মোহনপুরের পান চাষীদের দুর্দশা

প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২১; সময়: ৬:১৬ pm |
নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নির্দেশে রাজশাহীর মোহনপুরে চলছে কঠোর লকডাউন। বন্ধ রয়েছে গণপিরবহন। ফলে পাইকার না আসতে পারায় পান বিক্রয় করা নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েছেন চাষিরা। ক্রেতা না থাকায় কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।
জানা যায়, রাজশাহীর মোহনপুর পান চাষের জন্য আগে থেকে বিখ্যাত। পান চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে পান বরজ। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মোহনপুর উপজেলায় ১ হাজার ১ শত ৮০ হেক্টর জমিতে পান বরজ রয়েছে। পান বরজের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪ শত। দেখতে ও স্বাদে ভালো হওয়ায় এই এলাকার পানের চাহিদা বেশি। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে এখানকার পান। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বসে পানের হাট। এসব হাট-বাজারে পান নিয়ে যান চাষিরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররাও আসেন পান কিনতে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে পাইকারী ব্যবসায়ীরা না অাসতে পারায় পান বিক্রির পর উৎপাদনের খরচ নিয়ে দু:চিন্তা করছেন চাষীরা।
সরজমিনে বুধবার দুপুরে মোহনপুরের পানের বড় হাঁট একদিলতলায় গিয়ে দেখা যাই, অতি যত্নে পান সাজিয়ে ভ্যাণ যোগে আবার কেউ মাথায় করে এনে হাঁটে বসছেন বিক্রয়ের আশায়। দূরগামী ক্রেতাদের তেমন দেখা নেই হাঁটের মাঝে। এসুযোগে কম দাম দিয়ে পান কিনছেন ক্রেতারা। তবে তারাও দু:চিন্তা করছেন সরবারাহ নিয়ে। আর চাষীদের বিক্রয়ের টাকা দিয়ে পরিশোধের চিন্তা করছেন কীটনাশকের মূল্য।
পান চাষী সোলেমান, হবিবুর, হোসেন আলীসহ কয়েকজন বলেন, এই এলাকার মানুষের মুল পেশা পান চাষ। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা সংকটের মধ্যে রয়েছি। মৌসুম শেষ হওয়ায় পান বরজে রাখতেও পারছি না, রাখলে পান মোটা হয়ে যাচ্ছে, নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার হাঁট-বাজারে পানের দাম খুব কম। ফলে পান বিক্রিও করতে পারছি না। এতে করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে বরজে যেসব শ্রমিক কাজ করছে, তাদের মজুরিও ঠিকমতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রহিমা খাতুন জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় উপজেলায় পানের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। দাম কম থাকলেও পানের বর্তমান অবস্থা ভালো, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পানের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই সফলতার দোয়ারে পৌঁছে যাবে মোহনপুরের পান চাষীরা।
  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে