জলাবদ্ধতায় স্বপ্নের বসতি

প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২১; সময়: ৮:৩৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গা চিহ্নিতকরন ও ঘর বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসনীয় উদ্যোগ মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না এমন অঙ্গীকার বাস্তবায়নে চারঘাট উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫টি ঘর এবং আদিবাসি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৫টি মোট ৩০টি ঘর সুবিধাভোগী ভুমিহীন জনগোষ্ঠীদের মাধ্যমে বিতরন করা হয়।

তবে ত্রুটিযুক্ত জায়গা নির্ধারন ফলে অধিকাংশ জায়গায় একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা ও নির্মান ত্রুটির কারনে ঘরের ভিতরে ফাটল ও বৃষ্টির পানি পড়তে দেখা গেছে। জলাবদ্ধতা ভরাট করার জন্য তরিঘরি করে শলুয়ার চামটায় বালি ফেলতে দেখা গেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) নিয়তি রাণী কৈরি বলেন, আমার দ্বায়িত্ব জমি নির্ধারণ করা এবং ঘর তৈরির যাবতীয় কাজ দেখভাল করার দায়িত্ব ইউএনও ও উপজেলা বাস্তবায়ন প্রকল্প। তবে এবিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার চারঘাট ইউনিয়নের বড়বড়িয়া গুচ্ছগ্রাম, শলুয়া ইউনিয়নের চামটা ও নিমপাড়া ইউনিয়নের চককৃষ্ণপুর গ্রামে ত্রুটিযুক্ত জায়গা নির্ধারনের ফলে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যাতায়াতের জন্য রাস্থার ব্যবস্থা না করে নির্মান করা হয়েছে নিমপাড়া ইউনিয়নের চককৃষ্ণপুরের আশ্রায়ণ প্রকল্পের ৫টি ঘর।

এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার আমাকে স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছে তবে বর্ষা এলেই ঘরের চারপাশে পানি জমে যায় এবং রাস্তা না থাকায় অন্যের মালিকানাধীন জমির আইল ব্যবহার করে মূল রাস্তায় উঠতে হয়। প্রায় বিরোধ সুষ্টি হয়, এই কারনে আমরা খুব বিপদে আছি বলে জানান।

কর্তৃপক্ষকে অবগত করে আমরা নিজেরাই ঘরের ফাটল সংস্কার করে বসবাস করছি। একই প্রকল্পের সুবিধাভোগী গঞ্জেরা বেগম বলেন রাস্তা না থাকায় আমার স্বামীর ভ্যান অন্যের বাড়িতে রাখতে হয়।

এব্যাপারে জানতে চাইলে সেখানে বসবাসকারী চম্পা বেগমসহ চারজন বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ ও ঘর ওয়ারলিং করে দেয়ার নাম করে প্রত্যেক এর কাছ থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা আমাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৭ শত টাকা করে নিয়েছেন বলে জানান।

অপরদিকে সরদহ ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর উদ্ভোধন হলেও অধিকাংশই তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগীরা ঘরে ওঠেনি । এই ইউনিয়নে ১০টি ঘর বরাদ্দ হলেও বর্তমানে প্রতিবন্ধীসহ ৩টি পরিবাবর বসবাস করতে দেখা গেছে। বাকি ৭টি পরিবারের ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। অভিযোগ উঠেছে যে মনগড়া তালিকাভুক্তির এই ৭টি পরিবারের অধিকাংশই সচ্ছল।

এদিকে, শলুয়া ইউনিয়নের বরাদ্দ চামটা এলাকায় কুলসুম বেগম দু:খ প্রকাশ করে বলেন, আমি যে ঘরে বসবাস করছি বৃষ্টি হলেই সেই ঘরে পানি পড়ে এবং বাড়ির চারপাশে হাটুজলে পানি জমে থাকে। তাছাড়াও ঘরটির পাশের কবরস্থান বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উপস্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে তিনি জানান।

  • 247
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে