দুর্গাপুরে নকল প্রসাধনী কারখানা সন্ধান, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৪, ২০২১; সময়: ২:৩৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : রাজশাহীর দুর্গাপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল কসমেটিক্স প্রসাধনী, প্রসাধনী তৈরির মেশিন ও কেমিক্যালসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হলেও শুক্রবার গণমাধ্যমের কাছে বিষয়টি জানান জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক রুহুল আমিন জানান, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সনাতন চক্রবর্তী মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই ইনামুল ইসলাম ও এসআই শামীম হোসেন সহ ডিবির একটি টিম বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে দূর্গাপুর বাজারে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, দূর্গাপুর বাজার হতে তাহেরপুর গামী পাকা রাস্তার পূর্ব পাশে জনৈক আতাউর রহমানের পুত্র আতিক আলীর (দোতালা বাড়ির নিচতলা) বাড়িতে বিভিন্ন কোম্পানির নাম নকল করে ভেজাল প্রসাধনী সামগ্রী তৈরী করছে।

রুহুল আমিন বলেন, উক্ত সংবাদ প্রাপ্ত হয়ে বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা গহনের জন্য মোবাইল ফোনে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তাঁদের দিক নির্দেশনায় উক্ত বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন কোম্পানির নাম নকল করে ভেজাল প্রসাধনী সামগ্রী ও সামগ্রী তৈরির মেশিন, বিভিন্ন প্রসাধনী কেমিক্যাল দ্বারা তৈরী ক্রীম, খালি কাগজের প্যাকেট ও ক্রীম তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল জব্দসহ কারখানার মালিক বেলপুকুর থানা এলাকার বাঁশপুকুরিয়া গ্রামের মৃত নাদের আলীর পুত্র নূর মোহাম্মদ (৩০), কারখানার কর্মচারী একই গ্রামের সাদের আলীর পুত্র রোস্তম @ রাজু (২৮) ও তার ভাই মোস্তাকিন আলী (২২) এবং একই গ্রামের আশরাফ আলীর পুত্র বিপ্লব হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা নকল প্রসাধনী তৈরি বাজারজাতের কথা স্বীকার করেছে।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ভেজাল প্রসাধনী ঢাকার চকবাজার সহ দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রয় করে থাকে। আসামীদের বিরুদ্ধে দূর্গাপুর থানায় ২৩ ডিসেম্বর The Special Powers Act, 1974 SECTIONS 25C (2) (a)/25-D ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৩। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্ত।

জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি স্টীলের তৈরী চার কোনা স্টানযুক্ত ও দুইটি চেম্বার বিশিষ্ট ভেজাল ক্রীম (প্রসাধনী) তৈরীর মেশিন। যার মূল্য প্রায় এক টাকা। একটি ড্রীল মেশিন দ্বারা তৈরী বেন্ড করার মেশিন। যার মূল্য প্রায় ৩ হাজা টাকা। দুইটি সীলভারের পাতিলে রক্ষিত ভেজাল সাদা ক্রীম জাতীয় পদার্থ ও ওজন পাতিল সহ ৪০ কেজি। যার মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। একটি নীল রংয়ের প্লাষ্টিকের জারকিনে ২০ লিটার তরল জাতীয় কেমিক্যাল। মূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা। সাদা পলিথিনে রক্ষিত প্রায় ১০ কেজি ওজনের জেল জাতীয় সাদা।

একটি খাকী রংয়ের বস্তার মধ্যে রক্ষিত সাদা পাউডার জাতীয় পদার্থ ২০ কেজি। একটি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তার মধ্যে রক্ষিত লতা হারবাল এর কাগজের তৈরী দেড় হাজার প্যাকেট। যার প্রতিটি প্যাকেটে লতা হারবাল স্কীন বাইট ক্রীম সহ বাংলা ও ইংরেজীতে আরো অন্যান্য লেখা আছে। একটি সাদা প্লাষ্টিকের বস্তার মধ্যে রক্ষিত লতা হারবাল কোং লেবেল যুক্ত প্লাষ্টিকের ২ হাজার কোটা । উদ্ধারকৃত এসব মালামালের সর্বমোট মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার মতো বলেও জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে