বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনে রাজশাহীর বাজারে উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২১; সময়: ১০:০৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক : কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার রাজশাহী নগরে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের কেনাকাটা করতেই মূলত লোকজন দূরদূরান্ত থেকে এসে ভিড় জমিয়েছেন। মানুষের চাপ বেশি থাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে কয়েকবার। নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্ট থেকে মণিচত্বর এলাকা পর্যন্ত এই যানজট বেশি দেখা গেছে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মানুষের চলাচল ও করোনা বিষয়ে উদাসীনতা দেখা গেছে।

ঈদের পোশাক বিক্রেতারা বলছেন, প্রথম দিনে নগরে মানুষের ভিড় থাকলেও লোকজন কেনাকাটা কম করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, কাল থেকে তাঁরা আরও বেশি ক্রেতা পাবেন।

সারা দেশে সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ ১ জুলাই থেকে শুরু হলেও সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহীতে গত ১১ জুন থেকে চলেছে বিধিনিষেধ। এই সময়ের মধ্যে রাজশাহীতে সব ধরনের বিপণিবিতান ও গণপরিবহন বন্ধ ছিল। দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবিতে ৮ জুলাই রাজশাহী নগরে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করার খবরে কয়েক দিন ধরেই রাজশাহী নগরে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। আজ তা যথারীতি গাদাগাদি ভিড়ে পরিণত হয়।

সকাল ১০টার আগে থেকেই লোকজন অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে রাজশাহী নগরে ঢোকেন। আজকে কোথাও কোনো চেকপোস্ট ছিল না। পুলিশের বাধা না থাকায় অটোরিকশাগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে রাজশাহী নগরে আসে। আবার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই নিয়ে ফিরেছে। অনেক মানুষের মুখেই এদিন মাস্ক দেখা যায়নি।

আবার যাঁদের ছিল, তাঁদের অনেকেরই মাস্ক থুতনিতে ছিল। ঈদের কেনাকাটা করতে এসে অনেককেই দল বেঁধে ফুচকা খেতে দেখা গেছে। শপিং মলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার থাকলেও সেগুলোর ব্যবহারে অনেকে ছিলেন উদাসীন।

এদিকে, ঈদ সামনে রেখে অল্প দিনের জন্য দোকানপাট খোলার সরকারি সিদ্ধান্তে অনেক বিক্রেতা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁরা বলছেন, দেড় বছর ধরে মানুষের আয়-রোজগার নেই। একটি বড় শ্রেণির মানুষের হাতে কাঁচা টাকা নেই। তাঁদের চিন্তা এখন ঘরের খাবার নিয়ে। তবে হঠাৎ করে দোকান খুলে বসলেই ক্রেতা পাওয়া কঠিন।

নগরের সবচেয়ে বড় বিপণিবিতান আরডিএ মার্কেটের দোকান আবির্ভাব শাড়িজের বিক্রেতা খোকন হাওলাদার বলেন, দেড় বছর আগে দোকানে এক দিনে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বিক্রি করতেন। কিন্তু আজ এত দিন পর দোকান খুলে বেলা দুইটা পর্যন্ত তিনি মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তবে তাঁর প্রত্যাশা, ধীরে ধীরে লোকজন আসবেন।

একই মার্কেটের বিক্রেতা মফিজুল হক বলেন, সরকার তাঁদের প্রতি সদয় হয়ে দোকানপাট খুলে দিয়েছে। তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন স্বাস্থ্যবিধি মানতে। প্রথম দিনে শিশুদের পোশাক ভালো বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।

দুই মেয়ের জন্য পোশাক কিনতে রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে এসেছেন মো. জুয়েল। তিনি বলেন, সামনে ঈদ, এ জন্য দুই মেয়ে, স্ত্রী ও তাঁর নিজের জন্য পোশাক কিনতে এসেছেন। সময়টা কঠিন হলেও সেই বাস্তবতা মেনেই তাঁকে আসতে হয়েছে।

রাজশাহী সাহেববাজার বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি অশোক কুমার সাহা বলেন, তাঁরা সকাল থেকেই শপিং মলগুলোতে মাইকিং করছেন। কাউকে মাস্ক পরা ছাড়া মার্কেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দোকানে দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও রাখা হয়েছে। তারপরও মানুষ মানতে চায় না। তবে তাঁরা চেষ্টা করছেন সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে।

অশোক কুমার সাহা বলেন, গত দেড় বছর ধরে তাঁদের ক্ষতি হয়ে আসছে। তাঁদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দোকান খুলে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা খুশি হয়েছেন। তবে ক্ষতি যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। এই অল্প দিনে তাঁরা আর কতটাই-বা বিক্রি করতে পারবেন। এখন সরকারি প্রণোদনা না দিলে তাঁরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে