বাঘায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের উপরে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২১; সময়: ৮:৩৯ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর লোকজনের উপর হামলার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক অধ্যক্ষ নুর মোহাম্মদ তুফানকেসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো- জয় ইসলাম.উজ্জল হোসেন ও আশিক রহমান।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) সকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মোটরসাইকেল ভাংচুর সহ তার আ’লীগ দলীয় সমর্থিত লোকজনকে মারপিট করে আহত করার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (০৪-১২-২০২১) রাত সাড়ে ১১টায় বাউসা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাউসা টলটলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আগামী ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপে উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক ও ইউনিয়নটির সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন একই দলের উপজেলা আ’লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ তুফান। শনিবার রাতে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর মোহাম্মদ তুফানের বাড়িতে যান উপজেলা ও ইউনিয়ন আ’লীগের স্থানীয় নের্তৃবৃন্দসহ দলীয় প্রার্থী নিজেও।

নূর মোহাম্মদ তুফান তাদের সাথে দেখা না করে কৌশলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। স্থানীয় নেতারা দাবি করে বলেন,পরে নূর মোহাম্মদ তুফান তার সমর্থিত লোকজন দিয়ে মাইকে ঘোষনা দেওয়ান তার বাড়িতে বহিরাগত দুষ্কৃতিকারিরা হামলা করেছে। এই খবরে স্থানীয় লোকজন লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আ’লীগ দলীয় প্রার্থীর পক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায়। তারা দুটি মোরটসাইকেল ভাংচুরসহ মারপিট করে অন্তত ১৫ জনকে আহত করে। আহত রানা হোসেন, শরিফুল ইসলাম, শিহাব উদ্দীন, হিমেল হোসেন, শিমুল আলীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর মোহাম্মদ তুফানের স্ত্রী রোজিনা আক্তারী পলি বেগম বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আ’লীগ দলীয় প্রার্থীর ৩০/৩৫টি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেট কার নিয়ে ৬০/৭০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাসার সামনে দাড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও লাঠি সোটা দিয়ে বাড়ির গেট ভাংচুরের চেষ্টা করে। এ সময় আমার স্বামী বাড়িতে ছিলনা। স্থানীয়রা, দলীয় প্রার্থীর লোকজন কর্তৃক হামলার বিষয়টি বুঝতে পেরে মসজিদের মাইকে জানান, আমার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে । স্থানীয় লোকজন জড়ো হওয়ার পর দলীয় প্রার্থীর সমর্থকরা চলে যায়। তবে রাতের অন্ধকারে আমার স্বামীর পক্ষের লোকজনের মারধরে ২/৩ জন আহত হয়েছে।

নুর মোহাম্মদ তুফানের স্ত্রী রোজিনা আক্তারী পলির দাবি, আমার স্বামী বাড়িতে হামলার অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে জানতে পারি আমার স্বামীসহ তার পক্ষের লোকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় আরো ৩জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ আমার স্বামীর দেওয়া অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আ’লীগ দলীয় প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক বলেন, নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। মাইকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাড়িতে হামলার ঘোষনা দেওয়ায় , এলাকার লোকজন দেশীয় অন্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এতে তার লোকজন আহত হয়েছে। এছাড়া দুই জনের দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে। কেউ কেউ আত্নরক্ষায় সেখান থেকে চলে এসেছে।

উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, নুর মোহাম্মদ তুফানের মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে কয়েক দফা কথা বলেছি। কিন্তু কোন সাড়া না পেয়ে আমি নিজেও নেতা কর্মীদের নিয়ে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি দেখা করেননি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যখন পায়নি, তখন চলে আসছিলাম। হঠাৎ মাইকে ঘোষনা দেওয়া হয় বহিরাগত দুষ্কৃতিকারিা নুর মোহাম্মদ তুফানের বাড়িতে হামলা করেছে। এর পরেই লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে ধাওয়া করে। কয়েকজন আটকে পড়লে তাদের মারধর করে মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক জাহিদ হোসেনসহ কয়েকজনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করি। পৃথক দু’টি অভিযোগের একটিতে উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াহিদ সাদিক কবির বাদি হয়ে ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ মামলায় নুর মোহাম্মদ তুফানসহ তার পক্ষের ৪জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নুর মোহাম্মদ তুফানের দায়েরকৃত অভিযোগটি জিডি করা হয়েছে। সেটিও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে