বাঘায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ গৃহবধূর

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২১; সময়: ৪:৫২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে তালাক নামায় স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন গৃহবধু আকলিমা খাতুন (২৩)। এনিয়ে কাজিসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই গৃহবধূ।

সে উপজেলার বাউসা মাঝপাড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী। তার পিতা মৃত: জমির উদ্দিন, একই উপজেলার কলিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। সোমবার (৩০ আগস্ট) উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেন গৃহবধু আকলিমা ।

বাঘা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলার বাউসা মাঝপাড়া গ্রামের মৃত: নাসির উদ্দিনের ছেলে হাফিজুর রহমান (৪০) এর সঙ্গে এক বছর পুর্বে বিবাহ হয় আকলিমার। বিয়ের পরে জানতে পারেন, তার স্বামী মাদকাসক্ত। কিভাবে স্বামী হাফিজুর কে মাদকমুক্ত করা যায়, তা নিয়ে স্বামীর বড়ভাই (ভাসুর) জাহেদুল ইসলামের সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে আলাপ আলোচনা করেছেন।

গত সোমবার (৩০ আগষ্ট) সকাল সাড়ে দশটায় হাফিজুর রহমান এর বড়ভাই জাহেদুল ইসলাম জাহেদ গৃহবধু আকলিমাকে বলেন, তোমার স্বামীকে ভালো করতে হলে ইউপি কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। তার কথা মতো জাহেদুল ইসলামের সাথে বাউসা ইউপি পরিষদ কার্যালয়ে যায় আকলিমা।

সেখানে যাওয়ার পর, পরিষদের অপর একটি কক্ষে তাকে নিয়ে জাহেদুল ইসলামসহ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, হরিনা গ্রামের মকছেদ আলীর ছেলে হাকিম আলী ও কাজী (নিকাহ রেজিষ্ট্রার) লায়েব উদ্দিন তালাক নামায় স্বাক্ষর দিতে বলে। সে সময় স্বাক্ষর না দিয়ে বিষয়টি তার সহোদর ভাই জহুরুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানানোর চেষ্টা করে আকলিমা। ওই সময় মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।

এ ঘটনায়, পরে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন গৃহবধূ আকলিমা। তবে তার দায়েরকৃত অভিযোগে স্বামী হাফিজুর রহমানের নাম নেই।

কাজী (নিকাহ রেজিষ্ট্রার) লায়েব উদ্দীন জানান, আমাকে পরে ডেকে নেয়া হয়েছে। কি সমাঝোতা হয়েছে, তা জানিনা। তবে দেনা পাওনা বুঝে পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পেয়েছি বলে জানিয়েছে গৃহবধু আকলিমা।

গৃহবধুর স্বামী হাফিজুর রহমান বলেন, আমি মদ গাঁজা কিছুই সেবন করিনা। আমরা উভয়েই যৌথ তালাকে স্বাক্ষর করেছি। এরপরেও যদি নিজের ভূল বুঝে ফিরে আসে আমি তাকে গ্রহন করবো। বছর খানেক আগে ২ লক্ষ টাকা মহরানায় তাদের বিয়ে হয়েছিল জানিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, তাদের কোন সন্তানাদি নাই।

হাফিজুর রহমানের বড়ভাই, ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম বলেন, তারা একে অপরকে যৌথ তালাক দিয়েছে। তবে বিষয়টা নিয়ে আমরা দুই একদিন পর বসে সমাধান করব।

তালাকনামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার দাবি করে আকলিমার ভাই জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি এর সুবিচার দাবি করছি।

চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিক জানান, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে আমি পরিষদে ছিলাম না।

প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, যাদের বিষয় তারাই সমাঝোতা করেছে। সেই ভালো বলতে পারবে।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি )সাজ্জাদ হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে একজন অফিসার তদন্তে গিয়েছিল। তারা সমাধানের কথা বলেছে। যদি না হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • 48
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে