ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২১; সময়: ৭:৫০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহাত্মা গান্ধীর জীবনীনির্ভর তথ্যচিত্রের দশ দিনব্যাপী ডিজিটাল প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রদর্শনের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক জানতে পারবে তরুণ প্রজন্ম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর ভারতের তৎকালীন ভারতীয় সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, নিজেদের নানা সমস্যা সত্ত্বেও ভারত সরকার বিপুল সংখ্যক শরনার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

বিশেষ করে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্ধিরা গান্ধীর অবদান বাংলাদেশ কোনো দিনই ভুলে যাবে না। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তিনি ‘বঙ্গবন্ধু – বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী’র সাফল্য কামনা করেন। বন্ধুত্বের এই সম্পর্ক অটুট রাখতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ভারত-বাংলাদেশ যৌথভাবে মৈত্রী দিবস উদযাপন করবে।

শনিবার বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের যৌথ উদ্যোগে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাট্টি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক ও রাজশাহী পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।

অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রফেসর আব্দুল খালেক, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আনিকা ফারহানা জামান অর্না প্রমুখ।

এই প্রদর্শনীতে ১৯৪৭ সালের অগাস্ট মাসে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানের সাক্ষাতের একটি ছবি প্রর্দশনীতে রাখা হয়েছে। এটি একমাত্র ছবি যেখানে দুই নেতাকে একই ফ্রেমে দেখা যাচ্ছে। দর্শনার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ভিডিওর মাধ্যমে দিতে পারবে। এছাড়া দুই নেতার সাথে ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি তোলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষকে স্মরণ করতে এবং মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্ম বার্ষিকী ও ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন মর্যাদাপূর্ণ এই ডিজিটাল প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে