মোহনপুরে আখচাষ এখন যেন স্মৃতির ফসল

প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২১; সময়: ৮:১৮ pm |

রায়হানুল হক রিফাত : রাজশাহীর কৃষি অধ্যুষিত উপজেলা হিসেবে পরিচিত মোহনপুর উপজেলা। এখানে প্রধান ফসল হিসেবে ধান, পান, আলুসহ বাহারী ধরণের ফসলের চাষ হয়ে থাকে। কৃষিই এখানকার মানুষের প্রধান পেশা। আদিকাল থেকেই তারা চাষাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় প্রয়োজনের তাকিদে তারা খুঁজে নিয়েছে রকমারি সব ফল ফসল।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার কৃষকদের প্রধান ফসল ছিল ধান এবং পানের চাষ। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক সফলতার জন্য আলু, ভুট্টাসহ আখচাষ শুরু করে। একটা সময় রাজশাহী সুগার মিলে আখের চাহিদা বাড়ার জন্য স্থানীয় কৃষকরা ঝুঁকে পড়ে আখ চাষে। খুচরা বাজারে প্রতিটি ইক্ষু বিক্রি হয় ১০ টাকা থেকে ২০টাকায়। অল্প জমিতে রোজগার হতো অধিক পরিমাণ টাকা।

যুগের হাওয়া বদলে যাওয়ার কারণে পান চাষে বিপ্লব ঘটে। কমতে থাকে আবাদি জমির পরিমাণ। যার কারণে ভিটা জমি সল্পতায় বন্ধ হতে শুরু হয় আখচাষ।

কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলি জানায়, প্রায় ২যুগ আগে মোহনপুরে প্রায় আড়াই হেক্টর জমিতে আখ চাষ হতো। কালের বিবর্তনে আখচাষ যেন স্মৃতির ফসলে পরিণত হয়েছে। এখন প্রতি বছর মাত্র ৪হেক্টর থেকে ৫শ হেক্টর জমিতে আখচাষ হচ্ছে। আখের দাম দিগুণ হলেও সন্তোষ জনক লাভ হচ্ছে বলে এর চাষাবাদ কমে আসছে বলে কৃষকদের ধারণা।

মোহনপুর উপজেলার সাঁকোয়া গ্রামের আখচাষি শরিফুল ইসলাম জানান, আমি ১০ কাঠা জমিতে আখের চাষ করেছি। বাজারে খুচরা বিক্রি করি বলে লাভ হয়। তবে পাইকারি বিক্রি করলে লাভের মুখ দেখা যাবে না। এজন্য কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারিয়েছে।

হরিদাগাছি গ্রামের গাফ্ফার দেওয়ান জানান, তিনি গতি বছর ১বিঘা জমিতে ইক্ষু চাষ করে ভাল না হওয়ার কারণে লোকসান হয়েছে। এজন্য এ বছর আর আখ চাষ করিনি। একটা সময় আমাদের সন্তানেরা আখ কি রকম ফসল তা হয়তো বুঝবে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে