চারঘাটে কৌশল পরিবর্তন করে রাতের আধারে চলছে পুকুর খনন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২; সময়: ১:৫৪ pm |

নজরুল ইসলাম বাচ্চু, চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাটে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না পুকুর খনন। দিনে অভিযান চলায় রাতের আধারে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব। কৌশল পরিবর্তন করে রাতের আধারে আম বাগানসহ তিন ফসলী জমি নষ্ট করে চলছে ধ্বংসযজ্ঞ। এতে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা। যে কোন সময় পুকুর খননকারীদের সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। তাই দ্রুত এসব পুকুর খননকারীদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

জানা যায়, গত কয়েক মাসের ব্যবধানে চারঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে আম, কলা, বড়ইসহ বিভিন্ন ফলের বাগান ও ফসলী জমি ধ্বংস করে খনন করা হয়েছে প্রায় শতাধিক পুকুর। কখনও দিনের বেলায় আবার কখনও রাতের আধারে খনন করা হয়েছে এসব অবৈধ পুকুর। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারীর অভাবে রাতারাতি এসব পুকুর খনন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

তবে গত কয়েক দিন পুর্বে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় অবৈধ পুকুর খননের সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে স্থানীয় প্রশাসনে। তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চললেও কৌশল পরিবর্তন করে রাতের আধারে অবৈধ ভাবে পুকুর খননে মেতেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে শুধু আর্থিক জরিমানা করা হলৌ কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করায় থামছে না পুকুর খনন। ফলে কৌশল পরিবর্তন করে রাতের আধারে চলছে পুকুর খননের মহোৎসব।

গত কয়েকদিন ধরে সরজমিনে উপজেলার শ্রখন্ডি, জয়পুর, নিমপাড়া, পাইটখালি,সরদহ সাদিপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ওই এলাকার বিভিন্ন বাক্তির জমি লীজ নিয়ে সেখানে রাতের আধারে পুকুর খনন করছেন প্রভাবশালী কয়েকটি সিন্ডিকেট। স্থানীয় কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালীরা ওই সকল এলাকার কৃষি জমিতে অনেকটা জোর করেই চালিয়ে যাচ্ছেন অবৈধ পুকুর খনের মহোৎসব। প্রশাসনকে পাহারা দিতে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসিয়ে রাখছেন পাহারাদার। যাতে করে প্রশাসনের লোক আসলেই মাটি কাটা ভ্যাকু মেশিন ফেলে পালিয়ে যেতে পারেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী জানান, প্রভাবশালী ওই চক্রটি দিনের বেলায় পুকুর খনন বন্ধ রাখলেও রাতের বেলায় বীরদর্পে চালাচ্ছেন পুকুর খনন।তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। পুকুরের মাটি কেটে তা বিক্রি করছেন ইটের ভাটায়। আর এসব বহনের জন্য যে রাস্তা ব্যবহার করছেন তা ভেঙ্গে মানুষেল চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। মাত্র দু বছর আগে তৈরী নতুন পাকা রাস্তা শুধু অবৈধ পুকরের মাটি বহনের কারনে আজ তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে কাচা রাস্তা পাকা করলেও ব্যাক্তি স্বার্থের কাছে সব কিছুই নষ্ট হয়ে পড়ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিয়তি রানী কৈরী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি ভ্যাকু মেশিন জব্দ করে ব্যাটারী সিজ করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে অবৈধ পুকুর খনন। তার পরেও তিনটি পুকুরে করা হয়েছে আর্থিক ২ লক্ষ ২০ হাজার জরিমানা। ্এর পরেও রাতের আধারে পুকুর খননের সংবাদ পেলে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে