রাজশাহীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার আন্দোলনে হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২১; সময়: ৯:১৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষক-নাগরিক এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের বাধা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ছাত্র-শিক্ষক-নাগরিকে এ প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের সবকিছু খুলে গেছে। করোনার সংক্রমণও কমে গেছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা চোখে পড়ছে না। সরকার শিক্ষার্থীদের ভয় পায় বলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিচ্ছে না। গতকাল (বুধবার) রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতে একদল সরকারদলীয় কর্মী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। পুলিশ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ পত্রপত্রিকায় হামলাকারীদের ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে। তাঁরা পুলিশকে দ্রুত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বেসরকারি নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এনবিআইইউ) শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি রাগিব আহসান, রাজশাহী জেলা গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক মুরাদ মোর্শেদ, রাকসু আন্দোলন মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল মজিদ, শিক্ষার্থী মহব্বত হোসেন, নাদিম সিনা, সজিব, মাসুদ রানা প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন এনবিআইইউর শিক্ষার্থী জান্নাতুল সাবিরা।

সমাবেশে অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি নিয়ে গতকালকে এখানে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়েছিল। তাদের সংখ্যা যতই কম হোক না কেন, এটা যে ন্যায়সংগত ছিল, ছাত্র-শিক্ষকসহ সবার প্রাণের দাবি এটা সবাই জানে। কিন্তু এ রকম একটি কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। সরকার এতটাই ভয়ে আছে যে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী ন্যায়সংগত দাবি নিয়ে দাঁড়ালেও তাদের সহ্য হচ্ছে না।

রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান বলেন, ছাত্রদের গায়ের রক্তের কারণে আমরা আজকে বাংলা ভাষায় কথা বলি। ৬৯-এর গণ–অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র–শিক্ষকেরাই রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রেখে বঙ্গবন্ধুকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছিলেন। সেই ছাত্রসমাজ আজকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলছে, তাঁরা ক্লাসে যেতে চান, পড়তে চান। কী এমন অপরাধ হয়েছে, এ কথা বলা যাবে না। হামলা চালাতে হবে?

নগরের বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, শিক্ষার্থীরা আজকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। পুলিশ সতর্ক ছিল।

  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে