বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার সঞ্চালন পাইপ কেজিদরে বিক্রি

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২১; সময়: ১১:১৮ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : লেবার সরদারকে ভাসাতে বিটিসিএল’এর অপটিক্যাল ফাইবার সঞ্চালন পাইপ ভাঙড়ি দোকানে বিক্রি করে দিলো ঠিকাদারের লোকজন। শনিবার দিবাগত রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কাটাখালীর দেওয়ানপাড়ায় ভাঙড়ির দোকনে।

এছাড়াও সেই রাতে লেবার সরদারের হেফাজতে থাকা অন্যসব মালামাল সরিয়ে ফেলতে এক ট্রাক থেকে অন্য ট্রাকে তোলা হয়। এসময় ভূক্তভোগি লেবার সরদার কাজীরুল ইসলাম কাজল পরিস্থিতি টের পেয়ে ৯৯৯ এ ফোন দেন। কাটাখালী ফাঁড়ি পুলিশ এসে মালামাল জব্দ করে। এব্যাপারে লেবার সরকার কাজল পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, পঞ্চগড় সদরের শিংনাথপাড়ার হাজীরুদ্দিনের ছেলে কাজল ব্রাদার্স কনসট্রাকশন লিমিটেডে লেবার সরদারের কাজ করেন। তিনি কয়েকদিন আগে বাড়ি যান। কোম্পানী মালামাল দেখভালের জন্য অন্য এক লেবার রেখে যান। শনিবার দিবাগত রাতে পাহারারত লেবারকে চা খাওয়ানোর বাহানা করে কাটাখালী বাজারে নিয়ে যায় ব্রাদার্স কনসট্রাকশন লিমিটেডের লোকজন।

এই ফাকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরো লোকজন কাজলের হেফাজতে থাকা বিটিসিএল’এর অপটিক্যাল ফাইবার সঞ্চালন পাইপ অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। এছাড়াও কাজলের হেফাজতে থাকা বিটিসিএল’এর অপটিক্যাল ফাইবার সঞ্চালন পাইপসহ অন্যসব মালামাল সরিয়ে ফেলতে কোম্পানীর অন্য ট্রাকে তুলতে থাকে। এ সময় কাকতালিয় ভাবে লেবার সরদার কাজল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

বিষয়টি অনুধাবন করে তিনি ৯৯৯এ ফোন দেন। পরে ফাঁড়ি পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মালামাল জব্দ করেন। রোববার বিকালে কাজল জানতে পারে অপটিক্যাল ফাইবার সঞ্চালন পাইপ দেওয়ানপাড়ার আশকান আলীর ভাঙড়ির দোকানে বিক্রি করা হয়েছে।

ভাঙড়ি ব্যবসায়ী আশকান আলী জানান, তিনি প্রতিকেজি পাইপ ৩০ টাকা দরে প্রায় ৭৫ কেজি কিনেছেন। বিটিসিএল’র এরকম এক কয়েল পাইপের দাম প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। একটি সূত্র জানায় পাইপ বিক্রির সাথে জড়িত ছিলেন কোম্পানীর স্টাফ ইউসুফ আলী, লোরির ড্রাইভার শাকিল হোসেন ও পিকআপ ড্রাইভার মো. আলী।

লেবার সরদার কাজল জানান, তার অনুপস্থিতিতে কোম্পানীর রাজশাহী জেলা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান তার ঘরের তালা ভেঙ্গে প্রযোজনীয় কাগজপত্র তসনছ করে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান ঘরের তালা ভাঙ্গার কথা স্বীকার করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয় অস্বীকার করেন।

কোম্পানীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আ. করিম বলেন, বিটিসিএল’র পাইপ ঠিক আছে। কিন্তু কোম্পানীর মাধ্যমে যেহেতু কাজ হচ্ছে তাই কোম্পানীর কাছে থেকে পুরোপুরি হিসাব তারা নিবেন। কোম্পানীর কোন মালামাল বিক্রি বা বেহাত হলে সংশ্লিষ্টরা সেটার ক্ষতিপূরণ দিবে।

এদিকে, লেবার সরদার কাজল জানান, এই প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পাওনা আছেন। কোম্পানী টাকা না দেওয়ায় প্রায় পাঁচ মাস থেকে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পাশাপাশি অন্য লেবারদের পারিশ্রমিক না দিতে পারায় তিনি প্রতারকে পরিনত হচ্ছেন। অনেক সময়ে পাওনাদাররা তার সাথে মারমুখি আচরণ করছেন।

তাছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজলের হেফাজতে থাকা বিটিসিএল’এর অপটিক্যাল ফাইবার সঞ্চালন পাইপ তাকে ফাঁসানোর জন্য ভাংড়ির দোকানে কেটে বিক্রি করে। সার্বিক বিষয় কাজল রোববার বিকেলে কাটাখালি থানা ও কাটাখালি ফাঁড়িকে অবহিত করেছেন।

  • 173
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে