অপরাধ দমনে আরএমপির সাইবার ইউনিটের নানা উদ্যোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২২; সময়: ৩:১৪ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। পর্নোগ্রাফি, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, ওয়েবসাইট হ্যাকিং, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং করে টাকা উত্তোলন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারসহ সাইবার অপরাধ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এসব ক্ষেত্রে প্রতিকার চাওয়া তো দূরের কথা অনেক সময় সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে তা প্রকাশ করাও মুশকিল হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নিজেই বুঝতে পারেন না তিনি অপরাধের শিকার হয়েছেন।

এ ধরনের সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ২০২০ সালে ২৭ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। রাজশাহী মহানগরে যাতে কোনো ধরনের সাইবার ক্রাইম সংঘটিত না হয় এবং কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে পুলিশের স্বতন্ত্র এই ইউনিট কাজ শুরু করে।

আরএমপির কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধ দমনে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। যাতে নগরীতে সংঘটিত অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড দ্রুত সময়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। আরএমপি কমিশনারের এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে ফল দিয়েছে গত এক বছরে।

সেন্ট্রাল সিসি ক্যামেরা ইউনিট বা সাইবার ইউনিটের সাহায্যে গত এক বছরে বিভিন্ন ধরণের প্রমাণহীন তিন শতাধিক অপরাধের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড রয়েছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধেরও ধরণ বদলেছে। অপরাধ সংঘটনের কৌশলও বদলেছে অপরাধী চক্র। প্রচলিত ব্যবস্থায় এসব অপরাধীকে শনাক্ত করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আরএমপির সেন্ট্রাল সিসি ক্যামেরা বা সাইবারে ইউনিটের সাহায্যে ইতিমধ্যেই অনেক প্রমাণহীন গুরুতর অপরাধ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

আরএমপির সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের আওতাধীন পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। সেন্ট্রাল সাইবার ইউনিট, ১২টি থানা, ১২টি ফাঁড়িসহ বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সবগুলি ক্যামেরা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে। নগরীর প্রতিটি প্রবেশদ্বারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানে রয়েছে সিসি ক্যামেরা। সড়কের কোথাও জ্যাম সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে সাইবার ইউনিটের কন্ট্রোল কমান্ড থেকে বার্তা পাঠিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

আরএমপির সাইবার ইউটিনের অপারেশানাল এক্সপার্ট এসিপি উৎপল কুমার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আরএমপির সাইবার ইউনিটের সাহায্যে এ পর্যন্ত নগরীর বাসাবাড়ি ও সড়কে মোটরসাইকেল চুরির শতাধিক ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৩০টির বেশি ছিনতাই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে নগরীতে কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ম কমেছে।

এদিকে শুধু অপরাধ শনাক্তই নয়, সেই সঙ্গে ৫০টিরও বেশি সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ১০টির বেশি প্রমাণহীন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনসহ ২৭০টিরও বেশি অপরাধের রহস্য উদঘাটনসহ অপরাধী গ্রেপ্তারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছে সাইবার ইউনিট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে