতে অভিযোগ দেয়ার কারণে বিষয়টি মিমাংসা করতে ও অভিযোগ উত্তোলন করতে মামুনুর রশিদ বিভিন্নভাবে মোহাম্মদ আলীকে চাপ দেন।

তিনি মিমাংসা না করলে ও অভিযোগ না উঠালে মামুনুর রশিত বিভিন্নভাবে ফাঁসানো ও চাকুরি খাওয়ার হুমকি দেন। যার জন্য ১২-১১-২০২১ তারিখে আমি চন্দ্রিমা থানায় সাধারণ ডাইরি করি। জিডি নং-৪৩২। যার তদন্ত করেন চন্দ্রিমা থানার এসআই মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন আল ফারুক। তিনি তার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে জিডিতে উল্লেখিত অভিযোগ সত্য প্রমানিত হয়েছে। পরবর্তীতে এসব দেখে মামুনুর রশিদ নিজেকে বাঁচাতে বিভিন্ন কলাকৌশল ও ষড়যন্ত্র করেন।

গত ০৯-০৪-২০২২ ইং তারিখ বিকাল ৫.১৫ ঘটিকার সময় মামুনুর রশিদের পুত্র রিদুয়ান ইসলাম স্বচ্ছ কারো অনুমতি ছাড়া মোহাম্মদ আলীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলো। মোহাম্মদ আলী তাকে ছাদ থেকে নামতে বললে সে ও তার পিতা মামুনুর রশিদ হুমকি দিয়ে বলে যে আমি ও আমার পরিবারের লোকজনকে যেখানে পাবে সেখানে খুন-জখম করিয়া লাশ গুম করে ফেলবে, বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে জ¦ালিয়ে দিবে, মাদকদ্রব্য বাড়ির মধ্যে ফেলে দিয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিবে।

প্রতিপক্ষদের বাড়ির মহিলাদের দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দিবে। বাড়ির নাবাবলক শিশুদের জিম্মি করে মিথ্যা কথা বলিয়ে মোবাইলে রেকর্ড করে নিবে মর্মে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। এরপর তারা মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বাকবিতন্ডা করে এবং ছাদ থেকে নেমে তাকে মারতে আসে। তিনি তখন তাদের মার আটকিয়ে রিদুয়ানকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়। এখানে রিদুয়ানকে কোন মারধরের ঘটনা ঘটেনি। যা প্রত্যক্ষদর্শীরাও দেখেছেন। অথচ প্রতিপক্ষ মামুনুর রশিদ তার ছেলেকে আহত দেখিয়ে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে মেডিকেলে ভর্তি করে এবং চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মোহাম্মদ আলী আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোর্টে আত্মসমর্পন করে এবং জামিন পায়। এছাড়াও বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করার চেষ্টা করছেন তিনি এবং সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন। হুমকির বিষয়ে মোহাম্মদ আলী চন্দ্রিমা থানায় সাধারণ ডাইরি করতে গেলে পুলিশ আমার ডাইরি নেয়নি। পরে আমি রাজশাহী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-১ এ মামলা দায়ের করি, যার মামলা নম্বর ১৫১-পি/২০২২ চন্দ্রিমা। তিনি এ ঝুঁকিপুর্ণ ভবন এলাকাবাসীর পক্ষে দ্রুত অপসারণ দাবি করেন ও সমাজে শান্তি বিনষ্ট কারীদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত শেষে বিচার দাবী করেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এ ব্যাপারে দৃষ্টি করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রফিকুল ইসলাম, সাইফুল, শাহাবুদ্দিন, আসাদুল ইসলাম, মো: ডাবলু, ওবায়দুল, মেরাজুল প্রমুখ।

এ ব্যাপারে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অথরাইজড অফিসার মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, মোহাম্মদ আলীতো ইনফরমেশন দাতা। তিনি তো মামলা করতে পারবেন না। তাই তাকে কপি দেওয়ার প্রশ্ন উঠেনা। আমরা মামুনুর রশিদকে ভবন অপসারনের জন্য নোটিশ দিয়ে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তিনি মানেননি। এখন তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। সেটি এখন প্রক্রিয়াধীন।

এ ব্যাপারে মামুনর রশিদ বলেন, আমি কোন নোটিশ পাইনি। তাই অপসারন বা ভাঙ্গার কোন প্রশ্ন নাই। এ ব্যাপারে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, কেউ এরকম জিডি নিয়ে আসেননি।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপে