রাজশাহীতে নেসকোর ৯ কর্মকর্তার বড় অনিয়ম, তদন্তে দুদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২১; সময়: ১২:০০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো) রাজশাহীর এমডি জাকিউল ইসলামসহ বেশ কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।  এদের মধ্যে রয়েছেন সাতজন কর্মকর্তা ও দুইজন উচ্চমান সহকারি।

তাদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করে বিল উত্তোলন, বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত এবং ঘুষ, দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট ও কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এরই প্রেক্ষিতে দুদক রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আল-আমিন, উপসহকারী পরিচালক সদীপ কুমার চৌধুরী, সহকারী পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত টিম বুধবার নেসকো বিদ্যুৎ ভবন রাজশাহীতে একটি অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় দুদক টিম নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড রাজশাহী অফিস সরজমিনে পরিদর্শনকালে অফিসের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আজিজ ও অপর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম আহম্মেদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা গত ১৮-১৯ অর্থ বছরে লাইট লাগানোসহ অন্যান্য কাজের টেন্ডার সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্র তৎক্ষণাৎ সরবরাহ করতে বলেন। কিন্তু আব্দুল আজিজ তা পারেননি। ফলে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব কাগজপত্র ও রেকর্ড সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়।

এর মধ্যে রয়েছে, গত ১৮-১৯ অর্থবছরে লাইট লাগানো টেন্ডার সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি; অফিসের ডিজিটাল হাজিরার রেকর্ড; এমডির গত ১৪ মাসের টিএ/ডিএ সংক্রান্ত বিলের সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি, ঢাকা লিয়াজো অফিস ও রেস্ট হাউজের ভাড়াসহ গত এক বছরের তথ্যাদি।

এছাড়াও ২০২০ সালের ১ম ও ২য় শ্রেণীর পদে নিয়োগ সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি, নেসকো রাজশাহীর মোট গ্রাহক সংখ্যা ও বকেয়া বিলের গত এক বছরের তথ্যাদি, ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রকল্প সমূহের তালিকা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সকল রেকর্ড-পত্রের ফটোকপি, এছাড়াও অভিযোগে বর্ণিত কর্মকর্তাদের ২০১৯-২০ অর্থ বছরে টিএ/ডিএ বিলের হিসাব সংক্রান্ত তথ্যাদি।

এছাড়াও দুদক টিম নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আজিজ, নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম আহম্মেদ, সৈয়দ আবু তাহের (ডিসিএস), সুব্রত কুমার দাস (নির্বাহী পরিচালক), মো: শরিফুল আওলাদ (নির্বাহী পরিচালক), মো: আবু মোতালেব (ম্যানেজার), মো: দেলোয়ার হোসেন (ডিজিএম), মো: নজরুল ইসলাম (উচ্চমান হিসাব সহকারী) ও মো: শহীদুল ইসলাম (উচ্চমান হিসাব সহকারী) এবং তাদের স্ত্রীদের সর্বশেষ আয়কর নথির ফটোকপি দুদক, রাজশাহী কার্যালয়ে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহের নির্দেশনা প্রদান করেন।

অপরদিকে, দুদক দলটি পরবর্তীতে অভিযোগে উল্লিখিত গাড়ির তথ্যের জন্য বিআরটিএ রাজশাহী অফিস হতে এবং বাড়ি ও ফ্ল্যাট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য আরডিএ ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তারা তৎক্ষণাৎ তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি।

তবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এক্ষেত্রে উক্ত তথ্যসমূহ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পর্যালোচনায়পূর্বক বিস্তারিত প্রতিবেদন আকারে পরবর্তিতে কমিশনে জমা দিবে উক্ত টিম।

  • 1.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে