টেইলার্স ও ইউনিফর্মের দোকানে উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১; সময়: ১০:৩৮ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনার মহামারিতে দেড় বছরেরও বেশি সময় বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলতে যাচ্ছে স্কুল-কলেজ। এমন খবরে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম ও টেইলার্সের দোকান গুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়।

গার্মেন্টেসের কর্মরত দর্জিরা জানাচ্ছেন, এমন পরিস্থিতিতে স্কুল খোলার খবরে ইউনিফর্ম ও টেইলার্সের দোকানে উপচে পড়া ভিড় থাকাটাই স্বাভাবিক। ইদের সময় যেমন ভিড় থাকে এখন ঠিক ঐ রকম হয়ে আছে। গত কয়েকদিন থেকে প্রচুর অর্ডার আসছে ও রেডিমেট ড্রেস বিক্রি বেড়েছে অনেক বেশি। বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর)রাজশাহীর চাঁদনী চক সুপার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় ইউনিফর্মের দোকান গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড়ে পা রাখা দায়।

ভেতরে ডুকে কথা হয় ফয়সল গার্মেন্টের ম্যনেজার আব্দুল মালেকের সাথে। তিনি জানান, স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষনার পরে থেকেই প্রতিদিন সবমিলে এক হাজারের বেশি রেডিমেট ইউনিফর্ম বিক্রি হচ্ছে ও অর্ডার পাচ্ছি। আগে এমন ছিলো না। আমাদের কাছে রেডিমেড স্কুল-কলেজের সকল ড্রেস বিক্রি হয়। পাশেই তাদের জুতার দোকান সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। এক ছোট শিক্ষার্থীর পায়ে জুতা পড়িয়ে দিচ্ছে কর্মচারি জুয়েল। তিনি জানান, এখন কথা বলার সময় নেই। দেখছেন তো অনেক সিরিয়াল। দোকানে জুতা কেমন আছে ? তিনি জানান, দোকানে অনেক মাল মজুদ আছে আর ঢাকাতেও অর্ডার দেওয়া আছে সেগুলো আসছে।

আরেক কর্মচারি আকাশ জানান, স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষনার সাথে সাথে অভিভাবকরা আসছে। আমাদের মোকামেও কর্মরত দর্জিরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। কথা হয় কয়েকজন অভিভাবকদের সাথে তারা জানাচ্ছেন, দীর্ঘ দেড় বছরে অনেকের ইউফর্মগুলোত দৈর্ঘ্য-প্রস্থ কমে গেছে। কারো কারো ইউনিফর্ম ঘর মোছার ন্যাকড়া, ফার্নিচার মোছার কাপড়ে পরিণত হয়েছে। কিছু ইউনিফর্ম হয়েছে ইঁদুরের খাবার।

শিক্ষক আতিকুর রহমান তার দুই ছেলের জন্য রেডিমেট স্কুল ড্রেস কিনতে এসেছেন। তিনি জানান, বাচ্চাদের যে ড্রেস ছিলো সেগুলো এই দেড় বছরে কিছুটা ছোট হয়ে গেছে। তাই নতুন ভাবে তাদের নিয়ে ড্রেস কিনতে এসেছি। তার ছোট ছেলে আরিয়ান জানান, আমার যে স্কুল ড্রেস ছিলো সেটা আলমারি থেকে আম্মু বের করে দিয়েছিলো পড়েছি কিছুটা ছোট হয়ে গেছে।

রাজশাহী পলেটেকনিক ইউনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ফয়সাল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় পর কলেজে যাবো। আগেও যে ড্রেস ছিলো তা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই ড্রেস কিনতে এসেছি। এখানে রেডিমেট ড্রেস পাওয়া যায়। পাশেই শিক্ষার্থীদের জুতার দোকান সেখানেও উপচে পড়া ভিড়। রোমেনা আফরোজ নামেক এক অভিভাবক জানান, বাচ্চার জন্য ড্রেস কেনা শেষ এখন জুতা নিচ্ছি। এমন ভিড় এর আগে কখনো দেখিনি। মনে হচ্ছে ইদের মার্কেটে এসেছি।

মিজানুর রহমান নামের আরেকজন অভিভাবক জানান, প্রায় ২০ মিনিট আগে এসেছি এখন সিরিয়ালে আছি। দেখছেন তো কি অবস্থা। বাচ্চার জুতা কিনতে হবে। স্কুলের জন্য যে জুতা ছিলো দীর্ঘ সময়ে তা কিছুটা ছোট হয়ে গেছে। মেহেদী হাসান নামের আরেক শিক্ষার্থী জানান, গতকাল স্কুলের ড্রেস নিয়েছি।

জুতা নেওয়া হয়নি আজ জুতা নিতে এসেছি। স্কুলে নতুন জুতা পড়ে যাবো। পাশেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য মায়ের দোয়া গার্মেন্টসহ আরো কিছু গার্মেন্টেসে উপচে পড়া ভিড় লক্ষা করা গেছে।

  • 21
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে