কোরবানির পশু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রাজশাহী ছাড়লো ‘ক্যাটেল ট্রেন’

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২১; সময়: ৯:৫২ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী থেকে ১৪৫টি কোরবানির পশু নিয়ে ঢাকায় গেলো ক্যাটেল স্পেশাল ট্রেন। শনিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটা ১০ মিনিটে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে এই ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এর আগে রাজশাহী স্টেশনে এর উদ্বোধন করেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। আর বিকেল সাড়ে চারটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ৮০টি কোরবানির গরু নিয়ে রওনা হয় ট্রেনিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২০ টি গরু ও সাতটি খাসি তোলা হয় ট্রেনটির ওয়াগেনে। এছাড়া বড়ল ব্রিজ থেকে উঠছে আরও ২০টি গরু। কোরবানির পশু পরিবহনে প্রতিটি ওয়াগেনের স্টেশন অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাই থেকে ঢাকার তেজগাঁও প্রতি ওয়াগেনের ভাড়া ১১ হাজার ৮৩০ টাকা। একই ভাড়া কাঁকনহাট ও রাজশাহী স্টেশন থেকে তেজগাঁও পর্যন্ত। এছাড়া চাটমোহর থেকে তেজগাঁও ৯ হাজার ২৩০ টাকা ও উল্লাপাড়া থেকে ৮ হাজার ৫৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে রেলওয়ে।

ট্রাকের তুলনায় ওয়াগেনে ভাড়া কম বলছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন- ট্রাকে কোরবানির পশু পরিবহনে ঝুঁকি থাকে। সড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে পশু অসুস্থ হয়ে যায়। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্কা থেকে যায়। সেই দিক থেকে এই ধনের ঝুঁকি নেই ট্রেনে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে চারটি কোরবানির গরু ঢাকায় স্বজনদের কাছে পাঠাচ্ছেন এমদাদুল হক বাবু। তিনি জানান, ‘তেজগাঁও স্টেশনে নামবে গরুগুলো। প্রতিটি গরুর ভাড়া হিসেবে তাকে দিতে হয়েছে ৫৯৬ টাকা। ট্রাকের তুলনায় সামন্য কম ভাড়া। তবে ট্রেনে গরু অসুস্থ্য ও সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্কা নেই চললেই চলে।’
অন্যদিকে, প্রথম যাত্রায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলষ্টেশন থেকে ৪টি ওয়াগনে গরু উঠানো হয়।

এসময় রেল স্টেশনে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন শিমুল, জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। প্রতিটি ওয়াগনে ২০টি করে মোট ৮০টি গরু ও ৪টি ছাগল নিয়ে স্পেশাল ট্রেনটি ঢাকার উদ্যোশ্যে যাত্রা করে। শ্রীরামপুরের গরুর খামারি শামিম মুন্সি জানান, ট্রেনে দু’টি ওয়াগনে ৪০টি করে গরু নেয়া হয়েছে। প্রতিটি গরুর জন্য ভাড়া নেয়া হয়েছে ৫৯১ টাকা। এতে করে টাকা সাশ্রয়ী হয়েছে। এ মুহুর্তে মহাসড়কে যে পরিমাণ যানজট তাতে ট্রাকে বহন করে যথাসময়ে ঢাকা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সহজ বাহন হিসেবে ট্রেনকে বেছে নেয়া হয়েছে।

সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ায় খামারিরা লাভবান হয়েছে। টিকরামপুরের আরেক ব্যবসায়ী সামসুল ইসলাম জানান, তাদের দুজনের ২০টি গরু ঢাকা নেওয়া হচ্ছে। ট্রাকে পাঠালে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হতো, ট্রেনে সেই ঝামেলা নেই। তার পরে খরচও কম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ের সহকারি স্টেশন মাস্টার ওবাইদুল্লাহ জানান, ক্যাটেল ট্রেনে গরু পাঠানোর জন্য ব্যবসায়ীদের আরো আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন খামারি ও ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছিল। তারা এতে সাড়া দেয়ায় ৪জন খামারি ও ব্যবসায়ীর ৮০টি গরু ও ৪টি ছাগল এ ট্রেনে ঢাকায় গেছে। প্রতিটি গরু বহনে ৫৯১ টাকা এবং ছাগল বহনে ২৪৬ টাকা করে নেয়া হয়েছে। ৮০টি গরুতে টার্মিনাল চার্জ ও অ্যাডিশনাল চার্জসহ সবমিলিয়ে ৪০ হাজার ২৪৬ টাকা আয় হয়েছে।

পশ্চিম রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ জানান, করোনাকালিন সময়ে প্রান্তিক খামারিদের জন্য সল্প খরচে ঢাকায় কোরবানির পশু পরিবহন সরকারের ভালো উদ্যোগ। এই লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছিল। আগামিতে আরও বড় পরিসরে কোরবানির পশু পরিবহনের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। তিনি আরও বলেন- ব্যবসায়ীরা ফ্যান ও গরুর পায়ের নিতে বালু দেওয়া দাবি জানান। সেগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে।

  • 158
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে