রামেকের করোনা ইউনিটে মৃত্যু আরও ১০

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১; সময়: ১০:০৪ am |

নিজেস্ব প্রতিবেদক : গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সোমবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে তারা মারা যান।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে হাসপাতালে কোনো রোগী মারা যাননি। তবে করোনার উপসর্গ নিয়ে ১০ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে রাজশাহীর ছয়জন, নওগাঁর তিনজন এবং নাটোরের একজন রয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের মরদেহ দাফনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সাতজন মারা গেছেন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)। এ ছাড়া ৩, ১৪ ও ২৯/৩০ নম্বর ওয়ার্ডে একজন করে মারা গেছেন।

পরিচালক আরও জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৮৬ শয্যার রামেক করোনা আইসোলেশন ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিলেন ১৩৩ জন। এক দিন আগেও এই সংখ্যা ছিল ১৪৫।

বর্তমানে রাজশাহীর ৬৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৮ জন, নাটোরের ১৮ জন, নওগাঁর ৯ জন, পাবনার ১২ জন, কুষ্টিয়ার ১১ জন, চুয়াডাঙ্গার একজন এবং জয়পুরহাটের একজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে করোনা নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫১ জন। করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৬০ জন। করোনা ধরা পড়েনি ভর্তি ২২ জনের। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৪ জন। এই এক দিনে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২২ জন।

এর আগে রোববার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ল্যাবে ১৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা ধরা পড়েছে ২২ জনের নমুনায়। একই দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আরও ৪৮১ জনের। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৫ জনের। পরীক্ষার অনুপাতে রাজশাহীর ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ, নাটোরের ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ, জয়পুরহাটের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৮৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ নমুনায় করোনা ধরা পড়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি সেপ্টেম্বরের এই ছয় দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৪৭ জন। এর মধ্যে করোনায় ১৬ জন, করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ২৪ জন এবং করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

এর আগে গত আগস্ট মাসে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৩৭৪ জন। এর মধ্যে করোনায় ১৫৪ জন, করোনা সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে ১৮৬ জন এবং করোনা নেগেটিভ সত্ত্বেও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

  • 79
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে