রাজশাহীতে অনলাইনে পশুর হাট, বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৫০০ কোটি টাকা

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২১; সময়: ১০:১৭ am |

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত বছর থেকে সারাদেশ জুড়ে চলছে করোনা মহামারি। মহামারিতে সংক্রমণ ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনের তাগিদে জনপ্রিয় হয়েছে অনলাইন মার্কেট প্লেস। অনলাইন পশুর হাটও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতিবছর কোরবানিকে সামনে রেখে পশুর যে বেচাকেনা হয়; তার প্রায় ১০ শতাংশ দখল করেছে অনলাইন মার্কেট। পশু কেনাবেচায় স্বাস্থ্যকর এ মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগে এরইমধ্যে প্রায় ৩৮ হাজার পশু কেনাবেচা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের র্টাগেট রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পশু বিক্রি। যেখানে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হবে বলে প্রত্যাশা এ দপ্তরের।

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগে ১৪২ টি পশু কেনাবেচার সরকারি অনলাইন মার্কেট রয়েছে। যারা ওয়েব সাইটের মাধ্যমে এসব মার্কেট পরিচালনা করেন। বেসরকারিভাবে ওয়েব সাইটসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ হাজার ১০৯ টিরও বেশি পশুর মার্কেট রয়েছে। আর এ পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে প্রায় ২০৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার পশু কেনাবেচা হয়েছে।

কোরবানির পশু ডিজিট্যাল হাট, অনলাইন পশুর হাট নওহাটা, মোহনপুর অনলাইন পশুর হাট, অনলাইন কোরবানির পশুহাট জয়পুরহাট, পাবনা ই-বাজার, এমআরএফ গ্রুপ পাবনাসহ বিভিন্ন নামে এসব মার্কেট খোলা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত অনলাইন মার্কেটে রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৫০ হাজারসহ মোট ৪ লাখ ৩৮ হাজার গবাদিপশুর ছবিসহ বিবরণ আপলোড করা হয়েছে বলে জানায় দপ্তর। তবে ইদের আগে পর্যন্ত এ সংখ্যা আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনলাইন মার্কেটে বড় খামারিরা বেশি অংশ নিচ্ছে। গ্রাহকের বিশ^াসযোগ্যতা অর্জনে তারা এগিয়ে থাকছেন। পিছিয়ে থাকছেন ক্ষুদ্র ও পারিবারিক খামারিরা। একারণে এখনো প্রায় ৯০ শতাংশ গরু অনলাইনে মার্কেটে আসতে পারে নি। তবে গত দুইবছরে পশু কেনাবেচায় অনলাইন মার্কেট যে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে তা আশাব্যাঞ্জক। রাজশাহীর খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তা আরাফাত রুবেল। তিনি অনলাইন মার্কেটের মাধ্যমে গত বছর থেকে তার খামারের পশু বিক্রি করছেন। তিনি জানান, অনলাইন মাধ্যমে পশু বিক্রিতে তিনি খুব ভালো সাড়া পেয়েছেন। গত সপ্তাহে তার খামারের কোরবানিযোগ্য ৬টি গরু বিক্রি অনলাইনে বিক্রি করেছেন।

তিনি আরও জানান, অনলাইন মার্কেটে গ্রাহকের বিশ^াস অর্জন করাটাই মূল। এক্ষেত্রে একজন অনলাইন বিক্রেতাকে বেশি কিছু পলিসি নিতে হয়। তার মার্কেট প্লেসকে আপডেট রাখতে হয়। তিনি তার ‘সওদাগর এগ্রো র্ফাম’সহ সরকারি অনলাইন মার্কেটেও পশুর প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করেন। গ্রাহক পছন্দ অনুযায়ী অর্ডার দেয়। রাজশাহী নগরী ও উপজেলায় গত ১ জুন থেকে চালু হয়েছে অনলাইন পশুহাট। রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ইসমাইল হক জানান, রাজশাহীর অনলাইন পশুহাটে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর মাধ্যম হিসেবে অনেকেই এটাতে আসছেন। জেলার প্রায় প্রত্যেকটা উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্বে সরকারি উদ্যেগে একটি করে অনলাইন মার্কেট রয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেউ এক্ষেত্রে কাজে লাগানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, রাজশাহী জেলার অনলাইন মার্কেটগুলোতে প্রায় ৬৬ হাজার পশুর তথ্য আপলোড করা হয়েছে। বিক্রি হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার। যেটা বাড়াতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক উত্তমকুমার দাস জানান, সারাদেশে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পশু কেনাবেচা হবে। এর প্রায় ১০ শতাংশ অনলাইন মার্কেটে বেচাচিক্রি হচ্ছে। যেটা আগামীতে আরো বাড়বে। করোনা মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় এহাটের উদ্ভব। শুরুতে এটাকে অনেকেই অসম্ভব কাজ বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু এখন অনলাইন হাট বেশ সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে বিভাগে সরকারি-বেসরকারি প্রায় দেড় হাজার মতো অনলাইন পশুহাট রয়েছে। বিভাগের অধিকাংশ জেলা-উপজেলায় এখন অনলাইন পশুহাট রয়েছে।

তিনি আরো জানান, অনলাইন পশুহাটকে ঘিরে অনেকের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে অনলাইন হাটে পশু কেনাবেচায় কোনো প্রতারণা কিংবা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায় নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে