রাজশাহী পাউবোর প্রকৌশলীদের মধ্যে বাড়ছে বিভেদ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১; সময়: ২:৪২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রশাসনিকভাবে অদক্ষতার কারণে পাউবো রাজশাহীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অসন্তোস দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলাও চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আবার কখনো ঠিকাদারদের বাধা প্রদান নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যেও অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এসব বিষয়ে পাউবোর শীর্ষ দফতর থেকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলেও শুধুমাত্র উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলীর অদক্ষতার কারণে কোনো সমাধান হচ্ছে না, অসন্তোস ক্রমেই বৃষ্টি পাচ্ছে। এতে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিভেদ তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, পাউবো রাজশাহীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী একেএম শফিকুল হকের উদাসিনতা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে অপরগতা ও দফতরে বসে থেকেই অনৈতিক আচরনের কারণে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

রাজশাহী পাউবোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে একেএম শফিকুল হকের যোগদান করার পর থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে নানা কারণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের অগ্রগতি হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা ও মহাননন্দা থেকে কোনো টেন্ডার ছাড়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী মেসার্স সাজিদ এন্টারপ্রাইজ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হন। এ নিয়ে পাউবো সদর দফতরে এলাকাবাসী অভিযোগ দেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে সদর দফতর থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির সদস্যরা তদন্ত করে এলাকাবাসী অভিযোগে সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পাউবো শৃঙ্খলা অধিদফতর থেকে প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও নানা অজুহাতে কালক্ষেপন করে চলেছেন।

এ নিয়ে স্থানীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঠিকাদার সমিতির পক্ষ থেকে গত কোরাবানীর ঈদের আগে প্রভাবশালী ঠিাকাদারী প্রতিষ্ঠান সাজিদ এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেন নি প্রধান প্রকৌশলী।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত সাজিদ এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহনের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না প্রধান প্রকৌশলী একেএম শফিকুল হক। এ নিয়ে সেখানে ঠিকাদারদের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ক্রমেই অসন্তোস দেখা দিয়েছে। এছাড়া গত ২৪ মে নাটোর পাউবোর পওর শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হানকে লাঞ্চিত করা হয়।

জানা গেছে, আবু রায়হান রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসিবুল ইসলামের সঙ্গে প্রকৌশলী হয়েও যোগসাজস করে ঠিকাদারী ব্যবসায় নামেন। এ নিয়ে নাটোরের ঠিকাদার সমিতির পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করা হয়।

এক পর্যায়ে স্থানীয় ঠিকাদার ও হাসিবুলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মীর নাফিউল ইসলাম অন্তর ও মীর আমিরুল ইসলাম জাহান আবু রায়হানের ওপর হামলা চালায়। তাকে বেদম মারধর করেন। এনিয়ে থানায় মামলা হলে অভিযুক্তরা গ্রেফতারও হন। প্রকৌশলীরা নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

পরে এ বিষয়ে রাজশাহী থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির প্রদান করা হয় রাজশাহী পাউবোর তত্বাবধায়ক প্রকৌশীকে। তবে তিনিও এ নিয়ে কোনো অগ্রসর হন নি। আর নাটোরের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রধান প্রকৌশলী একেএম শফিকুল হককে বলা হলেও এখনো তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেন নি। ফলে নাটোরেও অসন্তোস দেখা দিয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে, সর্বশেষ গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর চারঘাটে ‘চারঘাট-বাঘা পদ্মা নদীর বামতীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবানের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর ওপর চাদা দাবি করে স্থানীয় মাস্তানরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় চারঘাট থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলীকের অবগত করা হয়েছে। তবে তিনি কোনোভাবেই এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণে অগ্রসর হচ্ছে না।

সংশ্লিস্টরা জানান, প্রধান প্রকৌশলী ঘরে বসেই দায়সারভাবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিভিন্ন দিকে নদীভাঙ্গন দেখা দিলেও তিনি একদিনও কোথায় সরেজমিন পরিদর্শনে যান নি। অধিনস্ত প্রকৌশলীরা বারবার লাঞ্ছিত হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। এ নিয়েই মুলত ক্ষোভ ও অসন্তোস বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলের পাউবো দফতরে।

এনিয়ে তার বিরুদ্ধে রাজশাহী পাউবো ঠিকাদাররাও সম্প্রতি বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তারা বলেন, গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে একেএম শফিকুল হক যোগদান করার পর থেকেই নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।

রাজশাহী পাউবো ঠিকাদার সমিতির সভাপতি মাহফুজুল আলম লোটন বলেন, প্রধান প্রকৌশলীর অদক্ষতার কারনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিস্টদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিভেদ মাথা চাড়া দিচ্ছে। এ নিয়ে বড় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

এসব বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী একেএম শফিকুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি, কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি। বরং নিজেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

  • 112
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে