এখনও গ্রেপ্তার হয়নি বাগমারায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার আসামী!

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২১; সময়: ৪:৫০ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাগমারা : মামলার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও রাজশাহীর বাগমারায় দশম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রী (১৫) অপহরন ও ধর্ষণ মামলার আসামী সোহেল রানা (২০) কে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বাগমারা থানার পুলিশ।

আসামীকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভুগির পরিবারের সদস্যরা। তারা অভিলম্বে অপহরন ও ধর্ষণ মামলার আসামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন।

বাগমারা থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হামিরকুৎসা গ্রামের জনৈক ব্যক্তির স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সাথে প্রতিবেশী বিষুর ছেলে সোহেল রানার সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। গত ৫ জুলাই গভীর রাতে প্রেমিক সোহেল রানা ওই স্কুল ছাত্রীকে ফুসলিয়ে তার বাড়ি থেকে সোনার গহনা ও নগদ সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে স্কুল ছাত্রীর মা তার ঘরে যেয়ে স্কুল ছাত্রীকে দেখতে না পেয়ে খুঁজাখুজি শুরু করেন।

এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরে জমানো টাকা ও সোনার গহনা দেখতে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। তাদের কান্নাকাটির কারনে প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে ভীড় জমাই। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন প্রতিবেশী সোহেল রানা ওই স্কুল ছাত্রীকে দিয়ে টাকা ও সোনার গহনা বাড়ি থেকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

পালিয়ে থাকার এক পর্যায়ে প্রেমিক সোহেল রানা স্কুল ছাত্রীর কাছে থাকা টাকা ও সোনার গহনা নিয়ে তাকে নানা ভাবে নির্যাতন শুরু করেন। স্কুল ছাত্রী প্রেমিক সোহের রানার এমন আচরন দেখে তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্রী গোপনে বিষয়টি মুঠোফোনের মাধ্যমে তার পরিবারকে অবহিত করেন।

খবর পেয়ে ২১ জুলাই সকালে পরিবারের সদস্যরা নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার দ্বীপচাঁদপুর গ্রামে যান এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় অপহিত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।

স্কুল ছাত্রী অপহরন ও ধর্ষনের ঘটনাটি তার মাকে জানালে ওই দিন সন্ধ্যায় তার মা রেখা বেগম বাদী হয়ে প্রেমিক সোহেল রানার নামে বাগমারা থানায় অপহরন ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও পুলিশ মামলার আসামী প্রেমিক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পরিবারের অভিযোগ, মামলা লেখার সময় তারা বার বার অপহরনসহ টাকা ও গহনার কথা বলা হলেও পুলিশ তাদের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেনি।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাক আহম্মেদ। তিনি বলেন, বাদীনির কম্পিউটারে টাইপ করা মূল অভিযোগ পত্রই এজাহার হেসেবে গন্য করা হয়েছে। তাদের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও আসামীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে