বাগমারায় বিএনপির সাংগঠনিক পদে প্রতিদ্বন্দ্বি জেএমবি নেতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২১; সময়: ৩:৫৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইউনিট গঠনের প্রায় ২০ বছর পর প্রথমবারের মত সম্মেলন হচ্ছে রাজশাহীর তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির। শনিবার তাহেরপুর মাদ্রাসা মাঠে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে প্রথমবারের মত গণতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করারও উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ন তিনটি পদে নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। এগুলো হলে, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ। ৪৫ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে তাদের নেতা নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি।

তবে দেশের শীর্ষ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর এক সময়ের নেতা এবার এই পৌরসভা বিএনপির গুরুত্বপূর্ন পদ পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। আবেদন করে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন এক সময়ের শীর্ষ জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগি হিসেবে পরিচিত ওই জেএমবি নেতা।

দলীয় সূত্রেমতে, ১৯৯৮ সালে তাহেরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর ২০০১ সালের দিকে তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির ইউনিট গঠন করা হয়। তবে ইউনিট গঠনের ২০ বছর অতিবাহিত হলেও একবারও সম্মেলন হয়নি দলটির। প্রতিবারও জেলা বা কেন্দ্র থেকে কমিটি করে দেয়া হয়েছে।

সম্মেলন আয়োজক কমিটির আহবায়ক কাইজার রহমান জানান, এবার তিনটি পদে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচন করা হবে। এগুলো হলো, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক। ইতোমধ্যেই পদ প্রত্যাশীরা আবেদন করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য।

তিনি বলেন, সভাপতি পদের জন্য শুধুমাত্র সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র শামসুর রহমান মিন্টু আবেদন করেছেন। তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বি নেই। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম বাবু ও ইসমাইল হোসেন আবেদন করেছেন।

এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আবুল হোসেন, আব্দুল ওহাব সরকার ও সাইফুল ইসলাম বাগাতি আবেদন করেছেন। ফলে সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, ৪৫ জন কাউন্সিলর নেতা নির্বাচনে ভোট দিবেন। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে পাঁচজন করে কাউন্সিলর মনোনিত হয়েছেন।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেএমবির শীর্ষ নেতা বাংলা ভাইয়ের অন্যতম সহযোগি ছিলেন সাইফুল ইসলাম বাগাতি। তার বিরুদ্ধে জঙ্গি নাশকতা কর্মকান্ডের দুইটি মামলা রয়েছে। বাগমারা ও চারঘাট থানার এই দুইটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দেড় বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে একদিন থানায় হাজিরা দেয়ার শর্তে তিনি জামিনে আছেন।

বিতর্কিত এই জেএমবি নেতা এবার তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই সঙ্গে পদ পেতে কাউন্সিলরদের বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেনও তিনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সম্মেলনের প্রস্ততি সভায় এ বিষয়টি উঠে। এছাড়াও এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে সাইফুল ইসলাম বাগাতির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাগমারা ও চারঘাট থানায় তার বিরুদ্ধে দুইটি নাশকতার মামলা হয়েছে। দুটি রাজনৈতিক মামলা। নিজে জেএমবির কোন কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, এ সরকার বিএনপির লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে মামলা দিয়ে জঙ্গি বানিয়েছে, জেলে পুরেছে । এতে কে জঙ্গি আর কে জেএমবি সেটা বলা মুসকিল। তবে সে বিএনপি করেছে এবং বর্তমানেও করছে কি না সেটাই এখন বড় বিষয়। কাউন্সিলররা যাকে চাইবেন তারাই নেতৃত্ব পাবেন বলেও দাবি করেন জেলা বিএনপির এই নেতা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে