গ্রামের ঈদ বাজারে মানুষের ঢল

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২১; সময়: ৯:১৪ pm |

আসাদুজ্জামান মিঠু : লকডাউনে টানা ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে খুলেছে সকল শপিংমল ও মার্কেট। লকডাউন শিথিলের প্রথম দিন্ইে ঈদ মার্কেটে কেনাকাটাই মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মত।

প্রথম দিনে শহরের শপিংমল গুলোতে তুলনামুলুক একটু কম জনসমাগম থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে গ্রামের মার্কেটগুলোতে কেনাকাটাই ছিল মানুষে ঢল। তবে, অনেক শপিংমল ও মার্কেটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারে মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির মানার প্রবণাতা কম দেখা গেছে।

মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভীর দেখে মনে হচ্ছে ঈদের আর বেশি বাকি নেই। ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোষাক-আসাক কেনা-বেচায় শহরের মার্কেট গুলোর পাশা-পাশি উপজেলার গ্রামের মার্কেট গুলোও ক্রেতাদের প্রদচরণাই মুখরিত হয়ে উঠেছে।

গ্রামে ৯০ ভাগ মানুষ কৃষিতে নির্ভর। চলতি মৌসুমে কৃষকেরা বোরোর বাম্পার ফলন ও বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় ঈদের বাজারে বেশি ঝুঁকেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

রাজশাহীর তানোর,গোদাগাড়ী,পবা,মোহনপুর,বাগমারা,চারঘাট,বাঘা,পুঠিয়া,দুর্গাপুর নওগাঁর নিয়ামতপুর,পোরশা,চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর, নাচোল উপজেলা বিভিন্ন মার্কেট গুলো বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত ক্রেতাদের সরগরম।

এই সব বিক্রেতাদের দাবি,নগরীর অন্যান্য এলাকার মার্কেট গুলোর চেয়ে উপজেলা পর্যায়ে জিনিস পত্রের তুলনা মুলক দাম কম। তবে কেনা কাটায় পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতায় বেশি চোখে পড়ছে।

তারা ঘুরে ঘুরে পরিবারের ছোট বাচ্চাদের জামাকাপুড়,খেলনা,জুতা,কানের দুল,গলার মালা, চুড়ি, টিপ, চুলের ব্যান্ড, মেয়েদের টপস, শাড়ী, লুঙ্গী, শার্ট, ছেলেদের পাঞ্জাবী, টি-শার্টসহ হরেক রকম জিনিস কিনছে। এই সব মার্কেট গুলোতে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন আয় সব ধরনের ক্রেতাদের বিচরণ। পার্থক্য শুধু কেনাকাটার ধরনে।

বৃহস্পতিবার তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মার্কেটে ঈদের কেনাকাটায় জন্য এসেছিলেন সাতপুকুর গ্রামের নুসরাত,মুণ্ডুমালার সাদিয়া,নরীন তারা জানান, করোনা কারণে দীর্ঘদিন ঘর বন্দী। তাই আজ শপিংমল-মার্কেট প্রথম দিনে খোলা পেয়ে সামান্য কেনাকাটাই করতে এসেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার সব কিছুর দাম স্বাবিক রয়েছে। তাই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোষাক কিনা হয়েছে।

নাচোল উপজেলার নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা রবিন জানান,ঈদের কেনাকাটা প্রতি বছর শহরে করেন। তবে এবছর করোনার কারণে নিজ উপজেলার নাচল নিউমার্কেটেই গিয়ে পরিবারের সদস্য দের পোষাক সহ প্রয়োজনী জিনিস পত্র কিনবেন বলে জানান।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মার্কেটের তুহিন ক্লথ ষ্টোরের মালিক তুহিন সরদ্দার জানান,লকডাউনের জন্য দীঘদিন মার্কেট বন্ধ ছিল। আজ প্রথম দিনেই সরকারে নিদের্শ মেনে দোকান খোলে ঈদের নতুন থ্রি-পিচ বিক্রি বেশি হলেও এখন সমান তালে থ্রিপিচ-শাড়ী,লুঙ্গী,থান কাপুড়,বাচ্চাদের রেডিমেট জমকালো পোশাক বিক্রি হয়েছে। প্রথম দিনেই তিনি ৭৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তিনি আরো জানান, চলতি বছর মেয়েদের সবচেয়ে বিক্রি হচ্ছে বেশি লং গাউন্ড থ্রি পিচ। এ থ্রি পিচ বাংলাদেশে ক্রেতাদের নজর কেড়েছে বেশি।

মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট বাজারের কসমেটিকসের পাইকেরি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান,অন্য বছরের তুলনাই এবার ঈদের কেনাকাটার প্রথম দিনেই বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী বিক্রির হিড়িক পড়েছে।

উপজেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা আর ঢাকা মালামাল কেনতে যায়না। তারা,রাজশাহী,নওগাঁ শহরে ও উপজেলা পর্যায়ে কেশরহাটে বড় কসমেটিকস পাইকেরী বাজার থেকেই বিভিন্ন উপজেলার ব্যবসায়ীরা মালামাল কিনে খুরচা বিক্রি করছে।এতে ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা-নেয়ার খরচ কম,লাভ বেশি হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে