রাজশাহীর ৫৪৭ মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলতে চলছে জোর প্রস্তুতি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২১; সময়: ৯:৫৬ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনায় বিপর্যস্থ জীবন ক্রমশই স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৯ দফা নির্দেশনাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনার আলোকে রাজশাহীর ৫৪৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় খুলতে চলছে জোর প্রস্তুতি। ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার খবরে সবচেয়ে বেশি আনন্দ উচ্ছ্বাস জানিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা সবাই আছেন বিদ্যালয় খোলার অপেক্ষায়। নগরী ও উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, থার্মোমিটারের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরেজমিন বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ধোয়া মোছার কাজ চলছে। বেঞ্চগুলোও ইতোমধ্যে পরিষ্কার করা হয়েছে। পরিপাটি কলেজের আঙিনা যেন শিক্ষার্থীদের অপেক্ষার প্রহর গুনছে।

নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নাফিসা তাসনীম জানান, বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে এসেছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে ক্লাস করে একঘেয়েমি এসে গেছে। পড়াশোনায় মজা পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ স্কুল খোলার কথা শোনার পর অনেক ভালো লাগছে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী সুমি আক্তার, সুমনা ও সোনালী বলেন, বিদ্যালয় খুলছে। আমরা অনেক খুশি। আবারও প্রিয় বিদ্যালয় মুখরিত হয়ে উঠবে।

নগরীর মডেল স্কুলের শিক্ষার্থী সোহেল রানার বাবা কাশেম আলী বলেন, স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। লেখাপড়ায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এ থেকে উত্তরণে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

কয়েক অভিভাবক জানালেন, করোনা মহামারির কারণে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার ফলে সন্তানদের মধ্যে অধৈর্য, বিরক্তি এবং বাইরে যেতে ভয় পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এমনকি তাদের মধ্যে মানসিক চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনলাইনে ক্লাস ও অটো পাশের ফলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন থেকেও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। তাই তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলা করেই স্বাভাবিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান।

অপর এক অভিভাবক জানান, তার সন্তানকে আগে মোবাইল, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ হাতে তুলে দিতেন না। কিন্তু অনলাইন ক্লাস করতে করতে তারা মোবাইলে ফোনে এখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সারাদিন বাসায় থাকতে থাকতে মানসিকভাবেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত সে। গেমসের আসক্তি বেড়েছে। খিটখিটে মেজাজ সারাদিন থাকে। তাই তিনি চাইছেন তার সন্তানকে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্কুলে পাঠাতে।

নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গেও বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ থাকলে সন্তানদের স্কুলে না পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য থার্মোমিটার, মেডিকেল কপাল ইনফ্রারেড থার্মোমিটার, ফাস্ট এইড বক্স, বিভিন্ন ধরনের জিবাণুনাশক, রুম স্প্রে, হ্যান্ডওয়াশ ও ডেটলসহ শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানান তিনি।

পবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শিরীন মাহবুবা জানান, পবা উপজেলায় মোট ৫৩ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তারা করোনা প্রতিরোধক টিকা নিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে একটি টিম প্রতিদিন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রস্তুতির বিষয়ে সরজমিনে গিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাজশাহী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন জানান, মাধ্যমিক স্তরের প্রতিষ্ঠান খুলতে প্রস্তুতি চলছে। এরইমধ্যে তারা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। প্রতিষ্ঠানেরগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক। আর প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা পরিমাপের যন্ত্র কিনতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান খোলার আগেই সেগুলো কেনা হয়ে যাবে। সর্বোপরি সরকারি নির্দেশনা মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে যাবতীয় প্রস্তুতি তারা নিচ্ছেন এবং তদারকি করছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে