বদলে যাচ্ছে রাজশাহীর মুনসুর আলী পার্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২১; সময়: ৩:০৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : বদলে যাচ্ছে রাজশাহীর শহিদ কাপ্টেন মুনসুর আলী পার্ক। যেটি বর্তমানে ভদ্রা পার্ক হিসেবে পরিচিত। ১৯৮২ সালে নির্মিত হওয়া পার্কটিতে কোনো ধরনের সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ হয়নি। ফলে ৪৩ বছর ধরে একই অবস্থায় রয়েছে এটি। তবে এই পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ৪৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢেলে সাজাবে পুরো পার্কটি। স্থাপন করা হবে অধুনিক রাইড, পারিজাত পুকুরপাড়কে করা হবে গ্যালারি। এছাড়া থাকছে দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল, রিটেইনিং ওয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, অ্যাম্পিথিয়েটার, লেকের উপরে তিনটি স্টিল ব্রিজ তৈরি ও ট্রয় ট্রেন। এই কাজগুলো সম্পন্ন করা হলে রাজশাহী মানুষের বিনোদনের খোরাক মেটাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত পদ্মা আবাসিক এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১২ দশমিক ৫৬ একর জমির উপরে শহিদ কাপ্টেন মুনসুর আলী পার্ক (ভদ্রা পার্ক) প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ পার্কের বড় ধরনের সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি। নগরবাসীর বিনোদন, খেলাধুলা, অনুশীলন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে শহিদ কাপ্টেন মনসুর আলী পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন এবং পার্কের সংলগ্ন পারিজাত লেকের উন্নয়নের নিমিত্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

পার্কে সব বয়সের মানুষের হাঁটার জন্য রাস্তা নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাছাড়া শিশুদের জন্য অযান্ত্রিক খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পার্কটিতে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বৃক্ষরোপন, গার্ডেনিং এবং ল্যান্ডস্কেপিং করা হবে।

বিনোদনের জন্য রাজশাহী নগরীরসহ দূরদুরান্ত থেকে জনসাধারণ পার্কটিতে আসে। ফলে পার্কটির আশেপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি পায়। এ পার্কেটি কাজ সম্পন্ন হলে রাজশাহী নগরীর জনসাধারণের স্বাস্থ্য, পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তাছাড়া নগরীর জনসাধারণের মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্পের বিবরণ

প্রকল্পটি ১২ দশমিক ৫৬ একর জমির উপরে নির্মিত হবে। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে ৩৬, ৫২০ দশমিক ৩১ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন। ৪৫০ মিটার বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৪৩০০.০০ মিটার আভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ করা হবে। ১০২৭৫ দশমিক ৩০ বর্গমিটার ফুটপাথসহ পার্কিং এলাকা বহিপ্লাজা ছাড়াও ১৪২০ মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে। ৯৯০৬ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে লেকের উপরে তিনটি স্টিল ব্রিজ তৈরি করা হবে। পার্কে ট্রয় ট্রেন চলাচলের জন্য ৩৪২ মিটার পার্ক ট্রেন লাইন স্থাপন করা হবে। শিশুদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন রাইড স্থাপন করা হবে। নগরীর সবুজায়ন এলাকা বৃদ্ধির জন্য গার্ডেনিং এবং ল্যান্ডস্কেপিং করা হবে। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৪৭৯৯ দশমিক ৮৬ লাখ টাকা। মেয়াদকাল জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত।

কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের বিবরণ

ভূমি উন্নয়ন, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ এবং প্রবেশ গেট নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, ফুটপাতসহ পার্কিং এলাকা এবং বহির্প্লাজা নির্মাণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ। এছাড়া অ্যাম্পিথিয়েটার নির্মাণ, শিশুদের খেলার সেড, পার্কে ৭০টি বেঞ্চ নির্মাণ করা হবে।

জলধারার উপরে তিনটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণ, কাঠের প্লাটফমসহ বোর্ডের কাঠামো নির্মাণ, ওয়াটার বোট থাকবে। একটি পার্ক ট্রেন ও ট্রেনের লাইন নির্মাণ, পাবলিক টয়লেট, ক্যাফেটেরিয়া এবং ব্যবস্থাপনা অফিস, ম্যানুয়াল আউটডোর খোলার যন্ত্রপাতি এবং ডাস্টবিন স্থাপন করা হবে। ড্রেন নেটওয়ার্ক নির্মাণ ছাড়াও স্থাপন করা হবে দুইটি জেনারেটর। শুধু তাই নয়, পার্কজুড়ে থাকবে বনায়ন।

আরডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল তারিক জানান, পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করতে আমরা কাজ করছি। আধুনিক জিনিসপত্র স্থাপন করা হবে। লেক, পার্ক ও বিনোদন সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে রাজশাহী নগরবাসীর নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি। এছাড়া জনসাধারণের বিনোদন সুবিধা সৃষ্টি হবে।

  • 265
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে