রাজশাহীতে কথিত চিকিৎসকের ওষুধে মৃত্যু শয্যায় শিশুটি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২১; সময়: ৩:২০ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর কাটাখালীতে চিকিৎসক সাজা কথিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পরামর্শে ওষুধ সেবন করে আবদুর রাফি নামের সাত বছরের এক শিশু মৃত্যু শয্যায়। শিশুটি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর নিজেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দাবি করা ওই ব্যক্তির নাম মফিজুল হক। কাটাখালী বাজারে তার একটি চেম্বার আছে। সেখানে তিনি নিয়মিত রোগীদের চিকিৎসা দেন।

রাফির ফুফু রানী বেগম জানান, ছেলের দাঁতের কামড় ব্যথা হয়েছিল। তারপর ওই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি একটা দাঁত তুলে দেন। বাড়িতে এসে ছেলে আর দাঁতের ব্যথায় বাঁচে না। ৭ সেপ্টেম্বর আবার তাঁর কাছে নিয়ে গেলে তিনি একটি সিরাপ লিখে দেন। ওই সিরাপ খাওয়ানোর পরপর ছেলে ছটফট করতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলের ঠোঁট-মুখ ফুলে যায় আর গায়ে ফোসকা পড়তে থাকে।

পরদিন রাফিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখানো হয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হয়। ৯ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সে আর ঠিকমতো চোখ মেলতে পারছে না। সারা শরীরে পুড়ে যাওয়ার মতো ফোসকা পড়েছে। লিঙ্গ ফুলে উঠেছে। প্রস্রাব করতেও পারছে না।

শিশুটিকে চিকিৎসা দেওয়া কথিত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মফিজুল হকের ব্যবস্থাপত্রে দেখা যায়, তার চেম্বারের নাম ভাই ভাই ডেন্টাল কেয়ার। ব্যবস্থাপত্রে তার নামের পরে লেখা রয়েছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), এফটি, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ রেজি. নম্বর ৭৬৫৩।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকেরাই এই নিবন্ধন নম্বর পেয়ে থাকেন। তবে তার নিবন্ধন নম্বরটি ভুয়া। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এই নামের কোনো ডিগ্রি দেওয়া হয় না।

মফিজুল হক বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ইন্টার্নশিপ করেছিলেন, তাই তিনি নামের শেষে এই হাসপাতালের নাম লিখেছেন। রেজিস্ট্রেশন নম্বর কোথায় পেলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এরপর যত প্রশ্ন করা হয়েছে। তার কোনোটিরই উত্তর না দিয়ে তিনি শুধু বলেছেন, রোগীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আবার সাংবাদিক কেন!

হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান বেলাল হোসেন বলেন, আজ শিশুটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এটা হয়েছে। তাকে যে সিরাপটি দেওয়া হয়েছিল, সাধারণত খিঁচুনি হলে তা দেওয়া হয়। কিন্তু তার খিচুনি ছিল না। দাঁতব্যথা ছিল।

এদিকে, মফিজুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে শিশুটির পরিবার মঙ্গলবার কাটাখালী থানায় গিয়েছিল। তবে অভিযোগ না নিয়ে থানা থেকে ওই শিশুর পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর অভিযোগ জানায়।

  • 171
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে