সুপেয় পানি সরবরাহ করবে রাজশাহী ওয়াসা

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২১; সময়: ৮:২৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতিবছরই বাড়ছে গ্রাহক। ভূ-গর্ভস্থ পানির উপরে নির্ভরশীল ওয়াসা। গ্রাহকদের নিরাপদ-সুপেয় পানি সরবরাহ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়াসার। তার উপরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে পানিতে আয়রনসহ কিছু ক্ষতিকর পদার্থ। একদিকে পানি বিশুদ্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে, ভূ-গর্ভস্থ পানির ক্রময়নে তলানীতে নামছে। এমন উভয় সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে ভূ-উপরস্থ পানি শোধনের পথে হাঁটছে ওয়াসা। সেই লক্ষ্যে পেয়েছে চার হাজার ১৫০ কোটি টাকার ‘রাজশাহী ওয়াসা ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার’ শীর্ষক প্রকল্প।

এ প্রকল্পের আওতায় পদ্মার পানি বিশুদ্ধ করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে নগরী ছাড়াও জেলার গোদাগাড়ী, কাটাখালি এবং নওহাটা পৌরসভায়। ফলে আয়রন ও কেমিক্যালমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে ওয়াসার লাখ লাখ গ্রাহক।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাকীর হোসেন জানান, ‘গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর এই প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়। পরে একনেকেও প্রকল্পটি পাস হয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে রাজশাহীর পানির সমস্যা আর থাকবে না। পাশাপাশি ভূ-উপরস্থ পানি শোধন করে পানযোগ্য করে তোলার কারণে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপরেও চাপ কমবে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনভূক্ত এলাকার জন্য ২০১০ সালের ১ আগস্ট ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছরের ১০ মার্চ থেকে রাজশাহী ওয়াসার কার্যক্রম চালু করে। তখন নগরীর ৩০ ওয়ার্ডের ১০৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৫৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করেছিল ওয়াসা।

বর্তমানে ওয়াসা জনসংখ্যা ভিত্তিক পানির প্রাপ্যতা (কাভারেজ) ৫২ শতাংশ থেকে ৮৪ শতাংশে উন্নীত করেছে। পানির কাভারেজ বৃদ্ধিতে পানি উৎপাদক নলকূপের সংখ্যা ৫৬টি থেকে ১১০টি করা হয়েছে। সঙ্গে পানির পাইপ লাইন ৫৫০ কিলোমিটার থেকে ৭১২ কিলোমিটারে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক ১৩ দশমিক ৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে দৈনিক ৯ দশমিক ৯ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে। উৎপাদিত পানির ৯০ শতাংশ ভূ-গর্ভস্থ পানি।

২০২১ সালের মার্চে সার্বিক বিবেচনায় রাজশাহী ওয়াসা চীনের Hunan Construction Engineering Group Co. Ltd. এর সাথে ‘রাজশাহী মহানগরীতে ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ’ শীর্ষক ৪ বছর মেয়াদি একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রকল্প বাবদ চীন সরকারের থেকে প্রাপ্ত ঋণ রাজশাহী ওয়াসাকে পানি অভিকর বাবদ প্রাপ্ত আয় থেকেই পরিশোধ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ১০০ শতাংশ ভূ-উপরিস্থিত পানি (উৎস. পদ্মা নদী) ব্যবহার করে নগরবাসী ও পার্শ্ববর্তী পৌরসভাগুলির জন্য আয়রণ ও ম্যাঙ্গানিজমুক্ত নিরাপদ ও সুপেয় পানির কাভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এছাড়া রাজশাহী ওয়াসা সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের জন্য ‘রাজশাহী ওয়াসা ভবন নির্মাণ’ র্শীষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। রাজশাহী ওয়াসার পানি অভিকর সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন, ঢাকা ওয়াসাতে যা প্রায় ৭-১০ গুণ বেশি যা থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পানি উৎপাদন বাবদ বাৎসরিক বিদ্যুৎ ব্যয় মিটানোও সম্ভব হয় না। ফলে, নগরবাসীর জন্য নিরাপদ, বিশুদ্ধ ও টেকসই পানি সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে পানি অভিকর বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

নগরবাসীকে সুপেয় ভূ-উপরিস্থ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ‘রাজশাহী ওয়াসা’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ঢাকা ওয়াসা, খুলনা ওয়াসা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির অভিকরের তুলনায় রাজশাহী ওয়াসার পানি অভিকর অনেক কম। রাজশাহী ওয়াসার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্যান্য ওয়াসার পানি অভিকরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজশাহী ওয়াসার পানি অভিকর বৃদ্ধি করা সমীচীন।

সূত্রটি আরো জানায়, ২০১৫ সালে এ প্রকল্পের খসড়া সম্পন্ন করা হয়। পরের বছর চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে এ নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে এ পানি শোধনাগার নির্মাণ করবে রাজশাহী ওয়াসা।

সেটি স্থাপন করা হবে রাজশাহী নগরী থেকে প্রায় ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ী উপজেলার সারেংপুরে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে নগরী ও এর আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হবে।

ওয়াসার এমডি জাকীর হোসেন আরো জানান, প্রকল্পের টাকা দিয়ে শোধনাগার স্থাপন ছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণ এবং নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। পুরনো পাইপলাইনগুলোও নতুন করে স্থাপন করা হবে। প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হতে সময় লাগবে প্রায় চার বছর। এরপর নগরীতে আর পানির কোনো সংকট থাকবে না।

  • 285
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে