রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১; সময়: ১১:৫৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির অধিভুক্ত ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেসের অধ্যক্ষকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই অধ্যক্ষের কাছ থেকে নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপকের সহকারীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরের মতিহার থানায় অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান এ বিষয়ে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এতে অভিযুক্ত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এফ এম আলী হায়দারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিন দুপুরে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভার মাসকাটাদিঘি এলাকায় ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেসের সেমিনারকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দেওয়া অভিযোগে হাফিজুর রহমান উল্লেখ করেছেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এফ এম আলী হায়দার ও নাটোরের সিংড়ার মুকুল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে চার-পাঁচজন বহিরাগত বেলা আড়াইটার দিকে ইনস্টিটিউটের সেমিনারকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে তখন পরিচালনা পর্ষদের সভা চলছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সভার রেজল্যুশন বইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নেন।

এতে বাধা দিলে পরিচালনা পর্ষদের সামনেই তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারা হয়। আত্মরক্ষার জন্য তিনি (অধ্যক্ষ) সেমিনারকক্ষের বাইরে গেলে মুকুলসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন আবার তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁরা অধ্যক্ষের জামার পকেটে এবং অফিস থেকে ইনস্টিটিউটের নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন।

অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সামনে পরীক্ষা। তাই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসচিব হিসেবে সভায় তিনি আলোচ্য সূচি পড়ে শোনাচ্ছিলেন। এমন সময় আলী হায়দারসহ অন্যরা প্রবেশ করেন।

২০১৯ সালের ২৩ জুলাই থেকে দুই বছরের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট অধ্যাপক এফ এম আলী হায়দারকে ইনস্টিটিউট অব বায়োসায়েন্সেসের অবৈতনিক পরিচালক থাকার অনুমতি দেয়। বর্তমানে তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ কারণে তিনি সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন না এবং সভা বন্ধও করতে পারেন না।

বুধবার দুপুরে এফ এম আলী হায়দার সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা চারজন মিলে ওই প্রতিষ্ঠানটি করেছেন। কিন্তু তাঁদের না জানিয়েই সভা ডাকা হয়। আর তাঁকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক করেছেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হলে তিনি দরখাস্ত দিয়েছেন। কিন্তু গত মে মাস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য শূন্য ছিল। এ কারণে তা পাস হয়নি।

মারধরের বিষয়ে আলী হায়দার বলেন, তাঁর বয়স ৫৭ বছরের বেশি। তিনি এই শরীরে কীভাবে মারধর করবেন। হাফিজুর যখন খাতা দিয়ে তাঁকে মারতে আসেন, তখন ধাক্কা দিলে তিনি (হাফিজুর) পড়ে যান। তাঁর ভাতিজা মুকুলও সেদিন সেখানে ছিলেন না। কোনো ধরনের টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেনি। এগুলো অবান্তর। এই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮০ এর বেশি। তাঁদের পরীক্ষা সামনে। তাই বিষয়টি মিটমাট করা হবে।

নগরের মতিহার থানার ওসি আনোয়ার আলী বলেন, তিনি এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

  • 80
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে