কাটাখালীর মেয়র আব্বাসের অবৈধ আয় মাসে দুই কোটি টাকা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২১; সময়: ১:২৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : বালুর ঘাট থেকে দিনে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আসে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর হাতে। আর খড়খড়ি হাট থেকে পান আরও এক থেকে দেড় লাখ টাকা। এছাড়াও যানবাহনে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি থেকে আসে লাখ টাকার উপরে।

বিশেষ করে বালুর ট্রাক প্রতি চার/পাঁচশো টাকা চাঁদা তুলে এই মেয়র। হাটে টোলের নামে আদায় করা হয় কয়েকগুন বেশী অর্থ। সেই হিসাবে হাট, ঘাট ও যানবাহনে টোলের নামে চাঁদা থেকেই মাসে অন্তত দুই কোটি টাকা আসে মেয়রের পকেটে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর সামনে এসেছে মেয়রের টাকার পাহাড়ের তথ্য। সোমবার (২২ নভেম্বর) রাতে মেয়র আব্বাস আলীর কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয়। ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপটিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বানালে ‘পাপ হবে’ এমন কথাও বলতে শোনা গেছে মেয়রকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের শেষের দিকের আলোচনার কিছু অংশের রেকর্ড এটি। গত আগস্টের মাঝামাঝিতে নিজ দফতরে ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই বৈঠক করেন মেয়র। সরকারি নালার ওপর দোকান নির্মাণের উদ্দেশ্যেই ওই বৈঠক আয়োজন ছিল।

বৈঠক শেষে বৃষ্টিতে আটকে পড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন মেয়র। ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপটি এরই অংশ বিশেষ। এর ঠিক আগে মেয়র আব্বাস নিজের বিপুল আয়ের বিবরণ দিতে শোনা যায়। অডিও ক্লিপের এই অংশটিও ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হাতে হাতে।

তাতে মেয়র আব্বাস আলীকে বলতে শোনা যায়, ‘বাড়ি করতে গিয়ে মাটির তলেই তো এক কোটি টাকা চলে গেছে। একটা মানুষের কত টাকাই বা আর লিকুইড মানি থাকে?’ এ সময় তার আশেপাশে থাকা লোকজন তার তারিফ করে বলেন, রাজশাহীর মধ্যে তার বাড়িটা সবচেয়ে ভালো করতে হবে।

তার কথার পিঠে মেয়র আব্বাস আলী নিজের আয়ের হিসেব দেন। তিনি বলেন, ‘গতবার বালুর ঘাট ৬ কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন তারা ৪ জন মিলে। সেখানে তার মোট আয় হয়েছিল ১৯ থেকে ২০ কোটি টাকা। এবার ১০ কোটি টাকায় নিয়েছেন। সেখানে তার অংশীদারত্ব ৩০ শতাংশ। সে অনুযায়ী তিনি প্রতিদিন ঘাট থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করেন।’

খড়খড়ি হাট বাৎসরিক ৪০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন উল্লেখ করে মেয়র আব্বাস আলী বলেন, ‘ওই হাট আগে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হতো। সেখান থেকে দিনে তিনি এক লাখ টাকার কিছু বেশি আয় করেন। তবে এখন প্রতিকূল মৌসুমে আয় কিছুটা কম।’

তিনি যোগ করেন, ‘এই এক দুই মাস পর বেলঘড়িয়া রোডে আমার যে মার্কেট আছে, তার কাজ কমপ্লিট হয়ে গেলে আবার সব ঠিক হয়ে যাবে।’ সোমবার রাতে মেয়র আব্বাস আলীর কথোপকথনের অডিও ভাইরালের উত্তাল হয়ে ওঠে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গন।

এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে পৌর মেয়র আব্বাস আলীর নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিনটি অভিযোগ দাখিল করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তিন কাউন্সিলর।

এনিয়ে বুধবার (২৪ নভেম্বর) দিনভর বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে রাজশাহীতে। এরই মধ্যে বিকেলে দলীয়শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলীয় পদ থেকে আব্বাস আলীকে অব্যাহতি দেয় পবা উপজেলা আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোরও নোটিশ দেওয়া হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্বাস আলী কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদে ছিলেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে গত পৌর নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগের মেয়াদেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে মেয়র হন আব্বাস।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে